ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র
৩০০ আসনেই একটি দল প্রচারণা চালাচ্ছে, এমন হলে একসঙ্গে পথচলা কষ্টকর


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, আমরা আশা করছিলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত সেটি হয়নি। তবে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।
তবে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, তিনশ আসনেই একটি দল প্রচার করছে (প্রচারণা চালাচ্ছে), জোটের পক্ষ থেকে তাদের দলের প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। এসব মিথ্যাচার করলে তাদের সঙ্গে সামনে পথচলা কষ্টকর হয়ে যাবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল বৈঠক করে দলের সব স্তরের নেতার মতামত নেওয়া হয়েছে। মাঠের তথ্য নেওয়া হয়েছে, প্রার্থীদের কথা শোনা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আজ মজলিসে আমেলার বৈঠক হয়েছিল। যাদের নিয়ে শুরু থেকে পথচলা, তাদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন যোগাযোগ করছে। ওয়ান বক্স পলিসির আওতায় আগামীর পথচলা কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলমান। দু-একদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
তিনি বলেন, ২০ তারিখ (২০ জানুয়ারি) হলো মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন হলো ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ। তাই না? ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের আগ পর্যন্ত যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।
আসন সমঝোতার আলোচনায় থাকা পাঁচ দল নিয়ে ইসলামি দলের জোট হতে পারে কি না জানতে চাইলে গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমাদের সঙ্গে অনেকেরই, পাঁচ দলের বাইরেও অনেকেরই আমাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। ১২ দলের মধ্যে যারা আছে, এদের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। এর বাইরে আরও আলোচনা হচ্ছে।
এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, এখন পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে অনেকের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কথাবার্তা হচ্ছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অগ্রসর হবে ইসলামী আন্দোলন। যাদের ইসলামী আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তাদের নিয়ে পথ চলবেন তারা।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘোষণা দিয়ে এসেছেন, তারা সামনে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার গঠন করার জন্য আলোচনা করবেন। এই আলোচনা নির্বাচনের পরেও হবে। জাতীয় সরকারের ব্যাপারেও তিনি কথা বলেন। জামায়াতের আমির বলেন- খালেদা জিয়া ঐক্যের যে পাটাতন তৈরি করেছিলেন, সেই ঐক্যের পাটাতনের উপরে দাঁড়িয়ে তারা আগামীতে রাষ্ট্র চালাবেন। তবে সেই ঐক্যের পাটাতন খালেদা জিয়ার জীবদ্দশাতেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেই পাটাতন আবার মেরামত করার জন্য বলছেন জামায়াতের আমির। এটা ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একটু সংশয় তৈরি করেছে, জামায়াত কি জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে কি না।
আসন সমঝোতা নিয়ে বিভাজন বিএনপিকে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে গাজী আতাউর রহমান বলেন, এটা তো স্বাভাবিক। এর দায় কি আমাদের? এখানে যদি কেউ সুবিধা পায় সেটা পাইতে পারে। কারণ রাজনীতি সবসময় একই ধারায় চলে না। এখানে উত্থান-পতন হবে, জোয়ার-ভাটা হবে। কেউ একসময় উৎসাহী হবে, দেখা যাবে তারাই আবার একসময় নিরুৎসাহী হয়ে যাবে। জোয়ার-ভাটা তো আছে এবং গতি সবসময় একরকম থাকে না। একসময় মধ্যমগতি থাকে আবার একসময় দ্রুতগতি হয়, শ্লথ হয়, সবই হয়। তো আশা করি ইনশাআল্লাহ আমাদের ঐক্যের যেই পাটাতনটা আমরা তৈরি করেছিলাম, সেটা রক্ষার চেষ্টা করবো।
নতুন করে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি তো ফিক্সড করে ফেলেছে তাদের জোট এবং তাদের যে ডিজাইন সেটা তো হয়ে গেছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে গাজী আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনি আসন সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা কাউকে বের করে দেওয়ার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। ইসলামী আন্দোলন জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। নানান প্রতিকূলতা থাকলেও ন্যূনতম সমঝোতা যাতে থাকে, ইসলামী আন্দোলন সেই চেষ্টা করবে।
তিনি আরও বলেন, আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে কিছু সংকট আছে, যা অস্বীকারের সুযোগ নেই। কারও চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনকে মেনে নিতে হবে, এই রাজনীতি আমাদের দল অতীতেও করেনি। কেউ ইসলামী আন্দোলনকে অবহেলা করলে সেটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়া যায় না।
বিভিন্ন জনমত জরিপের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, অনেকে সমীক্ষাকে মানদণ্ড ধরেন। এসব জরিপ কারা করছে মানুষ সেটি বোঝে। এগুলো বেইনসাফি করার পথ উন্মুক্ত করছে। এসব ভাঁওতাবাজি জরিপ দিয়ে নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণ করলে সেখানে বিপর্যয় হবে।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন সবার সঙ্গে সম্মান এবং শ্রদ্ধার সম্পর্ক রাখতে চায়। তবে সবাইকে সবসময় একই সঙ্গে পথ চলতে হবে, এমন নয়। যদি পথ ভিন্নও হয়, সুসম্পর্ক যাতে থাকে, সেই চেষ্টা ইসলামী আন্দোলনের থাকবে।
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে এগোতে চেয়েছিল ইসলামী আন্দোলন। সমঝোতার মানে কেউ কারও ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারবে না। সেই পরিবেশ থাকলে আসন কমবেশি নিয়ে সমস্যা থাকতো না। তিনশ আসনেই একটি দল প্রচার করছে, জোটের পক্ষ থেকে তাদের দলের প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব মিথ্যাচার করলে তাদের সঙ্গে সামনে পথচলা কষ্টকর হয়ে যাবে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আ.লীগের উত্থাপিত প্রশ্ন নাকচ জাতিসংঘের
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর পূর্ণ আস্থাবিস্তারিত পড়ুন

ডিএনডি বাঁধ নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩বিস্তারিত পড়ুন

বাড়ছে মেট্রোরেল চলাচলের সময়
যাত্রীদের বাড়তি চাপ ও চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় ২০ মিনিটবিস্তারিত পড়ুন

