শার্শা থেকে কলারোয়া সীমান্তে মাদক নেটওয়ার্কের বিস্তার, আলোচনায় আমজাদ


যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী পাড়ের কায়বা গ্রামের আমজাদ হোসেনকে ঘিরে মাদক কারবারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একাধিক মামলার আসামি হয়েও তিনি মাদক কারবারে সক্রিয় রয়েছেন। পাড়ের কায়বা ও আশপাশের সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে পাশের জেলা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুরসহ কয়েকটি এলাকায়ও আমজাদ মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
আমজাদ হোসেন পাড়ের কায়বা গ্রামের মৃত হোসেন আলী দালালের ছেলে। সীমান্তবর্তী হওয়ায় পাড়ের কায়বা ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের ঝুঁকি রয়েছে। এ অঞ্চলে সীমান্তের বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে মাদক এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে আমজাদ স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।
অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, পাড়ের কায়বা থেকে শুরু করে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর পর্যন্ত মাদকের গডফাদার হিসেবে আমজাদ আলোচিত। শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ করে যশোর ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার মাদকের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের এই ব্যবস্থায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত। আমজাদ এসব যোগাযোগের অন্যতম ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর কোনো ভূমিকা পাওয়া যায়নি। এই মাদকসম্রাট আমজাদের বিরুদ্ধে যশোর ও সাতক্ষীরা জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে। একাধিক মামলা থাকার পরও তার মাদকের নেটওয়ার্ক দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ নিয়ে পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আমজাদের সঙ্গে পুলিশের কিছু কর্মকর্তার ওঠাবসা রয়েছে বলে একাধিক মামলা থাকার পরও তিনি এলাকায় মাদকের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছেন। সম্প্রতি আমজাদ হোসেনের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। একাধিক মামলার আসামি হওয়ার পরও তিনি কীভাবে মাদক সাম্রাজ্য আরো বিস্তীর্ণ করছেন তা নিয়েও নানান প্রশ্ন।
ভিডিওটি নিয়ে আমজাদের ছেলে সুজনের সঙ্গে কথা বললে তিনি এনপিবি প্রতিবেদককে বলেন, আমার বাবা তো দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে। তার মাদক সেবনের ভিডিও বের হলে অসুবিধা কী আছে? এর আগে আমাকে নাতুপুরের একজন ও ভবানীপুরের একজন এই ভিডিও দেখিয়েছে। এটা এলাকায় সবাই জানে, আমার বাবা দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাই ইয়াবা খেতেই পারে, এটা স্বাভাবিক। আপনারা নিউজ করলেও তাতে কিছু যায় আসে না। তবে আমার বাবা আমজাদ তাড়াতাড়ি মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য লাইন ধরবে।
এদিকে আমজাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি মোবাইল নম্বরে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে ফোন করা হলে একজন নারী কলটি ধরেন। আমজাদ নিজে ফোনটি ধরেননি।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রশাসনের চাপ বা অভিযান বাড়লে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি অন্যের কাছে রেখে দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে ফোনটি ওই নারীর কাছে থাকার কারণ বা এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, চলতি অক্টোবর মাসে শার্শায় পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ অন্তত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ৩ অক্টোবর তিনজনের কাছ থেকে মোট ৩৫ পিস, ৫ অক্টোবর একজনের কাছ থেকে ১৭ পিস এবং ৮ অক্টোবর আরও একজনের কাছ থেকে ১২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার ভাষ্য, এসব অভিযানে মূলত অল্প পরিমাণ মাদকসহ বাহক বা খুচরা পর্যায়ের ব্যক্তিরাই আটক হচ্ছেন, কিন্তু এর পেছনে থাকা বড় কারবারিরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা বেনাপোলে, বেড়েছে পণ্য পরিবহনের খরচ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্যবিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশের ইলিশের দেশে ভারতীয় ইলিশ কেন, হঠাৎ বন্ধ আমদানি
ইলিশ বাংলাদেশের পরিচিত ও জনপ্রিয় মাছ। অথচ সেই ইলিশই এবার ভারত থেকেবিস্তারিত পড়ুন

বেনাপোল বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম
“সবার আগে বাংলাদেশ” এই চেতনাকে ধারণ করে দেশের প্রতিটি স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিবিস্তারিত পড়ুন


