শনিবার, অক্টোবর ১, ২০২২

কলারোয়া নিউজ

প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

কলম থেকে কলাম..

করোনা স্বেচ্ছাসেবীদের জন্য রাষ্ট্রের করণীয় কি?

করোনা স্বেচ্ছাসেবীদের জন্য রাষ্ট্রের করণীয় কি?

:নাজমুল হক:

করোনা মহামারির এই দুঃসময়ে আলোচিত নাম স্বেচ্ছাসেবক। ২৫ মার্চের লক ডাউন থেকে শুরু করে প্রতিদিনই আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে মানবতার কল্যানে বিবেকের তাড়নায় রাস্তায় নেমে এসেছে মানুষকে সেবা করতে। এটি একদিকে যেমন ভালো লাগার, অন্যদিকে শঙ্কারও বটে। লকডাউন কার্যকরে দিনরাত রাস্তায় পাহারা, বাড়িতে খাওয়ার পৌঁছে দেয়া, জানাযা অংশ, করোনা রোগীর দাফনেও অংশ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবকরা। অতীতে ঝড়, বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করলেও এবার করছে বীরের ন্যায় মৃত্যু শঙ্কার মধ্যে অদৃশ্য এক শক্তির বিরুদ্ধে। যে শক্তির প্রভাবে বিশ্বের অতি ক্ষমতাধর দেশ ধরাশায়ী হয়েছে। ঠিক তখনই এক বুক আশা নিয়ে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই ঝাপিয়ে পড়েছে এক ঝাঁক নিবেদিত তাজাপ্রাণ যুবসমাজ।

করোনা সাধারণ কোনো রোগ নয়; ক্যান্সার এর চেয়েও ভয়াবহতা অনেক বেশি। ক্যান্সার কোনো সংক্রামক ব্যাধি নয়, আর করোনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটাই হচ্ছে একজন থেকে অন্যজনে সংক্রমিত হওয়া। এটি মোকাবিলায় মূল কাজ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেডিকেল কর্মীদেরই করতে হয়, বাকিদের কাজ শুধুই সচেতনতামূলক। নিজেদের যতটা সম্ভব বিচ্ছিন্ন রেখে ও প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়। নিজেরা সুস্থ্য না থাকলে জনসেবা করাটাও মুশকিল। স্বেচ্ছাসেবী কাজ বলতে সাধারণত স্বার্থহীন কাজকে বোঝায়। অনেকটা বাড়ির খেয়ে বনে মেষ তাড়ানো। বাড়ির খেয়ে রেড জোনে সংক্রমনের ঝুঁকি নিয়ে আজ অবধি সেই স্বেচ্চাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

করোনায় দায়িত্বপালন করতে গিয়ে কোন সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারী আক্রান্ত হলে ও মারা গেলে তার জন্য অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। সাধারণ ছুটির সময়েও দেশের সব জেলায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের আহবানে যুবকরা সে¦চ্ছাসেবা দিয়েছে, এখনও দিয়ে যাচ্ছে। আমরা যখন পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটা নিশ্চিন্তে সোফায় বসে টিভি দেখাছি ঠিক তখনই প্রশাসনের সাথে রৌদ্রে-বৃষ্টিতে ভিজে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করছে আমাদের নিরাপদে রাখার জন্য। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন, ভাতা, বোনাস পেলেও স্বেচ্ছাসেবী যুবকরা কি পাচ্ছে?

আগামী দিনের কান্ডারী যুব সমাজ। দেশের সব প্রান্তেই মানবতার সেবকরা করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি নিয়েই স্বেচ্ছাসেবা দিচ্ছে। প্রশাসনও তাদের বিভিন্ন কাজে লাগাচ্ছে। আর এই কাজ করতে গিয়ে একের পর এক করোনার আক্রান্ত হচ্ছে। যাদের তালিকা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু বিনাস্বার্থের পরিশ্রমের এই মহান মানুষগুলো খবর কেউ নিচ্ছে কি? কোন স্বেচ্ছাসেবক আক্রান্ত হলে ভূক্তভোগীর পরিবার ছাড়া পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছে না। প্রতিবেশীরাও বলছে কে বলেছিলো তোমাকে বাড়ির খেয়ে বনের মহিষ তাড়াতে?

সময় এসেছে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ভাবার; কিছু করার। বিশেষ করে যারা এখন শিক্ষার্থী অথচ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে। তারাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কে জানে এই শিক্ষার্থীই একদিন দেশের একজন হবে না। তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। আজকে যারা নিজেদের, পরিবারের কথা চিন্তা না করে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তারা অবশ্যই সমাজের কল্যানকামী মানুষ। অবশ্যই তারা সমাজকে, সমাজের মানুষকে বেশি কিছু দিতে চায়, সেবা করতে চায়। তারা অবশ্যই অন্যায়ের সাথে আপোষ করে না; তারা মানুষকে ঠকায় না।

আমাদের দেশে চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। তাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতার গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকার ৯ম গ্রেডের উপর থেকে সব ধরণের কোটা তুলে দিয়েছে। এখনও অনেক সরকারি চাকরিতে বাবার সুবাধে কোটা পাচ্ছে সন্তান, আছে পোষ্য, আনসার ও ভিডিপি, জেলা, উপজাতি, নারীসহ আরো অনেক কোটা। কিন্তু যারা মানুষের কণ্যানে কাজ করছে তারা কোটা দাবী করলে দোষ কোথায়? চাকরির ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা চারিত্রিক সনদ দেয়, কিন্তু করোনাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে চাল-গম চুরির দায়ে কতিপয় জনপ্রতিনিধির চরিত্রের সনদ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সরকারি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে। কোন দপ্তরে কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী কাজ, সততা, জনসেবা, ছুটিসহ কাজে ফাঁকি না দেয়া প্রভৃতি বিষয় মূল্যায়ন করা হয় শুদ্ধাচারে। কিন্তু যারা চাকরির আগেই মানুষকে সেবা দিচ্ছে তাদের মূল্যায়ন কিভাবে করবো আমরা?

স্থানীয় প্রশাসন বা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উচিৎ করোনাকালীন স্বেচ্ছাসেবীদের ডাটা বেইজ তৈরি করা। যাতে যে কোন দুর্যোগে তাদের সহজে কাজে লাগানো যায়। স্বেচ্ছাসেবীদের জাতীয় পর্যায় থেকে সনদের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে লিখিত উর্ত্তীণের পরে এক পদের বিপরীতে সাধারণ তিন জন বা অধিক প্রার্থীকে ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় মেধার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবার সার্টিফিকেট ধারীদের মূল্যায়ন করতে হবে। তবে দেশ কাজের জন্য নিবেদিত আরো বেশি মানুষ পাবে, শুদ্ধাচার চর্চা আরো অগ্রগামী হবে। করোনার দুর্যোগের স্বেচ্ছাবীরদের মূল্যায়ন দেশ অচিরে করবেই এমন প্রত্যাশা আমারও।

 

লেখক:
নাজমুল হক,
আহবায়ক, স্বপ্নসিঁড়ি, উত্তর কাটিয়া, সাতক্ষীরা।

একই রকম সংবাদ সমূহ

সাতক্ষীরায় ভবনের লবনাক্ততা দূর করার উপায় নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরায় ভবনের লবনাক্ততা দূর করার উপায় নিয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবারবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরায় বাড়িতে ফিরলেন সাফজয়ী মাসুরা, সদর ইউএনও’র অভিনন্দন

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর সাতক্ষীরায় নিজ বাড়িতে ফিরেছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলেরবিস্তারিত পড়ুন

সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের অন্যতম ডিফেন্ডার মাসুরা এখন সাতক্ষীরায়

সাফ জয়ের পর প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরায় এলেন নারী ফুটবল দলের অন্যতম ডিফেন্ডারবিস্তারিত পড়ুন

  • সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত
  • সাতক্ষীরায় বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সেমিনার
  • সাতক্ষীরায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত
  • সাতক্ষীরায় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
  • তালায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন পালিত
  • কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হলেন মনিরুল ইসলাম
  • সাতক্ষীরার ইটাগাছায় ব্র্যাক ইউডিপি’র উদ্যোগে ফুটপাত ও ড্রেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন
  • সাতক্ষীরায় শেখ হাসিনার ৭৬ তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে মাল্টা গাছের চারা বিতরণ
  • সাতক্ষীরায় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে মতবিনিময়
  • সাতক্ষীরার রসুলপুরে তরিকুল স্মৃতি নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত
  • সাতক্ষীরায় এমপি রবিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী শাখার নেতৃবৃন্দরা
  • শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে সাতক্ষীরায় ১০৭টি পূজামন্ডপে নগদ অর্থ বিতরণ- এমপি রবি
  • error: Content is protected !!