শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরার সর্বাধুনিক অনলাইন পত্রিকা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বেনাপোলের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে দু’বাংলার মিলন মেলা

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেছেন- ‘সীমান্তে কাটা তারের বেড়া বাংলা ভাষাপ্রেমী মানুষের ভাষাকে রুদ্ধ করতে পারেনা। পারে বিভেদ সৃষ্টি করতে। ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে কাটাতারের বেড়া চান না বাংলাভাষাভাষি মানুষ। এটার সাথেই একাত্মতা প্রকাশ করেন দু দেশের নাগরিক।’

বেনাপোলে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে আরো বলেন- ‘নাগরিকত্ব সব দেশের জনগনের অধিকার। কোন দেশের নাগরিকত্ব হরণ করা সমুচিত নয়।’

বেনাপোল চেকপোষ্টে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে সকাল ১০টার সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে জিরো লাইনের শহিদ বেদীতে ফুল দেয় দু পার বাংলার মন্ত্রী এমপি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল ও ক্রেষ্ট দিয়ে বরণ করা হয়। উন্মোচন করা হয় ২১শের বই।

রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে দু দেশের মধ্যে বিনিময় করা হয় রক্ত।

পরে পৃথক দুটি ভাষা দিবসের মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন দু’পারের হাজার হাজার মানুষ। দু’পার বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের মিলন মেলায় রূপ নেয়। মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় ভাষাপ্রেমীরা।

সীমান্তে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে দু’পার বাংলার কবি শিল্পি সাহিত্যিক জন প্রতিনিধি সহ বাংলার মানুষ সীমান্তে সমবেত হয়। আবেগ আপ্লুত তারা।

আবার এসেছে একুশে ফেব্রুয়ারি; রাষ্ট্র সীমার বিভেদ ভুলে শূন্যরেখায় আবার মিলেছে দুই বাংলার মানুষ। শুক্রবার সকাল থেকেই গান, আবৃত্তি আর দুই বাংলার কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী রাজনীতিবিদ ও সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বেনাপোল আর পেট্রাপোল।

২০০২ সালে ভাষা শহিদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দুই বাংলার ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা-পদ্মা ভাষা ও মৈত্রী সমিতির উদ্যোগে সীমান্তবর্তী প্রায় ২০টি সংগঠন বেনাপোল-পেট্রাপোলের এই মিলন মেলার সূচনা করে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক শার্শা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু বলেন, ‘উনিশ বছরে এসে বেড়েছে এ মিলনমেলার পরিধি; তৈরি হয়েছে আস্থা ও ভালোবাসার বন্ধন।’

এবার দুই বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটি পৃথক পৃথক ভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।

এপারে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সামনে আর ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের রপ্তানি টার্মিনালে তৈরি করা হয়েছে দুটি একুশে মঞ্চ। বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীরা সেই মঞ্চে বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দুই বাংলার মানুষ সীমান্তে মিলিত হয় আলিঙ্গনে মেতে উঠে আড্ডায়-স্মৃতিচারণে। তবে এবার তালিকাভুক্ত ভিআইপি ভিভিআইপি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিক ছাড়া অন্য কাউকে শুন্য রেখায় যেতে দেওয়া হয়নি।

আগে থেকেই নিজ নিজ ভূখন্ডে অপেক্ষায় ছিলেন আয়োজকরা।

ঘড়িতে যখন সকাল ১০টা ৩৫মিনিট, তখন সীমানা পেরিয়ে শুন্যরেখায় পা রাখেন পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের মেন্টর গোপাল শেঠ, দমদম পৌরসভার সিআইপি রিঙ্কু দে দত্তসহ ভারতীয় কবি-শিল্পী-সাংবাদিক সাহিত্যিকদের একটি প্রতিনিধিদল।

আর এপার থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, অতিরিক্ত কাস্টমস কমিশনার ড. নেয়ামুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল জলিল, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্ফর রহমান, সহ কবি-শিল্পী-সাংবাদিক সাহিত্যিকরা।

ফুল দিয়ে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান।

পরে দুই বাংলার মানুষ নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষ থেকে শূন্যরেখায় নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন।

প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘৫২র ভাষা সংগ্রামের পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা এসেছে। এই স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের জনগণ ও সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাই স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক, নাড়ির সম্পর্ক। এ জন্য আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। বাঙালির অর্জনকে দুই বাংলা একসঙ্গে পালন করছি, এটা খুবই গর্বের বিষয়। দুই দেশের সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মৈত্রীতে এটা অনুপ্রেরণা যোগাবে।’

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘আপনারা বাঙালীরা ভাষা ও স্বাধীনতার জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। ভাষা আর স্বাধীনতার জন্য এত ত্যাগের নজির পৃথিবীতে অন্য কোথাও নেই। এ জন্য আপনারা গর্বিত জাতি।’

শার্শার সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, ‘ভাষার জন্য সংগ্রাম করে জীবন দিয়েছেন এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোথাও নেই। একারণে বাঙালি আজ বিশ্বের দরবারে গর্বিত। ভাষা ও ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ দুই দেশের বাংলা ভাষাভাষিদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ভিতকে আরো শক্তিশালী করবে।’
তাই দুই বাংলার মধ্যে শুধু একুশের অনুষ্ঠান নয়, অন্যান্য জাতীয় দিবসেও এরকম অনুষ্ঠান করার কথা আমরা ভাবছি বলে জানান আফিল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সঙ্গীতশিল্পী ক্লোজআপ ওয়ান চ্যাম্পিয়ন সানিয়া সুলতানা লিজা, মোল্লা বাবু, কবি ফকরে আলম, ভৌরব নাট্য গোস্টি সংগীত পরিবেশন করেন।

বনগাঁ পৌরসভার মেয়র শংকর আঢ্য বলেন, ‘নীয়মের বেড়াজালে আটকা আমরা। প্রতি বছর এই দিনের জন্য অপেক্ষায় থাকি দু পারের ভাষাপ্রেমী মানুষেরা। বাংলাভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে শহীদ ভাইয়েরা। আজ একই ভাষার মানুষেরা তারের বেড়া দুরে রেখেছে। এ বেড়া চান না তারা।’

ভাষা ভাগ হয়নি দেশ ভাগ হয়েছে। তাই দুপার বাংলার মানুষ বাধভাঙা জোয়ারের ন্যায় আসছে সীমান্তের অনুষ্ঠানে। উৎসাহ উদ্দিপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ভাষা দিবস।

একই রকম সংবাদ সমূহ

গণহত্যা সনদ মেনে চলার নির্দেশ জারি করল মিয়ানমার সরকার

গণহত্যা সনদ মেনে চলা এবং রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত সব সহিংসতারবিস্তারিত পড়ুন

চরম পরীক্ষা, পাস করতেই হবে

সরকারের জন্য চরম পরীক্ষা। তবে পরীক্ষার ঘণ্টা কেবল বাজতে শুরুবিস্তারিত পড়ুন

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১১২ জন করোনায় আক্রান্ত

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১১২ জন।বিস্তারিত পড়ুন

  • করোনা: এপ্রিল মাস যে কারণে বাংলাদেশের জন্য খুবই ‘ক্রিটিক্যাল’
  • বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ রাষ্ট্রপতির
  • বেনজীর নতুন আইজিপি, র‌্যাবের নেতৃত্বে মামুন
  • যারা কষ্টে আছে তাদের তালিকা করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল মাজেদ ঢাকায় গ্রেফতার
  • সাতক্ষীরার সাবেক এমপি এম এ জব্বার আর নেই
  • জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়কের ওপর সাতক্ষীরায় হামলা।। গ্রেফতার ২
  • ‘সাজা কমে আসা আসামিদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে’
  • করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে এমন এলাকা পুরোপুরি লকডাউনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আগামী ৩০ দিন খুবই সঙ্কটাপূর্ণ, সাবধানে থাকলে জাতি রক্ষা পাবে: স্বাস্থ্য মন্ত্রী
  • মসজিদে জামাতের ক্ষেত্রে ইমামসহ ৫ জনের বেশি নয়, জুমার ক্ষেত্রে ১০ জন
  • আরো বাড়লো আক্রান্তের সংখ্যা, সর্বমোট ১২৩