শার্শায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বোমা বিস্ফোরণ, হামলা ও ভাঙচুরে ৫ জন গুরুতর আহত


যশোরের শার্শা উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার জিরনগাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে একাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জিরনগাছা গ্রামে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ইবাদুল মোল্লার ছেলে ঈমন মোল্লাকে একই গ্রামের ডাবলু নামের এক ব্যক্তি চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরমে পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। মঙ্গলবার রাতে সাত্তার মোল্লার ছেলে মমিন, রবিউল মোল্লার ছেলে হাসেম, ফারুক মোল্লার ছেলে রবিউল আমিনসহ ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে অন্তত ৫ জনকে গুরুতর জখম করে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করতে হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে অন্তত ৪টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়, যার বিকট শব্দে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন এবং অনেকেই প্রাণভয়ে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
এছাড়া হামলাকারীরা এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারির বাড়িসহ কয়েকটি বসতঘর, দোকানপাট ও আশপাশের স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন, জিরনগাছা গ্রামের আসমাত উললাহর ছেলে মিলন হোসেন (৪৫), সোহরাওয়ার্দী বিশ্বাসের ছেলে দীন মোহাম্মদ (৫০) ও সোহেল (৪০), কাকা বিশ্বাসের ছেলে মিন্টু (৪৮) এবং তোতা মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২২)। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি অভিযোগ করে বলেন, রাতে একদল সশস্ত্র লোক আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং এলাকায় চরম ভীতি সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে আমরা প্রাণভয়ে ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিই। পরে তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় এবং আমরা ঘর থেকে বের না হলে আমাদের ৪টি গরু ও ৩টি ছাগল জোরপূর্বক নিয়ে যায়। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অন্যদিকে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় দলীয় গ্রুপিং নিয়ে বিরোধ চলছিল। মুমিন, যে আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, পরে বিএনপির একটি গ্রুপে যোগ দিয়ে জামায়াতের কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাদের কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে। গরু-ছাগল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বরং আমাদের ওপর হামলার জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তাদের দিক থেকেই বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময় পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

ট্রাভেল পরমিটে দেশে ফিরে অবহেলার শিকার ১৪ বাংলাদেশী
ভারতে বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া ১৪ বাংলাদেশী নারী-পুরুষ ও কিশোর বিশেষ ট্রাভেলবিস্তারিত পড়ুন

শার্শা বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক
যশোরের শার্শায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলী রেজা রাজুবিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশে এসেই দুই দেশ এক করার কথা বললেন নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন,ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর বাংলাদেশেরবিস্তারিত পড়ুন


