বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের আটকে রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ


পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিতকরণ এবং পুশব্যাকের প্রক্রিয়া জোরদার করতে এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা ডিটেনশন সেন্টার (আটক কেন্দ্র) স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি আদেশ জারি করা হয়।
রাজ্য পুলিশ প্রধান, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) এবং রাজ্যের সমস্ত জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের দায়ে আটক হওয়া বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া সহজ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক বিদেশি নাগরিক এবং সাজা শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা বিদেশি বন্দিদের রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় জরুরি ভিত্তিতে হোল্ডিং সেন্টার বা ডিটেনশন সেন্টার গড়ে তোলার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
পশ্চিমবঙ্গে নতুন নির্বাচিত বিজেপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই অবৈধ অভিবাসন ইস্যুটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সেই কাজ শুরু হয়েছে।
গত ২০ মে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ (চিহ্নিতকরণ, বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার) নীতি কার্যকর করবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে বলেন: “যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় রয়েছেন, তারা এখানে সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে যারা সিএএ-এর সুরক্ষায় নেই এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, তাদের রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করবে এবং বহিষ্কারের জন্য বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর করবে। আমাদের নীতি পরিষ্কার—ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট।”
এই আদেশের পর বিশেষ করে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার জেলা পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় (হাই অ্যালার্ট) রাখা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে।
সূত্র জানিয়েছে, আটককৃত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের সাজা শেষ হওয়া অন্যান্য বিদেশি কয়েদিদের সাথেই এই হোল্ডিং সেন্টার বা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হবে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ বা ফেরত পাঠানোর জন্য বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

ভারতে শিশু ধর্ষণের প্রধান অভিযুক্ত এনকাউন্টারে নিহত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার বারুইপুর শহরতলিতে এগারো বছর বয়সী এক শিশুকে দলবদ্ধবিস্তারিত পড়ুন

পর্যটন ভিসা চালুর পর ভারতীয় হাইকমিশনের নতুন বার্তা
বাংলাদেশিদের জন্য আবারও পর্যটন ভিসা চালু করেছে ভারত। দীর্ঘ দুই বছরের অপেক্ষারবিস্তারিত পড়ুন

শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে মোট ৫০০বিস্তারিত পড়ুন


