মমতার বক্তব্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
আরেকটা দেশের পরাজিত নেতার কথা আমাদের আলোচনার বিষয় নয়


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্য করা উচিত নয় বলে মনে করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, আরেকটা দেশে নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে পরাজিত একজন নেতা কথা বলেছে। এটা আমাদের আলোচনার বিষয় নয়।
বুধবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ইঙ্গিত করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? সবটাই জানি।’
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে এরই মধ্যে কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘এখন যদি ভারত সরকার বাংলাদেশকে হাদি হত্যার ব্যাপারে কিছু বলে। অলরেডি এটা নিয়ে কাজ চলছে এবং কাজ এগিয়েছে। খুব সিরিয়াসলি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে।’
‘হাদি হত্যার বিচার আমরা চাই। যারা ধরা পড়েছে ভারতে, তাদেরকে ফেরত এনে এখানে বিচার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট আছি,’ যোগ করেন শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, ‘পাশের দেশে একটা দেশে নির্বাচন হয়েছে। যিনি হেরে গেছেন তিনি বলছেন উনাদের সরকারকে উদ্দেশ্য করে। সেটা নিয়ে বাংলাদেশে মন্তব্য করা উচিত হবে না বলে মনে করি।’
হাদি হত্যার বিষয়ে সরাসরি ভারত সরকারের সঙ্গে কাজ চলছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কালপ্রিটদের ফেরত আনতে হয়, তাহলে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ফেরত আনতে হবে। আমরা কিন্তু কাজ করছি সিরিয়াসলি। কাজ কিন্তু বেশ এগিয়েছে। সুতরাং আমরা ওইদিকেই আগাতে চাই।’
এর আগে মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলে রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাকে গ্রেপ্তার করে।
তবে সে সময় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের স্বার্থে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য তাকে অনুরোধ করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মমতা বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করানো হয়েছিল, কার কার নাম বেরিয়েছিল-সবই জানি।’
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক “রেভল্যুশন” হয়েছিল।…মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে।…আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে।…তারপর হোম মিনিস্টার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজে আমাকে ফোন করে বলেছেন…এত দিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি…আজকে অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে…আমি এখনো নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি…।’
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল,বিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশ সীমান্তে একাধিক আধুনিক স্থলবন্দর করবে ভারত
বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচল আরও সহজ করতে পশ্চিমবঙ্গেবিস্তারিত পড়ুন

মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে বাঙালি মুসলমানদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সীমান্ত দিয়ে বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে কোনো ধরনের আইনিবিস্তারিত পড়ুন


