পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত বাংলাদেশের


পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ককে নিয়ে গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগ দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, নিজেদের স্বার্থ এবং পরিবর্তিত বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে তিন দেশের এই অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে গত ৭ আগস্ট দেশ তিনটি ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে বলা হয়, মিত্র তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি সবকটি দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যার প্রভাব পড়ে বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সমুদ্র বাণিজ্য ব্যাহত হয়।
সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে কার্যকর সম্পর্ক জোরদার করছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত ‘যৌথ প্রতিরক্ষার জন্য মক্কা আল-মুকাররমা শীর্ষ সম্মেলনে’ সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এ চুক্তির ফলে স্বাক্ষরকারী তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি অঞ্চলে ও অঞ্চলের বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথ নিরাপত্তা জোরদারে তাদের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, এ চুক্তিটি কারিগরি দিক থেকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো হলেও এটি ইরান বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়।
ফিদান আরও বলেন, এ চুক্তিটি তিন মিত্র দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক সাধারণ অঙ্গীকার। প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ জোটের পরিধি আরও বাড়াতে চান এবং অন্য দেশগুলোর মধ্যে মিশরকে একটি সম্ভাবনাময় সদস্য হিসেবে দেখছেন।
গত ৯ আগস্ট পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেনেটর ইশাক দার বলেন, চুক্তির মূল নীতিগুলো মেনে চলতে প্রস্তুত এমন সব দেশের জন্য মক্কা চুক্তির দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে।
ইশাক দার স্পষ্ট করেন, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি এবং এটি তিন দেশের বিদ্যমান কোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তিকে বাতিল বা স্থলাভিষিক্ত করে না। সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দেশগুলোর জন্য এই কাঠামো উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই চুক্তি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক ভিত্তির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ইসলামাবাদ তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

জহির উদ্দিন স্বপনের পদত্যাগ, হলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জহির উদ্দিন স্বপন।বিস্তারিত পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন কিনা, যা জানালেন নতুন প্রতিমন্ত্রী
নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, তাড়াহুড়া করে নয়- জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেবিস্তারিত পড়ুন

মন্ত্রিসভায় রদবদল: কে কোন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্বে
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বড়বিস্তারিত পড়ুন


