নতুন সংবিধানের মধ্যে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নতুন সংবিধানের মধ্যে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ আমাদের একটি সংবিধান আছে। নতুন রাষ্ট্র গঠিত হলে বা নতুন স্বাধীনতা পেলে কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলির মাধ্যমে সংবিধান গ্রহণ করা হয়। এরপর সেই সংবিধানের আলোকে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি গঠিত হয়। এটা একটা লং প্রসেস।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে এবং জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের মধ্যেই সংবিধান সংশোধনের খসড়া প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সনদের বাইরে এবং আরও কিছু পরিপূরক যদি প্রস্তাব আসে যেগুলো জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সেসব বিষয় আমরা পরামর্শ করে নেবো এবং তারপর আমাদের রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবো। আমরা খুব দ্রুতগতিতে এগোতে চাই। সম্ভব হলে আমরা প্রতি সপ্তাহে একটি বৈঠকের আয়োজন করবো।
বৈঠকে সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬ দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এরমধ্যে ১৫টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অংশ নেন বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। একটি রাজনৈতিক দল লিখিত বক্তব্য দিয়েছে এবং একটি দলের প্রতিনিধি অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি বলে টেলিফোনে জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, আমররা মোটামুটি ১৭টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের কথা বলতে পারি, ১৫টির প্রতিনিধি সরাসরি এসছেন, একটি দল বক্তব্য পাঠিয়েছে। আরেকটি শেষ মুহূর্তে অসুস্থতার কারণে অংশ নিতে পারেনি। বাকি রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন দাবিতে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে এখনো পর্যন্ত অংশগ্রহণ নেয়নি। তার মধ্যে জামায়াত ও এনসিপি আছে।
বিশেষ কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর বক্তব্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা বলেছেন যতটা দ্রুত সম্ভব আলাপ আলোচনা শেষ করে আমরা সংসদে রিপোর্টটা পেশ করি এবং সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী সমঝোতার মাধ্যমে গ্রহণ করি। তাহলে জাতি বুঝতে পারবে জুলাই জাতীয় সনদ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। সনদের বাইরেও কিছু কিছু অঙ্গীকার আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল। যেগুলোর পক্ষে জনগণ ভোট দিয়েছে, সেগুলো আমরা ধারণ করবো। যেমন অর্থবছর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি মন্ত্রিপরিষদে যেন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত এবং সুচারুভাবে বাস্তবায়ন হয়। অর্থবছরের শেষ কোয়ার্টারে অর্থছাড় হয় বেশি। যখন বর্ষা মৌসুম থাকে তখন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন খুব একটা সুচারু করা যায় না, আর্থিক সমস্যা হয় এবং তছরুপের ঘটনা ঘটে। জাতীয় সম্পদের একটা অপচয় হয়। সেগুলো রোধ করার জন্য বাংলাদেশের ঋতু অনুসারে এপ্রিল-মার্চ পর্যন্ত বাজেটবর্ষ প্রণয়ন করবো। এগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের দুই জায়গায় পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রায় সব রাজনৈতিক দল একবাক্যে বলেছে-যেন জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আপত্তিসহ বাস্তবায়ন করবো। যেহেতু সনদের প্রথমেই আছে সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন হবে। প্রতিটি দফায় বলা আছে রাজনৈতিক দলগুলো ইশতেহার অনুসারে জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করলে সে অনুসারে ব্যবস্থা নিতে পারবে। অর্থাৎ, প্রস্তাবের মধ্যে যাদের যে বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট সহকার হয়েছে, সেই হিসাবে তারা নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করলে জনগণ ম্যান্ডেট দিলে সে হিসাবে যেতে পারব।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু উচ্চকক্ষ সরাসরি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হয়, সেজন্য সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি নিম্নকক্ষের বিষয় থাকবে। যেহেতু আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে এ বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি, জনগণের ম্যান্ডেট আমরা সেভাবে নেবো। এটাই ছিল নোট অব ডিসেন্টের বিষয়।
আজকে এই আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেছি। তারা বলেছেন, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল মাঠের রাজনীতিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে যে-বিএনপি সংখ্যাধিক্যের কারণে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় না। যেটা সম্পূর্ণ অসত্য।
আমরা জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুইটা আলাপ-আলোচনা চলতে থাকবে। এরইমধ্যে আমরা সবার পরামর্শ নিয়ে রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ চালু রেখেছি। এটা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা রিপোর্টটা সংসদে উপস্থাপন করতে পারবো। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বিল আকারে সংবিধান বিলটা আসবে। তখন সংসদের দীর্ঘ বিতর্কের মধ্য দিয়ে আশা করি একটা সমঝোতা হবে। আমরা চাই, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সবাই সমঝোতার মধ্য দিয়ে, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে গ্রহণ করি।
বিরোধীদল না থাকায় আলোচনা একপাক্ষিক হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একপাক্ষিক তো হচ্ছে না, ১৭ পক্ষ হচ্ছে। যারা জুলাই জাতীয় সনদে সেই করেনি, তারা যদি আলোচনায় অংশ নিতে চায় এবং দেশের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও যদি আলাপ-আলোচনা করতে চায়, আমাদের দ্বার খোলা থাকবে। হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকার উপায় হবে না। তবে আমরা জানিয়েছি, কারও কোনো বক্তব্য থাকলে লিখিতভাবে কমিটির কাছে দিলে সেটা আমরা বিবেচনা করবো। আমাদের অনেকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। সেজন্য প্রতি সপ্তাহে একটি মিটিং করার চেষ্টা করবো।
ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে আপনাদের আনা সংশোধনী পরিবর্তন করতে পারবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো ব্যক্তি যদি সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসে এবং পার্লামেন্টে যদি তাদের টু-থার্ড মেজরিটি নাও থাকে, অন্যান্য দলের সমর্থনে যদি টু-থার্ড মেজরিটি পায়, তখন জনহিত ও সমাজের চাহিদা অনুসারে যদি কোনো বিধান পরিবর্তন করতে চান, তারা সেটা করতে পারবেন। তখন তারা বলবেন, জনগণ যাদের প্রতিনিধি বানিয়ে পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে, তাদের ম্যান্ডেট আছে। তারা যখন কোনো বিধান পরিবর্তন করতে চাইছেন, তখন তারা সেটা পারবেন। পৃথিবীর ইতিহাসে সংবিধান সংশোধনের ইতিহাস দেখবেন-কোনো কোনো দেশে শতাধিকবার সংবিধান সংশোধন হয়েছে।
কমিটি কবে নাগাদ প্রতিবেদন দিতে পারবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা চিন্তা করছি, বাই দ্য এন্ড অব ডিসেম্বর আমরা আমাদের আলোচনাগুলো শেষ করতে পারবো এবং এরইমধ্যে আমাদের রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী গ্রেফতার
রাজধানী শেরেবাংলা নগরের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজীবিস্তারিত পড়ুন

প্রতি লিটারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো ২০ টাকা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জবিস্তারিত পড়ুন

আওয়ামী লীগের দোসররা নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে: রেল প্রতিমন্ত্রী
জনসমর্থন না থাকায় আওয়ামী লীগের দোসররা নাশকতার মাধ্যমে জনমনে ভীতি তৈরি করতেবিস্তারিত পড়ুন


