পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি আর দেখতে চাই না: জামায়াত আমির


জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি আর দেখতে চাই না। রাজার ছেলে রাজা হবে, রানির মেয়ে রানি হবে—যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক তা আর দেখতে চায় না এদেশের জনগণ। মেধা ও যোগ্যতা থাকলে একজন রিকশাওয়ালাও রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারবে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে কুমিল্লা টাউনহল ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এদেশে সবচাইতে মজলুম দলের নাম জামায়াত। বিচারের নামে আর কোনো দলের কোনো সিনিয়র নেতাদের খুন করা হয়নি, অফিস তালা মেরে রাখা হয়নি, নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়নি, কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। এগুলো চলেছে জামায়াতে ইসলামীর ওপর। গুম কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি গুমের শিকার হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট আল্লাহ তাআলার এক অশেষ নেয়ামত। আমরা প্রতিশোধপরায়ণ হবো না ঘোষণা দিয়েছিলাম। তবে ভিক্টিম পরিবার আইনি লড়াই করলে আমরা সহযোগিতা করবো। আমরা জুলাই শহীদদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি, তাদের দুঃখের ভাগ নিয়েছি। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই আজ আমরা এই ময়দানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পেরেছি। শহীদদের স্বজনদের যখন দেখতে যাই, তখন তাদের চোখে পানি নয় বরং রক্ত দেখেছি।’
চাঁদাবাজির বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘ফুটপাত থেকে শুরু করে শিল্পপতিরা—কেউ চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। চাঁদাবাজির কারণে কেউ শান্তিতে নেই। আপনারা কি চান আবার চাঁদাবাজি ফিরে আসুক, ফ্যাসিবাদী শক্তি ফিরে আসুক? তাহলে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তিকে ভোট দিন।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় এলে আমরা চাঁদাবাজি করবো না, চাঁদা ভিক্ষার চাইতে নিকৃষ্ট। আমরা মামলাবাজি করবো না। আমরা কারও প্রতি জুলুম করবো না। ঘোষণা দিয়েছিলাম কোনো নিরীহ ব্যক্তি যেন আমাদের নিপীড়নের শিকার না হয়। আমরা লুটপাট আর চাঁদাবাজির রাজনীতি করিনি। ইনশাআল্লাহ আগামীতেও করবো না। আমরা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব রাখবো না। তোমরা অভাবে থাকলে আমরা আমাদের রিজিক থেকে ভাগ করে খাবো, তবুও চাঁদাবাজি করো না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত সময়ে শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আমরা দেশ ছাড়িনি। আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকবো ইনশাআল্লাহ। আমরা মজলুম ছিলাম, মজলুমে দুঃখ আমরা বুঝি। এজন্য আমরা কখনো জালিম হবো না।’
দেশব্যাপী নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আর যদি কোনো মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হয়, তাহলে আমরা তাদের ছেড়ে কথা বলবো না। এমন ঘটনা যেখানেই ঘটে, সেখানেই তোমরা সাহসী যুবকরা ঝাঁপিয়ে পড়ো, যেভাবে জুলাইয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছো।’
মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মা-বোনেরা কোন জুজুর ভয় পাবেন না। কোনো ভয়-ভীতিতে আপনারা ক্ষান্ত হবেন না। আপনারা ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিন। চাঁদাবাজদের রুখে দিন। জামায়াত ক্ষমতায় এলেই মা-বোনেরা নিরাপদে থাকবেন।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা সেই মা যারা আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ আর ওসমান হাদিদের জন্ম দিয়েছেন। যারা আপনাদের ভয় দেখায় আপনারা তাদের রুখে দিন। বলুন ভোট আমি দিতে যাবো, ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে দেবো, পারলে ঠেকাও।’
যুবকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কোনো যুবকের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেবো না। যুবকদের দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করবো। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আমরা যুবকদের সম্মানের জায়গায় বসাতে চাই।’
মিডিয়ার উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘মিডিয়া জাতির চোখ, জাতির দর্পণ। কেউ যেন দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতা না করেন, কেউ যেন দুর্নীতির পক্ষে না থাকেন। আপনারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন, ন্যায়ের পক্ষে থাকেন। কিছু মিডিয়া হাউজ নিয়ে কথা হচ্ছে। তাদেরকে বলবো, আপনারা নিউজ ঘুরিয়ে দিয়েন না, সত্যটা তুলে ধরেন।’
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মুহাম্মদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেত্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
এসময় কুমিল্লা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুল, কুমিল্লা-৩ আসনের প্রার্থী ইউসুফ সোহেল, কুমিল্লা-৫ আসনের প্রার্থী ড. মোবারক হোসেন, কুমিল্লা-৮ আসনের প্রার্থী ড. শফিকুল আলম হেলাল, কুমিল্লা মহানগরীর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আ.লীগের উত্থাপিত প্রশ্ন নাকচ জাতিসংঘের
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর পূর্ণ আস্থাবিস্তারিত পড়ুন

সংসদ সদস্যদের ‘কার্যপ্রণালি বিধি ওরিয়েন্টেশন’ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত
সংসদ-সদস্যগণের জন্য ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি-বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।বিস্তারিত পড়ুন

পদত্যাগ ইস্যুতে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন দীপেন দেওয়ান
ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে পদত্যাগ করে হঠাৎ আলোচনায় আসেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কবিস্তারিত পড়ুন

