রবিবার, মে ৯, ২০২১

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

পর্ব-১

সিয়াম, রামাদান ও কুরআন

সিয়াম, রামাদান ও কুরআন- পর্ব-১
***************************

* প্রভাত (সুবহে সাদিক) থেকে সূর্যাস্ত (মাগরিব) পর্যন্ত আল্লাহর এবাদত ও সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পানাহার, দাম্পত্য মিলন ইত্যাদি সকল সিয়াম বা রোযা ভঙ্গকারী কর্ম থেকে বিরত থাকা হল সিয়াম বা রোজা | আত্মার পরিশুদ্ধি, আধ্যাত্মিক উন্নতি, মানবিক মমতা বোধের বিকাশ,তাকওয়া ও সততা অর্জনের জন্য সকল যুগের সকল বিশ্বাসী মানুষের অন্যতম প্রধান অবলম্ব হলো সিয়াম |

* রামাদানের সিয়াম ফরয ও ইসলামের রুকন| এছাড়া যথাসম্ভব বেশি অতিরিক্ত বা নফল সিয়াম পালনে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে |

* ফরয ও নফল সিয়ামের ফযীলতে রাসুল(স.) বলেন,আল্লাহ বলেন: ” আদম সন্তানের সকল কর্ম তার জন্য |একমাত্র ব্যতিক্রম হলো সিয়াম,তা শুধু আমারই জন্য এবং আমি তার প্রতিদান দিবো | সিয়াম হলো ঢাল | তোমাদের কেউ যে দিনে সিয়াম পালন করবে সেই দিনে সে অশ্লীল বাজে কথা বলবেনা ও চিল্লাচিল্লি,হৈ চৈ বা ঝগড়াঝাটি করবে না| যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে মারামারি করে তবে সে যেন বলে,আমি সিয়ামরত, আমি সিয়ামরত | মুহাম্মদের জীবন যাঁর হাতে তার শপথ, সিয়াম রত ব্যক্তির মুখের ক্ষুধা-জনিত গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের সুগন্ধির চেয়েও প্রিয় | সিয়াম পালনকারীর জন্য দুইটি আনন্দ রয়েছে যখন সে আনন্দিত হয়: (১) যখন সে ইফতার করে তখন সে তার ইফতারীর জন্য আনন্দিত হয় এবং (২) যখন সে তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাত করবে তখন সে তার সিয়ামের জন্য আনন্দিত হবে |”-বুখারী,আস-সহীহ ২/৬৭৮ |

* তিনি আরো বলেন: ” যুদ্ধে তোমাদের যেমন ঢাল থাকে,তেমনি জাহান্নামের আগুন থেকে ঢাল হলো সিয়াম | আর প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম পালন করা ভালো |”-ইবনু খুযাইমা, আস-সহীহ ৩/১৯৩ |

* প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম ছাড়াও যথাসম্ভব বেশি বেশি নফল সিয়াম পালনে উৎসাহ দিয়েছেন রাসুল (স.) কারণ সিয়াম একটি তুলনাবিহীন ইবাদাত | আবূ উমামা বলেন,” আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে একটি আমল শিখিয়ে দিন |

*তিনি বলেন,” তুমি সিয়াম পালন করবে, সিয়ামের মত আমল আর নেই | ” আবূ উমামা বলেন, আমি তিনবার তাঁকে এইরূপ অনুরোধ করলাম এবং তিনি তিনবারই একই উত্তর দিলেন” | এজন্য আবূ উমামা প্রায় ১২ মাসই সিয়াম পালন করতেন |”-নাসাঈ ৪/১৬৫ |

* নফল সিয়াম পালনের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো আশুরার দিন, আরাফাতের দিন এবং শাওয়াল মাসের ৬ দিন এছাড়া প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার এবং প্রতি আরবি মাসের-১৩,১৪,ও ১৫- তারিখ নফল সিয়াম পালন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এবাদাত |
* আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, মাসে কয়েক দিন সিয়াম পালন করা দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী |
* রমাদান মাসের ফরজ সিয়াম পালন ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ |*

*” রাসূল (স.) বলেলন:” রামাদান মাস যখন আগমন করে তখন জান্নাতের দরজাগুলি খুলে দেওয়া হয়, এবং জাহান্নামের দরজাগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয় , এবং শয়তানদেরকে শৃংখলাবদ্ধ করা হয় |”- বুখারী, আস-সহীহ ২/৬৭২|

*” হাদীস- তোমাদের নিকট রামাদান মাস এসেছে ৷এই মাসটি বরকত ময় | আল্লাহ তোমাদের উপর এই মাসের সিয়াম ফরয করেছেন | এই মাসে আসমানের দরজাগুলি খুলে দেওয়া হয় | এবং এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয় | এই মাসে দুর্বিনীত শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয় ৷ এই মাসে এমন একটি রাত আছে যা এক হাজার রাত অপেক্ষা উত্তম | যে ব্যক্তি সেই রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত সে একেবারেই বঞ্চিত হতভাগা |”-নাসাঈ,আস-সুনান ৪/১২৯ |

* সিয়াম ফরজ করার উদ্দেশ্যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন:

يٰٓـاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَيْکُمُ الصِّيَامُ کَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِکُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَۙ
হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের উপর সিয়াম লিপিবদ্ধ(ফরয) করা হয়েছে, যেরূপভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর তা লিপিবদ্ধ(ফরয) করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো |- সূরা বাকারা:আয়াত-১৮৩ |
* আমরা দেখেছি, আল্লাহ বলেছেন যে, সিয়ামের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন হবে | তাকওয়া অর্থ হলো হৃদয়ের মধ্যে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও শাস্তি থেকে আত্মরক্ষার সার্বক্ষণিক অনুভূতি | যে কোনো কথা, কর্ম বা চিন্তার আগেই মনে হবে, এতে আল্লাহ খুশি না বেজার হবেন | যদি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিষয় হয় তবে কোনো অবস্থাতেই হৃদয় সে কাজ করতে দেবে না |

* কিন্তু পরিপূর্ণ তাকওয়া আমরা সিয়ামের মাধ্যমে অর্জন করতে পারছি না| একজন রোযাদার প্রচন্ড ক্ষুধা বা পিপাসায় কাতর হয়েও কোন অবস্থাতে পানাহার করতে রাজি হন না | নিজের ঘরের মধ্যে, একাকী, নির্জনে সকল মানুষের অজান্তে পিপাসা মেটানোর সুযোগ থাকলেও তিনি তা করেন না| কারণ তিনি জানেন তা করলে দুনিয়ার কেউ না জানলেও আল্লাহ জানবেন ও তিনি অসন্তুষ্ট হবেন | এ হলো তাকওয়ার প্রকাশ | কিন্তু এ ব্যক্তিই রোজা অবস্থায় বা অন্য সময়ে এর চেয়ে অনেক কম পিপাসায় বা প্রলোভনে সুদ-ঘুষ,মিথ্যা,গীবত, ভেজাল,ওযনে ফাঁকি,কর্মে ফাঁকি,অন্যের পাওনা না দেওয়া ও অন্যান্য কঠিনতম পাপের মধ্যে নিমজ্জিত হচ্ছেন | কেন এরূপ হচ্ছে ?

*” মহান আল্লাহ তাকওয়া অর্জনের জন্য আমাদেরকে দুটি বিষয় একত্রে দিয়েছেন: সিয়াম ও কুরআন | কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা সিয়াম নিয়েছি এবং কুরআন বাদ দিয়েছি | এজন্য প্রকৃত ও পরিপূর্ণ তাকওয়া অর্জন করতে পারছি না |
*” আল্লাহ বলেছেনঃ

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِىْٓ اُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَ بَيِّنٰتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِۚ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَـصُمْهُ ؕ وَمَنْ کَانَ مَرِيْضًا اَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَيَّامٍ اُخَرَؕ يُرِيْدُ اللّٰهُ بِکُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيْدُ بِکُمُ الْعُسْرَ وَلِتُکْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُکَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰى مَا هَدٰٮكُمْ وَلَعَلَّکُمْ تَشْكُرُوْنَ
” রামাদান মাস | যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী ৷ সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাসটি পাবে,তারা যেন এই মাসের সিয়াম পালন করে | আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্য দিনে গণনা পূরন করবে | অাল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান ,তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না -যাতে তোমরা গণনা পুরন কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর,যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর | -সূরা বাকারা:আয়াত-১৮৫|

* মহান আল্লাহর কুরআনের সাথে রমাদানের সিয়ামকে জড়িত করেছেন | হাদিস থেকে জানা যায় যে, দুভাবে এ সংশ্লিষ্টতা | প্রথমত রামাদানে রাতদিন কোরআন তেলাওয়াত করা এবং দ্বিতীয়তঃ রাতে কিয়ামুল্লাইল বা তারাবীহের সালাতে কুরআন পড়া বা শোনা |

* মুমিনের অন্যতম এবাদত কুরআন তিলাওয়াত করা | আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর কুরআন তিলাওয়াত | কুরআন কারীমের একটি আয়াত শিক্ষা করা-১০০-রাক’আত নফল সালাতের চেয়েও উত্তম বলে হাদীস শরীফে বলা হয়েছে | সারা বৎরই তিলাওয়াত করতে হবে | বিশেষত রমাদানে বেশি তিলাওয়াত করা রাসূল (স.)এর বিশেষ সুন্নাত, যাতে অতিরিক্ত সাওয়াব ও বরকত রয়েছে |

* আসুন আমরা সবাই যেন সিয়ামের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করতে পারি৷ আমি ও আমার পরিবারের সকলেই যেন সঠিকভাবে সিয়াম পালন করতে পারে | মহান আল্লাহ আমাদেরকে সিয়াম পালনের মাধ্যমে তাঁর প্রিয় বান্দা হত্তয়ার তাওফীক দান করুন |

** পবিত্র মাহে রামাদানের অসিলায়- !
মহান আল্লাহ! প্রানঘাতি করোনা ভাইরাসের মহামারীর গযব থেকে আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন | এই দেশকে রক্ষা করুন |

*-দোয়ার মুহতাজ-*
মাও. জিয়াউল ইসলাম যুক্তিবাদী
কলারোয়া,সাতক্ষীরা|
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও গবেষক।

একই রকম সংবাদ সমূহ

থ্যালাসেমিয়া : প্রয়োজন সচেতনতা ও প্রতিরোধ

থ্যালাসেমিয়া কি? থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত মারাত্মক রক্তশূন্যতা যা শিশুরা পিতামাতার কাছ থেকেবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ার সাধক যবন হরিদাস

ইতিহাস ঐতিহ্য-৪ কলারোয়ার সাধক যবন হরিদাস প্রফেসর মো. আবু নসর ১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দেবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ায় বিদ‍্যুৎ বন্ধের গল্প ও পেছনের গল্প

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় চলতি সময়ে প্রচন্ড গরম আর তাপদাহে অতিষ্ঠ গোটা জনজীবন ওবিস্তারিত পড়ুন

  • মহান মে দিবস
  • রামাদান- শবে ক্বদর, ইতিকাফ ও ফিতরা
  • রামাদান ও যাকাত
  • আহকামে সিয়াম ও কিয়াম, পর্ব-৩
  • আহকামে সিয়াম ও কিয়াম
  • কলারোয়ায় নীল বিদ্রোহ ও মহকুমা প্রশাসক নওয়াব আব্দুল লতিফ
  • করোনা: সেই উদ্যোগগুলো কোথায় গেল?
  • জমিদার রানী রাশমনি: দাবা খেলা জিতে কলারোয়া অঞ্চলের জমিদারী লাভ
  • জনপদের নাম কলারোয়া : সাতক্ষীরা মহকুমার প্রথম সদর দপ্তর
  • ‘আমি বাকরুদ্ধ, কেন কাঁদছি? রাজিব আমার কে হয়?’ : আবেগঘন ওসি মুনীর
  • বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)
  • error: Content is protected !!