অবশেষে আইসিসিকে দেওয়া বুলবুলের চিঠি নিয়ে মুখ খুলল বিসিবি


বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গত বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান হন। সবশেষ চলতি বছরের এপ্রিলে পদ হারানোর পর থেকেই তিনি সরব। আইসিসিকে পাঠানো ১৪ পৃষ্ঠার এক চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিরুদ্ধে যায় এমন সব বিস্ময়কর দাবি তুলেছেন বলে ক্রিকেটাঙ্গনসহ দেশব্যাপী আলোচনা।
বাংলাদেশকে আইসিসির ফান্ডিং বন্ধ করা, বাংলাদেশের সরকারকে সতর্কবার্তা পাঠানোসহ নানা ব্যাপারে আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন বুলবুল। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার ভিডিও বার্তায় এসব খবরকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বুলবুল। তবে বুলবুলের চিঠিটাই এখন চলে এসেছে প্রকাশ্যে, যেখানে আছে স্বাক্ষরও।
আইসিসিকে দেওয়া বুলবুলের সেই চিঠি নিয়ে বিসিবির পরিচালক সিরাজউদ্দিন আলমগীর বললেন, ‘আসলে এটা যখন আমরা প্রথমে জানতে পারি, আমি কনফিউশন ছিলাম। যে এটা আদৌ কেউ পাঠাতে পারেন কি না। আমি নিজেই সন্দিহান ছিলাম। শুরুতে যা শুনছিলাম, কনফিডেন্ট ছিলাম না সত্য কি না। কিন্তু পরে সেটা আমি দেখেছি, আইসিসিকে পাঠানো সেই মেইলটা।’
পরে বুলবুলের মানসিক ব্যাধি নিয়ে এই পরিচালক বলেন, ‘এটা একটা মানসিক ব্যাধি বলা যায়। বুলবুল ভাইয়ের সঙ্গে এই কাজগুলো যারা করছে তারা মানসিকভাবে সুস্থ আছেন কি না আমি যথেষ্ট সন্দিহান। ক্রিকেট বোর্ড এটা দেখেছে, অবজারভেশন করছে, অফিশিয়ালি দেখছে।’
এর আগে আইসিসির কাছে পাঠানো চিঠিতে ছিল নির্দিষ্ট প্রতিকার উপরোক্ত বিষয়গুলোর পরিপ্রেক্ষিতে, নির্বাচিত বিসিবি নেতৃত্ব তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে সম্মানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে:
বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারি করুন। বাংলাদেশ সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)-এর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশ জারি করা হোক, যাতে তাদের জানানো হয় যে-
(ক) ২০২৬ সালের ৭ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচন, যা একটি অবৈধভাবে গঠিত অ্যাড-হক কমিটির রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ভোটার তালিকার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, তা আইসিসির সংবিধির ২.৪(সি) এবং ২.৪(ডি) অনুচ্ছেদের আরও গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।
(খ) আইসিসি ২০২৬ সালের ৭ জুন নির্বাচিত কোনো বোর্ডকে বিসিবির বৈধ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।
(গ) আইসিসি নির্বাচিত বোর্ডকে অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি জানায়।
(ঘ) আইসিসি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্বাচিত বোর্ডকে পুনর্বহাল করা না হলে, আইসিসি সংবিধানের ২.১০(এ) অনুচ্ছেদের অধীনে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। এর মধ্যে বিসিবির পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত করা, আইসিসির অর্থায়ন স্থগিত করা এবং বাংলাদেশের দলগুলোকে আইসিসির সব প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত আইসিসির অর্থায়ন স্থগিত করুন
বিসিবির জন্য বর্তমানে প্রাপ্য বা ভবিষ্যতে প্রদেয় আইসিসির সব ধরনের অর্থায়ন এসক্রো (শর্তসাপেক্ষে আটকে রাখা) অ্যাকাউন্টে রাখা অথবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হোক, যতক্ষণ না—
(ক) আইসিসি নির্ধারণ করে যে, বিসিবির বৈধ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ কে;
(খ) নির্বাচিত বোর্ড পুনর্বহাল হয় অথবা আইসিসির ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটি (DRC) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়;
(গ) বাংলাদেশে চলমান সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়।
এছাড়া, ২০২৬ সালের ৭ জুনের (বিসিবি) নির্বাচনের ভিত্তিতে যে কোনো সংস্থা যদি নিজেদের বিসিবির কর্তৃপক্ষ বলে দাবি করে, তাহলে তাদেরকে আইসিসির কোনো অর্থায়ন করা উচিত নয়।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

‘অন্য দেশের সরকারপ্রধানকে বসিয়ে রেখে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন শি জিনপিং’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেবিস্তারিত পড়ুন

দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি: মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী
মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি বলে মন্তব্যবিস্তারিত পড়ুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকার আশপাশ দিয়ে মাদকের বড় চালান আসে: সংসদে গয়েশ্বর
দেশের মাদকের সবচেয়ে বড় চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকার আশপাশ দিয়ে আসে বলে মন্তব্যবিস্তারিত পড়ুন


