সাতক্ষীরা মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডে টাকা ছাড়া মেলে না ছাড়পত্র!


সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর ছাড়পত্র নিতে ২০০ টাকা এবং শিশুর হাতে লাগানো ক্যানুলা খুলে দিতে ৫০ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছাড়পত্র আটকে রাখার পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেছেন এক শিশুর মা।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের সাড়ে তিন মাস বয়সী শিশু রিফাত শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। টানা সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ।
রিফাতের মা অভিযোগ করে বলেন, মামুন নামে এক ব্যক্তি আমাদের কাছে ২০০ টাকা চান। আমরা টাকা দিতে চাইনি। কিন্তু টাকা না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। পরে ২০০ টাকা দেওয়ার পর ছাড়পত্র পাই।
এ ছাড়া শিশুটির হাতে লাগানো ক্যানুলা খুলে দেওয়ার জন্যও ৫০ টাকা চাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্টদের আচরণ খারাপ হয়ে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে শিশু ওয়ার্ডের বিল্লালের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তাদের কোনো বেতন নেই, তাই টাকা নেই। তখন জানতে চাওয়া হয় বেতন নেই তো হাসপাতালে আপনারা কেন থাকেন, তার স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মামুনের সঙ্গে কথা হলে তিনিও বলেন, টাকা ছাড়া ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। আমাদের কোনো বেতন নেই, তাই এটা আমরা নিই।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
পরে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অজয় কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রোগীদের কাছ থেকে এভাবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি মাঝেমধ্যে শোনা যায়। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানান তিনি।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ তারা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর সুযোগ বা সাহস পান না, এমন কথাও স্থানীয়ভাবে শোনা যায়। ফলে শিশু ওয়ার্ডে এ ধরনের আরও কেউ ভুক্তভোগী হয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ থাকলেও অনেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে না জানানোর কারণে সব ঘটনা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের কাছ থেকে যারা টাকা নিচ্ছেন, তারা হাসপাতালের কর্মী কি না এবং কার অনুমতিতে সেখানে কাজ করছেন তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরার ধুলিহরে যুব প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ও ফিংড়ি ইউনিয়ন যুব ওবিস্তারিত পড়ুন

বিপিএইচসিডিএ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাথে সাতক্ষীরা জেলা কমিটির মতবিনিময় সভা
বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাথে সাতক্ষীরাবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে কলারোয়ায় মতবিনিময় সভা
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের দাবিতে কলারোয়ায় এক মতবিনিময়বিস্তারিত পড়ুন


