তালায় কাবিটা প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, কাজ না করেই বিল তুললেন মেম্বার


তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য মশিয়ার রহমান কাবিটা প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে দেওয়ানীপাড়া বাজার সংলগ্ন পিচের রাস্তা হতে ওহাবের বাড়ি অভিমুখে রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা কোনো কাজ না করেই উত্তোলন করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার ( ২৫ জুন) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে মেম্বার তাদের বলেছিলেন, টাকা এখনো আসেনি; টাকা আসার পর কাজ করা হবে। স্থানীয়রা জানান, বিগত চার-পাঁচ বছরে এই রাস্তায় কোনো কাজ হয়নি।
তারা আরও বলেন, সাধারণত কোনো প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তর থেকে রাস্তা মেপে দেওয়া হয়। কাজ শেষে কাজ শুরুর আগের ছবি ও নেমপ্লেটসহ পরের ছবি জমা দিলে বিল পাশ হওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু মশিয়ার মেম্বার কাজ না করেই কীভাবে বিল তুলে নিলেন—এ প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পিআইও অফিসার ঘুষের বিনিময়ে এই বিল ছেড়ে দিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় পর্যায়ে কাবিটা প্রকল্পে এই কাজের জন্য দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মশিয়ার রহমান কোনো কাজ না করে এবং রাস্তায় কোনো নেমপ্লেট না লাগিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
একটি সূত্র জানায়, টিআর-কাবিটা প্রকল্পের প্রতিটি কাজে দশ থেকে ত্রিশ শতাংশ অর্থ পিআইও অফিসকে ঘুষ দিতে হয়। প্রকল্প মাপজোপের সময় দুই হাজার টাকা, পরিদর্শনে এক হাজার টাকা এবং ফাইল খরচ হিসেবে দেড় হাজার টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে দুই-তিনজন মেম্বারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগির অভিযোগও আছে পিআইওর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, পিআইও অফিসের চুক্তিভিত্তিক অফিস সহকারী সোহেলের মাধ্যমে এই টাকা ভাগবাটোয়ারা হয় এবং সারাদিন আদায়ের পর রাতে আঠারো মাইল এলাকার একটি হোটেলে বসে ভাগ করা হয় বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান টাকা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, “আগামীকাল কাজ শুরু করব এবং একদিনের মধ্যে কাজ শেষ করব।” আড়াই লক্ষ টাকার কাজ একদিনের মধ্যে কীভাবে শেষ করবেন—এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমি যতদূর জানি কাজ শেষ করা হয়েছে। যদি কাজ না করে থাকে বা অনিয়ম করে থাকে, তাহলে আমি নিজেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, “এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়েছে, পরে কাজ করে দেওয়া হবে।” কাজ শেষে পরিদর্শন ও নেমপ্লেটসহ ছবি জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এই প্রকল্পে কেন তা নেওয়া হয়নি—এই প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, “এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

তালায় খাল সংস্কার, পাইপ স্থাপন ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের উদ্বোধন
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় খাল সংস্কার, পাইপ স্থাপন ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের উদ্বোধনবিস্তারিত পড়ুন

সাতক্ষীরার গ্রাহকরা ১ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বাঁচবে ৩০৪ কোটি টাকা
সাতক্ষীরা জেলায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণেরবিস্তারিত পড়ুন

তালায় জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে স্টুডেন্ট ব্রিগেডের সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন
তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার জেঠুয়া জাগরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্কোপ প্রকল্পেরবিস্তারিত পড়ুন


