দালালের ফাঁদে ভারত, দুই বছর পর দেশে ফিরলেন দুই নারী


ভালো চিকিৎসা আর উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাদের। কিন্তু সেই স্বপ্ন অল্প সময়েই পরিণত হয় দুঃসহ বন্দিজীবনে। অবশেষে দীর্ঘ দুই বছর পর ভারতের জেল ও শেল্টার হোমে কাটানো জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরেছেন পাচারের শিকার দুই বাংলাদেশি নারী।
মঙ্গলবার বিকেলে ভারতের হরিদাসপুর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা নারীরা হলেন বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া নলবুনিয়া গ্রামের কাঞ্চন হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া হাওলাদার ওরফে মারিয়া খান এবং একই এলাকার মৃত আলী হোসেন খানের মেয়ে হ্যাপি খান ওরফে আশা খানম।
হস্তান্তর-সংক্রান্ত নথি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন তাদের নামে ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে। পরে ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও), কলকাতা তাদের ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ প্রদান করে। দুই দেশের বিজিবি, বিএসএফ, ইমিগ্রেশন পুলিশ ও মানবাধিকারকর্মীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই নারী জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে চিকিৎসার জন্য দালালের প্রলোভনে পড়ে তারা পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে যান। সীমান্ত পেরোনোর কয়েকদিনের মধ্যেই ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। পরে তাদের দমদম জেলখানায় পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের জেল থেকে ছাড়িয়ে নিজেদের শেল্টার হোমে রাখে এবং বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরার অনুমতি মেলে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, ফেরত আসা দুই নারীর ট্রাভেল পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা না আসা পর্যন্ত দুই নারী সংস্থার তত্ত্বাবধানেই থাকবেন। সীমান্ত এলাকায় দালালচক্রের সক্রিয়তা ও অবৈধভাবে বিদেশে নেওয়ার প্রবণতা এখনও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সচেতন মহলের দাবি, মানবপাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও জনসচেতনতা আরও বাড়ানো জরুরি।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছে ৫০জন নারী-পুরুষ
অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে আটক ৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে ট্রাভেল পারমিটেরবিস্তারিত পড়ুন

শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে মোট ৫০০বিস্তারিত পড়ুন

ট্রাভেল পরমিটে দেশে ফিরে অবহেলার শিকার ১৪ বাংলাদেশী
ভারতে বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া ১৪ বাংলাদেশী নারী-পুরুষ ও কিশোর বিশেষ ট্রাভেলবিস্তারিত পড়ুন


