আয়ারল্যান্ডকে একীভূত করার পক্ষে ট্রাম্প, ক্ষুব্ধ যুক্তরাজ্য


ডাবলিন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডকে একীভূত করার পক্ষে মন্তব্য করেছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, আয়ারল্যান্ড যদি এক হয়ে যায়, সেটা হবে চমৎকার একটা বিষয়।
ট্রাম্প বলেন, আমি কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চাই না। কিন্তু আপনাদের বলছি, আমি আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চাই। একদিন না একদিন এটা হবেই… আমার মনে হয়, এটা খুবই সুন্দর একটা ব্যাপার হবে।
প্রধানমন্ত্রী মার্টিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ট্রাম্পের কথা শুনেও তিনি নীরব থাকেন।
লন্ডনে অবশ্য এ মন্তব্য ভালো লাগেনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আয়ারল্যান্ড একীভূত হওয়ার প্রশ্নে বার্নহামের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এর আগে বুধবার পার্লামেন্টে উত্তর আয়ারল্যান্ডে গণভোটের সম্ভাবনা নিয়ে বার্নহাম বলেছিলেন, এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই যেখানে দেখা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ আরও একটা গণভোট চায়। পরিস্থিতি না বদলালে কোনো গণভোট হবে না।
১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে যাবে কি না, সেই সিদ্ধান্তের গণভোট ডাকার ক্ষমতা ব্রিটিশ সরকারের হাতেই রয়েছে। ওই চুক্তির মাধ্যমেই ‘দ্য ট্রাবলস’ নামের প্রায় তিন দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটেছিল।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান ইউনিয়নিস্ট দল ডিইউপির নেতা গ্যাভিন রবিনসন স্পষ্ট করে বলেছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ট্রাম্প ঠিক করবেন না। সেখানকার জনগণই ঠিক করবে। তিনি যোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও জানেন নির্বাচন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডন, ডাবলিন বা ওয়াশিংটনের কোনো কথার ওপর নির্ভর করে এ সিদ্ধান্ত হবে না।
জনমত জরিপগুলোতে এখনো অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে থাকলেও ব্যবধান কমছে। বিশেষ করে ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগের পর একীভূত আয়ারল্যান্ডের আলোচনা আবার জোরালো হয়েছে।
সফরে ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গেও দেখা করেন। ২০১৯ সালে ট্রাম্প যখন আয়ারল্যান্ডে এসেছিলেন, তখন শ্যানন বিমানবন্দরে কনলি তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন। এবারও ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে ডাবলিনে যুদ্ধবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। অনেকে মার্কিন সামরিক নীতি, আয়ারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা এবং গাজায় ইসরাইলের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সফরের নিরাপত্তায় বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

ভারত থেকে নিজের মল-মূত্র সঙ্গে নিয়ে রাশিয়া ফিরবেন পুতিন!
ভারত সফর শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যবহৃত বর্জ্য বা মল-মূত্র সিলগালাবিস্তারিত পড়ুন

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা
নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্যবিস্তারিত পড়ুন

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল হুতিরা
কয়েকদিনের সংঘর্ষের পর ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতিবিস্তারিত পড়ুন


