ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশুর পাশে জেলা প্রশাসন, চিকিৎসার ব্যয় বহনের আশ্বাস


সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে (৮) ফুসলিয়ে ছাদে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিকে খুঁজছে পুলিশ। এদিকে গুরুতর জখম অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির সার্বিক চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে গত রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে ওই শিশুর মা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কুলতিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আহসান উল্লাহ (১৬) নামের এক কিশোরকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। রোববার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলার সময় প্রতিবেশী আহসান উল্লাহ তাকে প্রলোভন দেখিয়ে হাত ধরে পাশের একটি একতলা ভবনের ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে কান্নাকাতি করতে থাকে। এ সময় শিশুটির এক আত্মীয় ঘটনাটি দেখে ফেললে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিশুটির শরীরে ৪টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
সোমবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখতে যান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস। এ সময় তার সঙ্গে সহকারী কমিশনার সাইফুল ইসলাম, ইসতিয়াক আহমেদ অপু ও মো. শাহেদ হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস বলেন, সাত বছর বয়সী একটি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির খোঁজখবর নিতে এসেছি এবং চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছি। শিশুটিকে কেবিন থেকে বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। সে শারীরিকভাবে এখন আশঙ্কামুক্ত হলেও কিছুটা মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে আছি এবং তার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের আশ্বাস দিয়েছি।
এদিকে, সোমবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর ও তার পরিবারের বক্তব্য নিতে গেলে কর্তব্যরত নার্স ও স্টাফদের বাধার মুখে পড়েন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। একপর্যায়ে হাসপাতালের প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরতি খোদার কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহা সাংবাদিকদের সহযোগিতা না করে ক্ষুব্ধ আচরণ করেন বলে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এঁর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান
নিজস্ব প্রতিনিধি: “৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে এই স্লোগানকে সামনে রেখে”বিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ ইউনিয়ন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আলোচনা সভা
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ সাতক্ষীরা জেলা ৭৮টি ইউনিয়ন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একবিস্তারিত পড়ুন

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য জামায়াতপন্থী সেজে চাঁদাবাজী
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা থ্রি-হুইলার, ফোর হুইলার অটোটেম্পু সমবায় সমিতি যার (রেজিঃ ০৫০২/সাত,বিস্তারিত পড়ুন


