শনিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৫

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

বাংলাদেশি পর্যটক কমে যাওয়ায় ভারতজুড়ে হাহাকার

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যান বহু মানুষ। ফলে বাংলাদেশিদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতালগুলো। কিন্তু বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গণআন্দোলন এবং সরকার পরিবর্তনের পর থেকে মেডিকেল ভিসায় ভারতে যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ভারতের চিকিৎসা শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে সেটি রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে। শেষ পর্যন্ত গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ অবস্থায় ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতির’ কারণ দেখিয়ে গত ৭ আগস্ট বাংলাদেশের সব ভারতীয় ভিসা সেন্টার (আইভিএসিএস) বন্ধ ঘোষণা করে ভারত। এর চারদিন পরেই অবশ্য সেগুলো ফের খুলে দেয়া হয়।

১১ আগস্ট ভারতীয় ভিসা সেন্টারের ওয়েবসাইটে এক বার্তায় বলা হয়, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামের ভিসা সেন্টারগুলো থেকে পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া হবে। তবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নতুন কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

বাংলাদেশিদের ওপর কতটা নির্ভরশীল ভারত
২০২২ সালে ভারতে বেড়াতে যাওয়া বিদেশি পর্যটকের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন বাংলাদেশিরা। তাদের ওপরে ছিল কেবল যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩ সালে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছিল ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২২ সালে ভারতে ভ্রমণকারী বিদেশি পর্যটকদের শীর্ষ তিন উৎস ছিল যুক্তরাষ্ট্র (২২ দশমিক ১৯ শতাংশ), বাংলাদেশ (২০ দশমিক ২৯ শতাংশ) ও যুক্তরাজ্য (৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ)। ওই বছর পর্যটন খাত থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৪৩ কোটি রুপি আয় করেছিল ভারত।

সুতরাং স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে, ভারতের পর্যটন শিল্প বাংলাদেশিদের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল।

বিশেষ করে, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের অবদান উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমণ কমেছে
বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটরদের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস বলেছে, গত জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে পর্যটন ব্যবসায় তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। এরপর যত সময় গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর তাদের ব্যবসা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। স্থানীয় অপারেটরদের তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে ভারত ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

গত ১৮ আগস্ট দ্য ইকোনমিক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে যাওয়া পর্যটকদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই বাংলাদেশি নাগরিক। এই পর্যটকরা মূলত মেডিকেল ট্যুরিজম (চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ গমন) বা কেনাকাটার জন্য যান, বিশেষ করে দুর্গাপূজা ও বিয়ের মৌসুমে।

হুমকির মুখে ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, মেডিকেল ট্যুরিজমে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের একটি হলো ভারত। মূলত দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া এবং আফ্রিকান দেশগুলো থেকে মানুষ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যান।

ভারত সরকারের তথ্যমতে, দেশটিতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশিদের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০২২ সালে ৪ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ মেডিকেল ভিসায় ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে, ২০২৩ সালের প্রথম ১০ মাসেই যান পাঁচ লক্ষাধিক বিদেশি। এদের সিংহভাগই বাংলাদেশি পর্যটক।

ভারতীয় সংস্থা কেয়ার এজ রেটিংসের তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ মানুষ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যান। ভারতে যাওয়া মেডিকেল পর্যটকদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই হলেন বাংলাদেশি। এমনকি, ভারতের হাসপাতালগুলোতে সর্বমোট যত রোগী সেবা নেন, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অংশ প্রায় তিন শতাংশ।

কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজমের এই চিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

কেয়ার এজ রেটিংস বলছে, কেবল আগস্ট মাসেই ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। আর পুরো বছরের হিসাব করলে এর পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম (২০২৩ সালের তুলনায়)।

ভারতের হাসপাতালগুলোতে হাহাকার
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্ট বলছে, বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব এরই মধ্যে টের পেতে শুরু করেছে ভারতের হাসপাতালগুলো।

দেশটির বৃহৎ হাসপাতাল চেইন ফোর্টিস হেলথকেয়ারের একজন মুখপাত্র দ্য ইকোনমিক টাইমসকে বলেছেন, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমাদের হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। অনেক রোগী ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল অথবা স্থগিত করেছেন। কোনো কোনো হাসপাতালে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভারতীয় হাসপাতাল কর্মকর্তা জানান, এতদিন বাংলাদেশি রোগীদের ভারতে যাওয়া ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। সেখানকার অনেক হাসপাতালেই অধিকাংশ রোগী থাকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের হাসপাতালগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের আরেকটি প্রধান হাসপাতাল চেইনের আন্তর্জাতিক মার্কেটিং টিমের এক নির্বাহী বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের হাসপাতালগুলোতেও বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা কমতে দেখছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে অস্থিরতা শুরুর পর থেকে এই সংখ্যা কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।

অন্য একটি হাসপাতাল চেইনের নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমাদের আয় এরই মধ্যে পাঁচ শতাংশ কমে গেছে। রোগী কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। তাছাড়া, নতুন কোনো রোগীও আসছেন না।

ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভারতের মেডিকেল শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

একই রকম সংবাদ সমূহ

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের ‘র’ এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ, ক্ষুব্ধ দিল্লি

ধর্মীয় স্বাধীনতা গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংবিস্তারিত পড়ুন

ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি: মার্কিন কমিশন

ভারতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিকবিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ওবিস্তারিত পড়ুন

  • কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে স্বাধীনতা দিবস পালিত
  • ভারতের স্থলবন্দরে হেনস্তার শিকার বাংলাদেশি, পাঠানো হলো ফেরত
  • ভালো খেলেও ভারতের বিপক্ষে ড্র হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশের
  • ‘হাসিনাবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে জানলেও হস্তক্ষেপ করতে পারেনি ভারত’ : দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন
  • ভারতে সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরলো শিশুসহ ২১ নারী-পুরুষ
  • ভারত ভিসা বন্ধ রাখায় বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের কাজের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ
  • বাংলাদেশ-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে উভয় সংকটে ভারত
  • ট্রেনে হামলা : পাকিস্তানের অভিযোগের জবাবে যা বললো ভারত
  • হোলি উৎসব: ভারতে মুসলিম ধরপাকড়, ত্রিপলে মসজিদ ঢেকে দেয়া হলো
  • ভারতে ঘুরতে গিয়ে ইসরায়েলি তরুণীকে ধর্ষণ, আটক ২
  • পুলিশে ‘অস্থিরতা’ সৃষ্টিতে কলকাতা থেকে কলকাঠি নাড়ছেন কামাল-নানকরা!
  • এখন আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের ‘হেডকোয়ার্টার’ কলকাতা!