শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

স্বপ্ন বাস্তবে, দৃশ্যমান পুরো পদ্মা সেতু

অবশেষে সত্যি হলো স্বপ্ন। দৃশ্যমান হলো পুরো পদ্মা সেতু। পদ্মা নদীতে এখন দৃশ্যমান পদ্মাসেতুর ৬.১৫ কিলোমিটার।

সংযুক্ত হলো পদ্মার এপাড়-ওপাড়, মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা।

ঘন কুয়াশা, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা নাব্যতা সংকট, এর কোনো একটি হলেই ফেরি ও লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে প্রায়ই ফেরি পারের অপেক্ষায় ঘাটে আটকে থাকতে হয় কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে প্রায় আধাদিন বা একদিন। ফেরির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ঘাটে রোগীর মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটেছে।

পদ্মা সেতুর কারণে এমন চরম ভোগান্তি থেকে অবশেষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার জনগণ।

পদ্মা নদীতে এখন দৃশ্যমান পদ্মাসেতুর ৬.১৫ কিলোমিটার।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয়েছে ৪১তম, অর্থাৎ সর্বশেষ স্প্যানটি। ৪০তম স্প্যান বসানোর ৬ দিনের মাথায় বসানো হলো এ স্প্যান। ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্প্যান বসানোয় ৬ হাজার ১৫০ মিটার সেতুর অবকাঠামো দৃশ্যমান হলো।

গেল ২ মাসে সেতুতে ৮টি স্প্যান বসিয়ে রেকর্ড গড়েছেন দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা। এ মাসেও ২টি স্প্যান স্থাপন করার মাধ্যমে বিজয়ের মাসে স্প্যান বসানোর কাজটি সম্পন্ন হলো।

সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর ৪১তম স্প্যান ‘টু-এফ’ সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান আবদুল কাদের।

এর আগে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ‘তিয়ান-ই’ নামের ভাসমান ক্রেনটি ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটিকে বহন করে রওনা দেয়। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের কাছে পৌঁছায় স্প্যানবহনকারী ক্রেনটি। এরপর নোঙর করার কাজটিও সম্পন্ন করে রাখা হয়েছিল। আর কোনো নৌযান যাতে বাধা তৈরি না করে এর জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যরা বুধবার থেকে সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

পদ্মা সেতুর প্রকৌশলী সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ২ পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে স্প্যান বহনকারী ভাসমান ক্রেনটি পজিশনিং করে। এরপর স্প্যানটিকে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়। তারপর রাখা হয় ২টি পিলারের বেয়ারিংয়ের ওপর। স্প্যানটি বসানোর জন্য ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রকৌশলীদের বেগ পেতে হয়নি। কোনো রকম বাধা ছাড়াই স্প্যানটি বসানোর মাধ্যমে খুশি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। এরপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়েছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ধাপে ধাপে স্প্যান বসতে থাকে। আমাজান নদীর পরই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খরস্রোতা ও প্রমত্তা নদী পদ্মার বুকে দাঁড়িয়েছে পিলার। যাতে বসানো হয় স্প্যানগুলো।

প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, নির্মাণ কাজের শুরুতে মাটির গঠনগত বৈচিত্র‍্য ও গভীরতার ভারসাম্যের তারতম্যের কারণে পিলারের নকশা জটিলতায় পড়েছিল প্রকল্পটি। সবশেষ করোনা পরিস্থিতি প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে গতি কম হলেও একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি কাজ। পদ্মা সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসানো হয়েছে ৪১টি স্প্যান।

এদিকে, ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের শেষ স্প্যানটি বসানোয় বিজয়ের মাসে পদ্মা জয় করলো পদ্মা সেতু। এখন নদীর ওপর দেখা যাচ্ছে ৬ হাজার ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের অবকাঠামো। সেতুর কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, শ্রমিকরাও শেষ স্প্যান বসিয়ে আনন্দিত। চলতি বছর করোনা পরিস্থিতি ও বন্যার কারণে ৪ মাস স্প্যান বসানো হয়নি। পদ্মাপাড়ের সবার চোখে মুখে এখন আনন্দের হাসি।

জানা যায়, পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজন হচ্ছে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব। এর মধ্যে নভেম্বর পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১ হাজার ২৩৯টির বেশি স্ল্যাব। এ ছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। এ পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১ হাজার ৮৬০টির
বেশি স্ল্যাব।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাঠামো। সেতুর ওপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

একই রকম সংবাদ সমূহ

ঢাকার যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যেসব সিদ্ধান্ত

ঢাকা শহরের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়েবিস্তারিত পড়ুন

গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের ৭৪ সদস্যকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের ৭৪ সদস্যকে চাকরিরবিস্তারিত পড়ুন

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ এবং ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশাবিস্তারিত পড়ুন

  • ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • মক্কা চুক্তির বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী
  • কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট যাবে গাবতলীতে
  • লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • অবশেষে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
  • তারেক রহমানের দিল্লি সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ভারতের কাছে?
  • বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার: দিল্লিকে ৪ শর্ত দেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা
  • আইন পেশায় সফলতায় অর্থের পেছনে না ছুটে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান আইনমন্ত্রীর
  • চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় এমওইউ স্বাক্ষর
  • নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
  • রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন
  • রংপুরে চার খুনের আলামত ধুয়েমুছে ফেলা হয়নি: আরএমপি