বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

ইউপি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থিতা বাতিল, সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া কিংবা নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিধিমালায় অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল এবং অনিয়মে প্রভাবিত ভোটকেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত কিংবা নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

এ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে বলেন, ‘আমাদের বার্তা হলো, আচরণবিধি আমরা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। এ ব্যাপারে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনের কাছে এলে তা যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিলেরও বিধান রয়েছে।

ইসির হালনাগাদকৃত স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় নির্বাচনী অপরাধের জন্য শাস্তি, প্রার্থিতা বাতিল এবং অনিয়মপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফল স্থগিতের ক্ষমতা স্পষ্ট করা হয়েছে। বিধিমালার ৮০(ক) অনুযায়ী, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো, আঘাত করা কিংবা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একইভাবে কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকের কাজে বাধা দেওয়া, তাদের শারীরিক ক্ষতি করা কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম নষ্ট করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না দেওয়া কিংবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া ভোট দেওয়ার জন্য ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত বা অপেক্ষমাণ কোনো ব্যক্তিকে ভোট দিতে বাধা দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টার ক্ষেত্রেও সংশোধিত বিধিমালায় কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে বিধিমালায়। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে যে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী কিংবা তার নির্বাচনী এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন, তাহলে কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।

তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট অথবা তাদের নির্দেশে কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিতে অন্য কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে লিখিত আদেশের মাধ্যমে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা যাবে।

ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করার ক্ষমতাও রয়েছে কমিশনের। প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শেষে কমিশন ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারবে। অনুসন্ধানে ন্যায়সংগত মনে হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দেওয়া যাবে।

সিইসি বলেন, নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভোটার স্লিপসহ নির্বাচনী প্রচারে কোন ধরনের উপকরণ কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, তা আচরণবিধিতে নির্ধারিত রয়েছে। এসব বিধান লঙ্ঘন করলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়ার কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে। নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি থাকবে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আচরণবিধি ষোলো আনা বাস্তবায়ন করতে চাই। কোনো ভয়ভীতি ছাড়া ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন এবং ভোট দিয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারেন, আমরা সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।’

সিইসি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশনের প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। সাধারণত ভোটগ্রহণের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
সূত্র: বাসস

একই রকম সংবাদ সমূহ

শেখ হাসিনার ভিডিও ছড়ানোর দাবি আগেই নাকচ করেছিলেন তাহসিফ

নিখোঁজের এক দিন পর তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফবিস্তারিত পড়ুন

তুরাগে মিলল বিমানবাহিনীর নিখোঁজ সাবেক কর্মকর্তার লাশ

নিখোঁজের এক দিন পর রাজধানীর পার্শ্ববর্তী তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইটবিস্তারিত পড়ুন

বিদ্যুৎ খাতে নয়-ছয় করেছে আওয়ামী লীগ সরকার : রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ইনডেমনিটিবিস্তারিত পড়ুন

  • সরকার অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে : মীর শাহে আলম
  • ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে ইসি : সিইসি
  • নতুন কাঠামোয় বাড়তি বেতন আগামি সপ্তাহে, অনেকের বেতন নির্ধারণে জটিলতা
  • চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমকে সমর্থন করে না সরকার : তথ্য উপদেষ্টা
  • দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী
  • দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
  • নতুন পে স্কেলে বেতনের সঙ্গে মিলবে বকেয়া, বাড়ছে না ভাতা
  • সব বিভাগে ৮টি ক্যান্সার হাসপাতালের কাজ চলছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
  • ৭ নভেম্বর বিএনপির কর্মসূচিতে থাকছে যেসব আয়োজন
  • দুই বছরে স্বাস্থ্য খাতকে নতুন রূপ দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী