ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের জরিপ
৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন


আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের সবশেষ জনমত জরিপ ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)’-এর তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপটির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার। ‘বিআরএআইএন’ এবং ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ নামক দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় এই জরিপটি পরিচালিত হয়।
‘পেপস’-এর তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফল আরও দেখাচ্ছে, এই জরিপের আগের রাউন্ডগুলোয় যারা জামায়াত বা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে ছিলেন, তাদের একটি অংশের সমর্থন বিএনপির দিকে ঘুরে গেছে। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বড় অংশও বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন।
গত বছরের মার্চে পেপসের প্রথম রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল আর দ্বিতীয় রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেওয়া নাগরিকদের নিয়ে টেলিফোনে তৃতীয় রাউন্ডের জরিপ চালানো হয়।
‘পেপস’-এর আজকের অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি জানুয়ারি মাসের ১৬ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ৫ হাজার ১৪৭টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই জরিপের প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। সাক্ষাৎকারদাতাদের বাছাই করা হয় দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম ও শহর এলাকা থেকে। ভোটার উপস্থিতি, গণভোট সম্পর্কে জনমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও দলীয় পছন্দ- এই ছয় বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়।
ওই জরিপের ফলাফলে বলা হয়, ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। জরিপে অংশ নেওয়া ২ দশমিক ৭ শতাংশ নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী কে, তা তারা বলতে পারছেন না।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন।
এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ী প্রসঙ্গে জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন, এই প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম বলেছেন। ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ ব্যাপারে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।
পেপসের রাউন্ড ২-এর তুলনায় রাউন্ড ৩-এ বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই হার বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।
আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বড় অংশই এখন ঝুঁকেছেন বিএনপির দিকে
জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নিষেধাজ্ঞা ও নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এ নির্বাচনে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের। এমতাবস্থায় দলটির বিশাল ভোটব্যাংক কোন দিকে যাবে- তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ছিল।
পেপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।
আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলা কিছু ভোটারের সমর্থনও বিএনপির দিকে ঘুরছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। আবার সিদ্ধান্তহীন মানুষরাও এখন বিএনপিকে বেছে নিচ্ছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে যারা সিদ্ধান্তহীন ছিলেন বা পছন্দ প্রকাশ করেননি, তাদের মধ্য থেকে জামায়াতের তুলনায় বেশি ভোট পেয়েছে বিএনপি। বিএনপির সম্ভাব্য ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটের মধ্যে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে আগে সিদ্ধান্তহীন ও অনির্ধারিত ভোটারদের কাছ থেকে। জামায়াতের সম্ভাব্য ৩১ শতাংশ ভোটের মধ্যে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ এসেছে একই গোষ্ঠী থেকে।
রাউন্ড ৩-এ কিছু জামায়াত সমর্থক তাদের ভোটের পছন্দ প্রকাশ করেননি জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, তুলনামূলকভাবে জামায়াতের ভোটব্যাংকে অস্থিরতা বিএনপির চেয়ে বেশি দেখা যায়। এছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে এনসিপির কিছু ভোট বিএনপির দিকে চলে গেছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
তবে শেষ পর্যন্ত কারা কত ভোট পেতে পারে, এ প্রশ্নে উত্তরদাতাদের মধ্যে যারা তাদের পছন্দ জানিয়েছেন, তারা বিএনপি ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে জানিয়েছেন। জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ ভোট। আর ১৩ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের পছন্দ প্রকাশ করেননি।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ৬০ শতাংশ
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক গণভোট। ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত এই গণভোট নিয়ে জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে ইনোভেশন কনসাল্টিং। তাদের ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে’ (পেপস) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের অধিকাংশ নাগরিক সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
গণভোটের বিষয়ে পেপস প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরদাতাদের প্রায় ৬০ শতাংশ গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, গণভোটের বিষয়ে তারা জানেন না।
গণভোটের বিষয়ে জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা ও মতামতে পার্থক্য দেখার কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আ.লীগের উত্থাপিত প্রশ্ন নাকচ জাতিসংঘের
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর পূর্ণ আস্থাবিস্তারিত পড়ুন

ডিএনডি বাঁধ নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩বিস্তারিত পড়ুন

বাড়ছে মেট্রোরেল চলাচলের সময়
যাত্রীদের বাড়তি চাপ ও চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় ২০ মিনিটবিস্তারিত পড়ুন

