প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড হবে ‘গেম-চেঞ্জার’


বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পটি বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ড একটি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। বাংলাদেশ গত দুই দশকে দারিদ্র্য হ্রাসে অগ্রগতি অর্জন করলেও চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। দেশে এখনো প্রায় ১৮-১৯ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং চরম দারিদ্র্যে রয়েছে প্রায় ৫-৬ শতাংশ মানুষ।
ফ্যামিলি কার্ড এর মতো এই সামাজিক কর্মসূচি,দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচনের ভিত্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ, পরিবারে পুষ্টির চাহিদা নিশ্চিতকরণ এবং একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস তৈরি হবে, যা সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রমকে এক ছাতার নিচে এনে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে। ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা সহজেই সরকারি সুবিধা পাবে এবং অনিয়ম ও অপচয় কমবে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করতে পারবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব কমে আসবে, কারণ তথ্যভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যেমন ভিজিএফ, ভিজিডি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, খাদ্য সহায়তা ইত্যাদি বিভিন্ন তালিকা ও পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এতে অনেক সময় একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা পান, আবার কেউ কেউ বঞ্চিত হন। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি ইউনিক পরিচিতি তৈরি হবে, যার মাধ্যমে কারা কোন সহায়তা পাচ্ছে তা সহজেই নির্ধারণ করা যাবে। ফ্যামিলি কার্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতিক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় দারিদ্র্য বিমোচন একটি অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এই প্রেক্ষাপটে “ফ্যামিলি কার্ড” উদ্যোগটি দারিদ্র্য নিরসনে একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির স্লোগান রাখা হয়েছে ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। এটি দেশের ১৪টি উপজেলায় (প্রতিটিতে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে) চালু রয়েছে। এই মুহূর্তে প্রায় ৭,১১১ পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী। ২০ এপ্রিল বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ৯১১ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ধাপে ধাপে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে আগামী তিন মাসে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডকে সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ডে রূপান্তর করা হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ কর্মসূচি কেবল একটি সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী নয়, বরং এটি একটি টেকসই অর্থনৈতিক বিপ্লবের রূপরেখা। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরাসরি নগদ অর্থ বা পণ্যসহায়তা যখন নারীর হাতে পৌঁছায়, তখন সেই দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ২-৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রধানমন্ত্রীর এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে একটি সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণ করা, যা দীর্ঘ মেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।
বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ খাদ্য অনিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং আরও বড়ো একটি জনগোষ্ঠী খাদ্য ও পুষ্টির অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করছে। দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটের এই বাস্তবতা পরিবারের ভেতরে সমানভাবে আঘাত হানে না; নারী ও শিশুরাই সাধারণত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আয়ের সংকট দেখা দিলে পরিবারের খাবার কমে গেলে প্রথমে নিজের খাবার কমিয়ে দেন মা, আর পুষ্টির ঘাটতির সবচেয়ে বড়ো বোঝা বহন করে শিশু। দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রায় ২৩ শতাংশ খর্বাকৃতির, যা দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির ফল। খর্বাকৃতি কেবল উচ্চতার সমস্যা নয়; এটি মূলত মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হওয়ার একটি সূচক। জীবনের প্রথম এক হাজার দিনে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে শিশুর মস্তিষ্কের গঠন, স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে স্কুলে শেখার সক্ষমতা কমে যায়, দক্ষতা অর্জন সীমিত হয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে আয় করার সক্ষমতাও কমে যায়। একই সঙ্গে অনেক গর্ভবতী ও প্রজনন-বয়সী নারী অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, যা মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায় এবং জন্মের পর শিশুর অপুষ্টির সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করে। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগটি কেবল একটি সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি উন্নয়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি সমন্বিত কাঠামো হিসেবে ভাবা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড একটি ডিজিটাল পুষ্টি সহায়তা প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করতে পারে যেখানে খাদ্য সহায়তা, পুষ্টি শিক্ষা এবং আচরণগত পরিবর্তন একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোকে শুধু খাদ্য সহায়তা দেওয়া নয়, বরং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের নিশ্চয়তাও দেওয়া সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, আয়রন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ ফর্টিফায়েড চাল ও গমের আটা, ভিটামিন এ ও ডি সমৃদ্ধ ফর্টিফায়েড ভোজ্য তেল, মৌসুমি ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ সবজি, এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য যেমন ডাল।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ ও প্রান্তিক পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব সাধারণত পুরুষের হাতে ন্যস্ত থাকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যে ফ্যামিলি কার্ডের প্রস্তাব দিয়েছেন, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে পরিবারের নারী সদস্যকে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র যখন সরাসরি একজন নারীর হাতে পরিবারের প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেবে, তখন পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সেই নারীর মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। উন্নয়নশীল বিশ্বে নারীরা তাঁদের উপার্জিত বা প্রাপ্ত অর্থের ৯০ শতাংশই পরিবারের পুষ্টি ও শিক্ষার পেছনে ব্যয় করেন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ। তারেক রহমানের এই চিন্তাধারা প্রমাণ করে যে তিনি প্রতিটি ঘরের অন্দরে নারীর ক্ষমতায়নকে স্পর্শ করতে চান। আধুনিক অর্থনীতিতে একে বলা হয় ‘জেন্ডার রেসপনসিভ সোশ্যাল প্রোটেকশন’, যার বাস্তব প্রয়োগ এই ফ্যামিলি কার্ড।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নগদ অর্থ বা খাদ্য সহায়তা সরাসরি পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক নারী প্রধানের হাতে প্রদান করা হবে, যাতে তিনি ধীরে ধীরে সঞ্চয় গড়ে তুলে পরিবারকে আরও আত্মনির্ভর করে তুলতে পারেন।
এই ধরনের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করলে পরিবারগুলো শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের সুযোগ পাবে, যা বিশেষ করে নারী, গর্ভবতী মা এবং ছোট শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পুষ্টি উন্নয়নের জন্য শুধু খাদ্য বিতরণ যথেষ্ট নয়। সচেতনতা এবং আচরণগত পরিবর্তনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফ্যামিলি কার্ডের একটি উদ্ভাবনী দিক হতে পারে কার্ডধারী পরিবারের কাছে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক বার্তা পাঠানো।
দারিদ্র্য বিমোচনের প্রথম ধাপ হলো ক্ষুধার মুক্তি। যখন একটি পরিবার নিশ্চিত জানবে যে তাদের ন্যূনতম খাবারের জন্য চিন্তা করতে হবে না, তখন তারা তাদের অবশিষ্ট শ্রম ও মেধা ক্ষুদ্র শিল্প বা কৃষিতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হলে প্রান্তিক মানুষের মধ্যে সঞ্চয় করার প্রবণতা তৈরি হবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। নারীর ক্ষমতায়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। একজন মা যখন ফ্যামিলি কার্ডের সুফল পাবেন, তখন তিনি তাঁর সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে এবং নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে বেশি সচেষ্ট হবেন।
একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের পরিবারকে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা (ডিরেক্ট ক্যাশ ট্রান্সফার) প্রদান করা হবে। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে সমপরিমাণ মূল্যমানের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে, যার মধ্যে চাল, গমের আটা, ভোজ্য তেল, লবণ, আলু ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে এই ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি খাদ্য সংগ্রহ বা সরবরাহ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে না। এর পরিবর্তে ফ্যামিলি কার্ডধারীরা নির্ধারিত দোকান থেকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যপণ্য ক্রয় করবেন এবং সেই মূল্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি কার্ড থেকে পরিশোধ করা হবে।
এই পদ্ধতির মাধ্যমে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাকেও সক্রিয় রাখা যাবে। পাইলট পর্যায়ে এই দুটি পদ্ধতির বাস্তব অভিজ্ঞতা, মানুষের পছন্দ এবং বাস্তবায়নের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ দ্রুত দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা হবে।
তবে যেকোনো বড়ো সামাজিক কর্মসূচির মতো এখানেও একটি বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে গুজব ও ভুল তথ্যের বিস্তার। ইতিহাস বলছে, যখন কোনো উদ্যোগ দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়ন এবং বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করে, তখন কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করে।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় এমন একটি রাজনৈতিক ধারা ও মতাদর্শও রয়েছে যারা নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান এবং আত্মনির্ভরতার ধারণার বিরোধিতা করে। ফলে এই ধরনের উদ্যোগকে দুর্বল করার জন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে পারে। তাই ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্মসূচিকে সফল করতে হলে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে এবং যেকোনো ধরনের অপপ্রচার বা ভ্রান্ত তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
এই কারণে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা অন্য কোনো গোষ্ঠী যদি গুজব ছড়িয়ে এই কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তবে নাগরিকদের সচেতন ও সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি ভাতা নয়; এটি নারীর মর্যাদা, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা এবং শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত একটি জাতীয় উদ্যোগ।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রবর্তিত ‘ফুড ফর এডুকেশন’ কর্মসূচি লাখ লাখ শিশুকে, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের, স্কুলমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সেই কর্মসূচি শুধু শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়ায়নি, বরং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
আজকের প্রেক্ষাপটে ফ্যামিলি কার্ড সেই ঐতিহ্যেরই একটি আধুনিক রূপ যেখানে খাদ্য সহায়তা, পুষ্টি উন্নয়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন একসঙ্গে অগ্রসর হবে, এবং যার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে। ফ্যামিলি কার্ড কেবল দারিদ্র্য হ্রাসের একটি হাতিয়ার হবে না; এটি হতে পারে একটি নতুন সামাজিক চুক্তি, যেখানে নারীর হাতে শক্তি তুলে দিয়ে একটি সুস্থ, পুষ্টিসমৃদ্ধ এবং আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে এবং নারীকে আত্মনির্ভরশীল করতে ফ্যামিলি কার্ড হতে পারে আধুনিক বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ‘গেম-চেঞ্জার ।
লেখক: সিনিয়র তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নাশকতা ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতেবিস্তারিত পড়ুন

ফ্যাসিবাদের উত্থানের চেষ্টা আর সম্ভব নয়, জনগণ ঐক্যবদ্ধ: রিজভী
ফ্যাসিবাদের উত্থানের চেষ্টা আর সম্ভব নয়, জনগণ ও গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ রয়েছেবিস্তারিত পড়ুন

বিচার নিশ্চিত না করলে মেয়াদ শেষ করতে পারবে না সরকার : নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি
জুলাই হত্যাকাণ্ড ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিসহ বিভিন্ন আলোচিতবিস্তারিত পড়ুন


