রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

সাত মাসে কারা অধিদপ্তরের ১২ জন চাকরিচ্যুত, বরখাস্ত ৮৪

গত সাত মাসে কারা অধিদপ্তরের ১২ জনকে চাকরিচ্যুত, ছয়জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত, ২৭০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি এবং ২৬০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

নানা অনিয়ম, আর্থিক লেনদেনসহ অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

সোমবার (১০ মার্চ) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশিবাজারে কারা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

আর্থিক লেনদেন ব্যতীত কারাগারে বন্দিদের তাদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী খাবারসহ অন্যান্য সুবিধাদি নিশ্চিতের জন্য জেল সুপার এবং ডিআইজিদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, নিয়ম ভঙ্গকারী কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের কোনোরূপ ছাড় দেওয়া হচ্ছে না এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের অতি দ্রুততার সঙ্গে জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে। তারই ফল স্বরূপ সাত মাসে ১২ জনকে চাকরিচ্যুত, ৬ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত, ২৭০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান, বিভাগীয় মামলা দায়ের ২৬০ জনের বিরুদ্ধে, ২৯ জনকে কৈফিয়ত তলব, ২১ জনকে চূড়ান্ত সতর্ক, ৩৯ জনকে তাৎক্ষণিক বদলি এবং ১০২ জনকে প্রশাসনিক কারণে বিভাগের বাইরে বদলি করা হয়েছে।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, কারা সদর দপ্তর নিশ্চিত করছে যে, বর্তমান প্রশাসন প্রমাণসহ যে কোনো ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বিন্দুমাত্র বিলম্ব করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব কারাগারকে স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক হিসেবে গড়ে তুলার লক্ষ্যে বর্তমান প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। ‘রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জেল ডিপার্টমেন্টকে একটি মানবিক সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলার জন্য ইতোমধ্যেই নানামুখী সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

বন্দি ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের নানা কার্যক্রমের ফিরিস্তি তুলে ধরে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- হটলাইন চালু করা, ডিজিটাল ভিজিটর ম্যানেজমেন্ট চালু ও বন্দি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালু করা। যাতে, পিসি ক্যাশ, টেলিফোন কথোপকথন, ক্যান্টিন ম্যানেজমেন্ট এবং বন্দিদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং ধাপে ধাপে তা আর এফ আইডির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে ইত্যাদি।

বাংলাদেশের কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দির অবস্থান একটি সার্বক্ষণিক সমস্যা উল্লেখ করে সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন বলেন, এ ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ (যা মেট্রোপলিটন কারাগার হিসেবে পরিচিত) চালু করা হয়েছে এবং কেরাণীগঞ্জে আরেকটি বিশেষ কারাগার চালুর উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এছাড়া রংপুর, রাজশাহীসহ বেশ কয়েকটি পুরোনো কারাগার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দিদের নিরাপদ উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বন্দিদের কারাগারের বাহিরে যাতায়াত নিরাপদ এবং ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য আধুনিক জিপিএস ট্রাকারযুক্ত এ্যাংকেল ব্যান্ড লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সর্বোপরি কোনো আর্থিক লেনদেন ব্যতীত বন্দিদের তাদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী খাবারসহ অন্যান্য সুবিধাদি নিশ্চিতের জন্য জেল সুপার এবং ডিআইজিদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গকারী কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের কোনোরূপ ছাড় দেওয়া হচ্ছে না এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের অতি দ্রুততার সঙ্গে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে।

এছাড়া প্রশাসনের তৎপরতায় কারাগারে মাদক প্রবেশ করানোর বেশ কয়েকটি উদ্যোগও ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ক্যান্টিন দ্রব্যসামগ্রীর মান এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

বন্দিদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী, খাবার নিশ্চিতের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। কারা হাসপাতালে টাকার বিনিময়ে অবস্থানের সুবিধা কঠোর নজরদারির কারণে বহুলাংশে হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে।

একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে দাবি করে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের অনৈতিক সুবিধাভোগীদের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দ্রুত সংস্কার/পরিবর্তন করা বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তথাপিও কারা বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান তিনি।

তিনি বলেন, সংরক্ষিত এলাকা এবং বর্তমান সময়ে সাবেক মন্ত্রী-আমলা ও আলোচিত ব্যক্তিবর্গ কারাগারে আটক থাকায় কারাগারের প্রতি সবার আগ্রহ অনিবার্য। কারা প্রশাসনকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য অপরাধীরা সব সময়েই সচেষ্ট থাকে, আর তাদের দোসররা বাইরে থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সমাজ/দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালায়।

এজন্য গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা কারাগারের সংস্কারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের চেতনার আলোকে দুর্নীতি ও রাহুমুক্ত কারা প্রশাসন গড়তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কারা উপমহাপরিদর্শক (ঢাকা) জাহাঙ্গীর কবীর, কারা উপমহাপরিদর্শক (সদর দপ্তর) মনির আহমেদ, সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) আবু তালেব, সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও মিডিয়া) জান্নাত উল ফরহাদ সহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একই রকম সংবাদ সমূহ

বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাছাই করেছে মিয়ানমার

মিয়ানমারের জান্তা সরকার শনিবার (১৫ আগস্ট) জানিয়েছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যেবিস্তারিত পড়ুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন ৪ নেতা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে চার নেতাকে সদস্য হিসেবেবিস্তারিত পড়ুন

বিএনপির জনপ্রিয়তার মূল কারিগর খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

বিএনপির জনপ্রিয়তার মূল কারিগর খালেদা জিয়া বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীবিস্তারিত পড়ুন

  • কলারোয়ায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান
  • মন্ত্রিসভা কি বড় বা রদবদল হচ্ছে? কয়েকজনকে নিয়ে আলোচনা
  • ৪৮ বছর বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন যারা, কে কতদিন?
  • বিএনপি ও সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি যারা
  • চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাস লিকেজ: নিহত বেড়ে ৮
  • একযোগে ৭ এএসপি ও ৪৯ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসর
  • ৯০-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক ছিলেন খালেদা জিয়া: রিজভী
  • ১৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে থাকছে সোয়াট-বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট
  • রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল
  • রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা
  • সালাহউদ্দিন স্থানীয় সরকারে ও স্বরাষ্ট্রে এ্যানি
  • মির্জা ফখরুলই হলেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী