বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

ক্রেন সংকটে থমকে বেনাপোল বন্দর: ব্যাহত আমদানি বাণিজ্য, ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভারী পণ্য ওঠা-নামানোর কাজে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্রেন ও ফর্কলিফট না থাকায় আমদানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা ও আর্থিক ক্ষতি।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া মোট পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী ধরনের, যা খালাস করতে ক্রেন ও ফর্কলিফট অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, চাহিদার তুলনায় যন্ত্রপাতির সংখ্যা অনেক কম। ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে কমপক্ষে ১২টি ক্রেন ও ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট।

এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময়ই এসব যন্ত্র অচল থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে জরুরি পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদনমুখী শিল্পখাত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি থমকে যাচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ।” তিনি আরও জানান, এই পরিস্থিতিতে অনেক আমদানিকারক বিকল্প বন্দর ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন, যা বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এদিকে, বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, বর্তমান ঠিকাদারের অদক্ষতা ও যন্ত্র সংকটের কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে ঠিকাদার পরিবর্তনের দাবিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো. মেহেরুল্লাহ বলেন, ক্রেন অচল থাকায় পণ্য সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। অর্ধেক সক্ষমতা নিয়ে এই বিশাল কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়।

ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তবে এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, সমস্যা সমাধানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই এই সংকট নিরসন করা হবে বলে আমরা আশাবাদী।

উল্লেখ্য, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়, যা থেকে সরকারের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়। দেশের অর্থনীতির অন্যতম এই প্রবেশদ্বারে এমন সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

একই রকম সংবাদ সমূহ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা বেনাপোলে, বেড়েছে পণ্য পরিবহনের খরচ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্যবিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশের ইলিশের দেশে ভারতীয় ইলিশ কেন, হঠাৎ বন্ধ আমদানি

ইলিশ বাংলাদেশের পরিচিত ও জনপ্রিয় মাছ। অথচ সেই ইলিশই এবার ভারত থেকেবিস্তারিত পড়ুন

বেনাপোল বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

“সবার আগে বাংলাদেশ” এই চেতনাকে ধারণ করে দেশের প্রতিটি স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিবিস্তারিত পড়ুন

  • বেনাপোল স্থলবন্দরে ফর্রলিফট দুর্ঘটনায় শ্রমিক আহত
  • কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: দেশে ফিরলো ৬ বাংলাদেশির মরদেহ
  • শার্শায় অপহরণ মামলার আসামি আটক ও অপহৃত কিশোরী উদ্ধার
  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ
  • গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের প্রাক্কালে বুলেটে থেমে যায় ক্রিকেটার রিয়ানের স্বপ্ন
  • ভারতে যাওয়ার সময় টাঙ্গাইলের আওয়ামীলীগ নেতা বেনাপোল ইমিগ্রেশনে গ্রেফতার
  • বাজার নিয়ন্ত্রনে বেনাপোল স্থলন্দর দিয়ে কাঁচাঝাল আমদানি
  • শার্শায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষন চেষ্টায় অভিযুক্ত আটক
  • বেনাপোল কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা
  • যশোরের শার্শায় ট্রলি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত-২, আহত-৩
  • বেনাপোলে আর্জেন্টিনা ভক্তদের মোটরসাইকেল শোডাউন
  • ভারতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছে ৫০জন নারী-পুরুষ