বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

১০ টাকায় বিক্রি চাষির পটোল, ২৫-৩০ টাকায় কিনছেন ক্রেতা

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ পাইকারি বাজারে পটোলের দামে চরম ধস নেমেছে। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, শ্রমিকের মজুরিও উঠছে না বলে অভিযোগ করছেন চাষিরা। অন্যদিকে একই পটোল স্থানীয় খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ফলে একদিকে যেমন লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে কৃষকদের, অন্যদিকে অতিরিক্ত দাম গুনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। এতে কৃষক ও ভোক্তা-উভয় শ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

বৃৎস্পতিবার (২৫ জুন) রাজগঞ্জ পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমের ভরা উৎপাদনের কারণে বাজারে পটোলের ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি মাত্র ১০-১১ টাকা দরে পটোল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।
স্থানীয় শাহাপুর-রামপুর গ্রামের পটোল চাষি মো. আব্দুর রহমান বলেন,

“এক বিঘা জমিতে পটোল চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন বাজারে মাত্র ১০-১১ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই দামে বিক্রি করলে খরচ তো উঠছেই না, উল্টো বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

একই গ্রামের আরেক চাষি মো. নুর ইসলাম বলেন, “ক্ষেত থেকে পটোল তুলে বাজারে আনতেই খরচ পড়ে যায়। তারপরও বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছি। কৃষকের কষ্টের মূল্য কেউ দিচ্ছে না।”

এদিকে খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একই পটোল ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

রাজগঞ্জ বাজারের ক্রেতা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “শুনছি কৃষকরা ১০-১১ টাকা কেজি দরে পটোল বিক্রি করছেন। কিন্তু আমরা কিনছি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে। কৃষক যদি ন্যায্য দাম না পায় আর ক্রেতাকেও বেশি দাম দিতে হয়, তাহলে মাঝখানে কারা লাভবান হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

আরেক ক্রেতা গৃহবধু রহিমা বেগম বলেন, “সবজির দাম কমেছে বলে শুনি, কিন্তু বাজারে এসে তার কোনো প্রভাব দেখি না। কৃষকও বঞ্চিত, ক্রেতাও বঞ্চিত-এটা দুঃখজনক।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কৃষক ও ভোক্তার মধ্যকার দীর্ঘ বিপণন শৃঙ্খলে একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে উৎপাদক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ভোক্তাদেরও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দাম।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় অধিক নজরদারি, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করা গেলে এ ধরনের বৈষম্য অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

রাজগঞ্জের কৃষক ও সাধারণ ভোক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে কৃষক ন্যায্য মূল্য পান এবং সাধারণ মানুষও সাশ্রয়ী দামে কৃষিপণ্য কিনতে পারেন।

একই রকম সংবাদ সমূহ

গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের প্রাক্কালে বুলেটে থেমে যায় ক্রিকেটার রিয়ানের স্বপ্ন

নাসিব হাসান রিয়ান। প্রতিভাবান টগবগে যুবক। অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক।বিস্তারিত পড়ুন

মণিরামপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

যশোরের মণিরামপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধানবিস্তারিত পড়ুন

রাজগঞ্জে হোটেলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রি : ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন হোটেল ওবিস্তারিত পড়ুন

  • যশোরের রাজগঞ্জের মোবারকপুরে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর! মিলছে না প্রতিকার
  • মণিরামপুরের জালঝাড়া বাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মৃ*ত্যু
  • শিশু আরাফাতের জীবন বাঁচাতে মানবিক সহায়তার আবেদন
  • যশোরের রাজগঞ্জে বাওড় থেকে ভ্যানচালকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার
  • রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে থেমে নেই যশোরের মনিরামপুরের কৃষকদের কর্মযজ্ঞতা
  • ভবদহ অঞ্চলের ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধ মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ
  • যশোরের মণিরামপুরে পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শনে এমপি এনামুল হক
  • মনিরামপুরে ভারী বর্ষণে সড়কে ধস
  • স্মার্টফোনের যুগেও গ্রামের চায়ের দোকানে টিকে আছে আন্তরিকতার আড্ডা
  • মণিরামপুরে স্কুলশিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
  • রাজগঞ্জের ‘সন্দেশ দাদু’ : সংগ্রাম আর ভালোবাসার এক অনন্য গল্প
  • যশোরের মণিরামপুরের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে পড়া সড়ক ও সেতু পরিদর্শনে এমপি এনামুল হক