দিনভর ভোমরা ইউনিয়ন ঘুরে মানুষের খোঁজখবর নিলেন এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক


সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৬ নম্বর ভোমরা ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনার খোঁজখবর নিতে দিনভর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। শোনেন তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়ন প্রত্যাশার কথা।
দিনভর কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি শাখরা-কোমরপুর এলাকার বেউলি ব্রিজসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং জনসাধারণের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।
মতবিনিময়কালে সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক ভোমরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানকে নিজের সন্তানের মতো উল্লেখ করে বলেন, “কৃতি ছাত্র হাবিব আমার একেবারে নিজের সন্তানের মতো। প্রাণ দিয়ে আমি তাকে স্নেহ করি। ছাত্রজীবন থেকেই সে আমাকে দারুণভাবে সম্মান করে। সে আপনাদের যোগ্য একজন সন্তান। আপনারা তাকে লালন-পালন করবেন। ইনশাআল্লাহ, সে আপনাদের সোনার ফসল দেবে।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীতে কেউ নিজে থেকে পদ বা দায়িত্ব দাবি করলে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় না। বরং পরামর্শের ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব চাওয়া যায় না, আর দায়িত্ব দেওয়া হলে তা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোট কারচুপির অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামী ১৬৮টি আসন পাওয়ার মতো অবস্থানে থাকলেও ফলাফল পরিবর্তনের মাধ্যমে দলটিকে পরাজিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা, গরিব-দুঃখী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতা, হাসপাতাল ভাঙচুর, সার বিতরণে অনিয়ম ও সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে এসব বিষয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলার ঘোষণা দেন।
ভোমরা ইউনিয়নের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভোমরা স্থলবন্দরের গুরুত্ব এবং অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে স্থানীয় মানুষের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন এবং চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের জন্য বিশেষভাবে দোয়া চান।
এদিকে, বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোমরা স্থলবন্দরে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন সংসদ সদস্য। এ সময় শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একটি হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। তাঁর ভাষ্য, এ বিষয়ে তিনি সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন। চলতি অর্থবছরের মধ্যে ভোমরায় শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শ্রমিকদের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে দুটি পানির ব্যবস্থা স্থাপন, আধুনিক শৌচাগার ও ওয়াশ ব্লক নির্মাণ এবং বন্দরের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। এ ছাড়া শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়া ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মালিক সমিতি, পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনে জাতীয় সংসদে বিষয়টি তুলে ধরার কথা জানান।
ব্রিজ পরিদর্শনের সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ে অংশ নেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা,দেবহাটা উপজেলা প্রকৌশলী দ্যুতি মন্ডল,
সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মফিজুল রহমান, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোশাররফ হোসেন, সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা অলিউল রহমান, সদর উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য শহিদ হাসান, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ডা. শফিকুল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আনোয়ার কবির, ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি রোকনুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতাকর্মী, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
দিনভর এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়গুলো সরাসরি শোনার পাশাপাশি ভোমরা ইউনিয়নের সার্বিক অগ্রগতি ও জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরায় জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
নিজস্ব প্রতিনিধি : বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় জাতীয় অধ্যাপক ডা. এমবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ৭ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ
সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭বিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় সাইবার বুলিং ও সহিংসতা প্রতিরোধে অংশীজনদের সমন্বয় সভা
জি. এম .আবুল হোসাইন: অনলাইনে সাইবার বুলিং, শোষণ ও নির্যাতনসহ শিশু ওবিস্তারিত পড়ুন


