মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

স্বাস্থ্যসেবা ভোগান্তি : নিঃস্ব মানুষের আর্তনাদ কে শুনবে?

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের এক নীরব দুর্বিপাকের নাম-স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়। দেশে প্রায় ৮০-৯০ ভাগ মানুষ কোনো না কোনো রোগে ভুগে থাকেন। গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক চিকিৎসা কিংবা যোগ্য চিকিৎসকের নাগাল পাওয়া এখনো কঠিন বাস্তবতা। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে শহরমুখী হয় মানুষ। অথচ শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া মানেই যেন নতুন আরেক দুর্ভোগের যাত্রা।
চিকিৎসকের ফি এখন ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা। এ যেন নিত্যদিনের স্বাভাবিক হার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন দিনমজুর বা মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রধানের জন্য এই টাকা জোগাড় করাই দুরূহ, এর পরেই শুরু হয় আরও বড় ব্যয়- বিভিন্ন রোগ নির্ণয় পরীক্ষা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চিকিৎসকরা রোগীর প্রকৃত প্রয়োজন বিবেচনা না করে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা লেখে দিচ্ছেন এবং সেই সব টেস্ট করানোর পেছনে লুকিয়ে থাকে কমিশনের অমোঘ প্রবাহ। অর্থাৎ রোগী যত বেশি পরীক্ষা করাবে, ততই সুবিধা পাবেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এই অনৈতিক বাণিজ্যিক প্রবণতা মানুষের কষ্টকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন অসংখ্য পরিবার। অনেককে বাধ্য হয়ে ঋণ নিতে হচ্ছে, কারও গবাদিপশু বিক্রি করতে হচ্ছে, আবার কারও ছেলে-মেয়ের পড়ার খরচ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও বাস্তবে তা এখন লাভের বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিকার কী? প্রথমত, চিকিৎসা ফি ও ডায়াগনস্টিক খাতের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর রাষ্ট্রীয় নীতিমালা জরুরি। কোন টেস্ট কেন প্রয়োজন, তা রোগীকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। কমিশনভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধে কঠোর নজরদারি ও শাস্তির ব্যবস্থা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত চিকিৎসক এবং মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষ যদি নিজের এলাকায় উন্নত চিকিৎসা পায়, তবে শহরমুখী চাপ যেমন কমবে, তেমনি খরচের বোঝাও হ্রাস পাবে। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনহীন পরীক্ষা বা চিকিৎসকের অতিরিক্ত পরামর্শে সন্দেহ হলে দ্বিতীয় মতামত নেওয়া উচিত। রোগীর অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবার নৈতিকতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকেও এগিয়ে আসতে হবে। চিকিৎসা খাতে অনিয়ম, অতিরিক্ত ফি, কমিশন- এসব শুধু ব্যক্তির আর্থিক ক্ষতি করে না; এটি পুরো সমাজকে অসুস্থ করে তোলে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার- বাণিজ্য নয়। এ সত্যটি যদি আমরা ভুলে যাই, তবে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নয়, দুর্ব্যবস্থাই আমাদের ভবিষ্যৎ হয়ে দাঁড়াবে। এখনই সময়, চিকিৎসা খাতকে মানবিক করার। মানুষের জীবন বাঁচানোর পেশা কখনোই মুনাফার বোঝায় ভারী হতে পারে না। এ কথা যেন সংশ্লিষ্ট সবাই মনে রাখেন।

একই রকম সংবাদ সমূহ

রাজগঞ্জে হোটেলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রি : ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন হোটেল ওবিস্তারিত পড়ুন

যশোরের রাজগঞ্জের মোবারকপুরে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর! মিলছে না প্রতিকার

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের মোবারকপুর গ্রামের শেষাংশের একটি বাগানে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতবিস্তারিত পড়ুন

মণিরামপুরের জালঝাড়া বাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মৃ*ত্যু

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার জালঝাড়া বাজারের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায়বিস্তারিত পড়ুন

  • শিশু আরাফাতের জীবন বাঁচাতে মানবিক সহায়তার আবেদন
  • যশোরের রাজগঞ্জে বাওড় থেকে ভ্যানচালকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
  • রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে থেমে নেই যশোরের মনিরামপুরের কৃষকদের কর্মযজ্ঞতা
  • ভবদহ অঞ্চলের ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধ মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ
  • যশোরের মণিরামপুরে পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শনে এমপি এনামুল হক
  • মনিরামপুরে ভারী বর্ষণে সড়কে ধস
  • স্মার্টফোনের যুগেও গ্রামের চায়ের দোকানে টিকে আছে আন্তরিকতার আড্ডা
  • মণিরামপুরে স্কুলশিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
  • রাজগঞ্জের ‘সন্দেশ দাদু’ : সংগ্রাম আর ভালোবাসার এক অনন্য গল্প
  • যশোরের মণিরামপুরের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে পড়া সড়ক ও সেতু পরিদর্শনে এমপি এনামুল হক
  • রাজগঞ্জ-পুলেরহাট সড়কে পিকআপের বেপরোয়া গতি : আতঙ্কে পথচারী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
  • রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া