ভারতের তামিলনাড়ুতে বিজেপিতে ভাঙনের সুর, যে কারণে মোদির সঙ্গ ছাড়লেন প্রভাবশালী নেতা


ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বিজেপির সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ কে আন্নামালাই অবশেষে দল ত্যাগ করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে চলা নানামুখী জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থেকে পদত্যাগ করলেন।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই তার এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন তামিলনাড়ুর সাবেক রাজ্য সভাপতি শ্রী কে আন্নামালাইয়ের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে দেওয়া পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনসাধারণের সঙ্গে একটি উন্মুক্ত আলোচনায় বসার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আন্নামালাইয়ের দল ছাড়ার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি সামনে এলো।
সাবেক এই আইপিএস কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার (২ জুন) দিল্লিতে গিয়ে দলীয় প্রধান নীতিন নবীনের সঙ্গে দেখা করেন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দলের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহ এবং বি এল সন্তোষের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়। দল তাকে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে বললেও পর্দার আড়ালে চলা আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। আন্নামালাইয়ের পদত্যাগের পর তামিলনাড়ু বিজেপির বর্তমান সভাপতি নয়নর নাগেন্দ্রন বেশ আত্মবিশ্বাসী সুরেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আন্নামালাইয়ের দলত্যাগে বিজেপির কোনো ক্ষতি হবে না, কারণ বিজেপি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল।
তবে অন্ধ্রপ্রদেশ বিজেপির সভাপতি পিভিএন মাধব কিছুটা ভিন্ন সুর মিলিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে তামিলনাড়ুতে আন্নামালাইয়ের অবদান অনেক এবং ভবিষ্যতে তিনি আবারও দলে ফিরে আসবেন।
পদত্যাগপত্রে আন্নামালাই তার দল ছাড়ার পেছনে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, তামিলনাড়ুর মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি যেভাবে জাতীয় দলগুলো মূল্যায়ন করে, তার সঙ্গে তিনি একমত হতে পারছিলেন না। গত ১৮ মাস ধরে তিনি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তার ভিন্নমতের কথা জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভাবনার সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গি মিলছে না। তাই শীর্ষ নেতৃত্বকে আর কোনো বোঝায় না ফেলে তিনি দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, তার নতুন দল তামিলনাড়ুর আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
২০২০ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আন্নামালাই সরকারি চাকরি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। রাজনীতিতে আসার মাত্র এক বছরের মাথায় ৩৭ বছর বয়সে তিনি তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি পদের মতো বড় দায়িত্ব পান। তার হাত ধরে রাজ্যটিতে বিজেপির ভোট ব্যাংক ও দৃশ্যমানতা বাড়লেও তিনি নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় কোনো জয় পাননি।
সূত্রমতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এআইএডিএমকে দলের সঙ্গে বিজেপির পুনরায় জোট গঠন করা নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। আন্নামালাই চেয়েছিলেন বিজেপি এককভাবে লড়ুক, কিন্তু দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জোটের পক্ষে ছিল। এআইএডিএমকে প্রধান ইদাপ্পাদি কে পালানিস্বামী জোটে আসার শর্ত হিসেবে আন্নামালাইকে সভাপতির পদ থেকে সরানোর দাবি তুলেছিলেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে আন্নামালাইয়ের এই পদত্যাগ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিল।
সূত্র: এনডিটিভি।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ৫৮ বিধায়কের বিদ্রোহ, দল থেকে ‘মাইনাস’ মমতা ব্যানার্জি
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের এক মাসের মাথায় তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙনেরবিস্তারিত পড়ুন

তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় সংকটবিস্তারিত পড়ুন

মমতার তৃণমূলে ভাঙন, বহিষ্কৃত ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা বানালেন ৫৮ বিদ্রোহী বিধায়ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর পর এবার ভাঙনের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।বিস্তারিত পড়ুন

