তরুণদের ২০ লাখ টাকা ঋণ: আবেদন যেভাবে, ফরম পাবেন যেখানে


তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও সক্রিয় করতে নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগের আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুবিধা পাবেন। মোট অর্থের ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে ব্যাংকঋণ হিসেবে, আর বাকি ৫০ শতাংশ থাকবে অনুদান হিসেবে।
জানা যায়, ৫ হাজার সম্ভাবনাময় মুখ খুঁজে বের করতে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কর্মসূচির আওতায় আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর)। প্রথম পর্যায়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। দেশের অন্যান্য জেলার অন্তর্ভুক্ত উপজেলার উদ্যোক্তারা ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি-উদ্যোগ’–এর বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করে। নীতিমালাটি দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করা, তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়া। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আবেদন ফরম পাবেন যেখানে
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম ডাউনলোড করা যাবে। নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে।
আবেদন করা যাবে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফশিলি ব্যাংকের শাখায়। যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন সনদের কপি; সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কপি; (যদি থাকে); দক্ষতা উন্নয়ন/উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদ (যদি থাকে); ওয়ার্ড কমিশনার/কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিক সনদ।
উদ্যোক্তা খোঁজা ও আবেদন গ্রহণের দায়িত্ব থাকবে তফশিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর ওপর। প্রতিটি উপজেলায় তফশিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর মধ্য থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার আবেদনগুলো উপজেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে এবং জেলার আবেদনগুলো জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে।
তবে নির্বাচিত হলেই ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে না। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে। কোনো উদ্যোক্তার ঋণ আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে ব্যাংককে এর কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
কর্মসূচির আওতায় ব্যবসার ধরন, সম্ভাব্যতা ও প্রয়োজনীয় অর্থের বিষয়ে আবেদনকারীর প্রস্তাব মূল্যায়ন করা হবে। অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা ও প্রস্তাবিত ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
পাবেন সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে একজন নির্বাচিত উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে সবাই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন না। ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণ ও অনুদানের অনুপাত হবে ৫০:৫০। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার নিজস্ব বিনিয়োগ বা অন্য কোনো বৈধ উৎস থেকে পাওয়া অর্থ থাকলেও তা সামগ্রিক অর্থায়ন পরিকল্পনায় বিবেচনা করা হবে।
কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের ব্যবসায়িক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কর্মসূচির আওতায় উদ্যোক্তাদের শুধু অর্থায়ন নয়, ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তাও দেওয়া হবে। প্রত্যেক আবেদনকারীকে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা, বিজনেস প্ল্যান তৈরি এবং বাজার সংযোগের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো পর্যায়ে তদবির করা যাবে না। তদবিরের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক পরিচিতি যাচাই, সিআইবি এবং লেনদেন তদারকি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

‘পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ফেরতের বিষয়ে ভারত সুনির্দিষ্ট জবাব দেয়নি’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারতে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।বিস্তারিত পড়ুন

দিল্লির হাইকমিশনারের অনুমোদন: আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষায় থাকতে বললেন শামা ওবায়েদ
নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত পরবর্তী হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগে ভারতের সম্মতিরবিস্তারিত পড়ুন

২০২৮ সালের আগেই আরেকটি ভাসমান টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ: মাহদী আমিন
শিল্প ও ব্যবসা খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২৮ সাল শুরুরবিস্তারিত পড়ুন


