মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

রয়টার্সের প্রতিবেদন : জেন–জি প্রভাবিত বিশ্বের প্রথম নির্বাচন বাংলাদেশে

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাচনের সময় রাজপথে বিরোধীদের উপস্থিতি ছিল প্রায় অনুপস্থিত। কখনো নির্বাচন বর্জন, কখনো শীর্ষ নেতাদের গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে তাদের কোণঠাসা করা হতো। তবে আসন্ন বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ। এই প্রেক্ষাপটে অনেক তরুণ, যারা ওই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, বলছে—২০০৯ সালের পর এবারই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন একটি জোট শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ৩০ বছরের নিচের জেন-জি কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি নতুন রাজনৈতিক দল, যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিল, নির্বাচনী ভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে জানান, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার দল সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আত্মবিশ্বাসী।

বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্পষ্ট ও শক্তিশালী রায় পাওয়া দেশটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার পতনের পর কয়েক মাসের অস্থিরতায় দেশের প্রধান শিল্পখাত—বিশেষ করে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানি খাত—ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই নির্বাচনের ফলাফল শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, বাংলাদেশে আঞ্চলিক শক্তি চীন ও ভারতের প্রভাবকেও প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, ‘মতামত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও এখনো বিপুলসংখ্যক ভোটার অনিশ্চিত। বিশেষ করে জেন-জি ভোটাররা—যারা মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ—ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।’

দেশজুড়ে এখন চোখে পড়ছে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ এবং জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পোস্টার ও ব্যানার। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দলীয় কার্যালয় থেকে ভেসে আসছে প্রচারসংগীত। অতীতে যেখানে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীক সর্বত্র আধিপত্য বিস্তার করত, এবার তার অনুপস্থিতি স্পষ্ট।

একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামী এবার উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে পারে বলে জরিপে ইঙ্গিত মিলছে, যদিও দলটি সরকার গঠনে নাও আসতে পারে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এই দলটির পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এখন ভোটারদের কাছে একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ভারতঘেঁষা রাজনীতি করায় তার পতনের পর ভারতের প্রভাব কিছুটা কমেছে এবং সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে চীন। বিএনপিকে তুলনামূলকভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহী মনে করা হলেও, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার এলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জামায়াতের জেন-জি মিত্র দল ইতোমধ্যে ‘নয়া দিল্লির আধিপত্য’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তাদের নেতারা সম্প্রতি চীনা কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। যদিও জামায়াত দাবি করছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি ঝুঁকতে চায় না।

অন্যদিকে, বিএনপির তারেক রহমান বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় এলে যেকোনো দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে, যারা বাংলাদেশের জনগণ ও দেশের স্বার্থে উপযোগী প্রস্তাব দেবে।

১৭৫ মিলিয়ন মানুষের দেশ বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট ও বিনিয়োগ হ্রাসের মুখে। এসব কারণে ২০২২ সাল থেকে দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থায়ন নিতে বাধ্য হয়েছে।

ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর এক জরিপে দেখা গেছে, ১২৮ মিলিয়ন ভোটারের প্রধান উদ্বেগ দুর্নীতি, এরপর মূল্যস্ফীতি। ধর্মীয় ইস্যুর চেয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা।

প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ২১ বছর বয়সী মোহাম্মদ রাকিব বলেন, “মানুষ আওয়ামী লীগে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। ভোট দেওয়ার অধিকারই ছিল না। আমি আশা করি, নতুন সরকার—যেই আসুক—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।”

সূত্র: রয়টার্স

একই রকম সংবাদ সমূহ

শাহজালালে সড়ক দুর্ঘটনা, বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীরবিস্তারিত পড়ুন

নীতিমালা জারি: ৮ শ্রেণির মানুষ পাবেন না ফ্যামিলি কার্ড

দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতেবিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’বিস্তারিত পড়ুন

  • সাগর-রুনি হত্যায় এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততার তথ্য মিললো : চিফ প্রসিকিউটর
  • ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
  • নতুন দায়িত্বে হুমায়ুন কবির
  • শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিপরিষদে বিশেষ কমিটি : শিক্ষামন্ত্রী
  • স্থানীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থাকতে ও একক প্রার্থীর ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর
  • নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর গুম: প্রধানমন্ত্রী
  • চোখ বেঁধে সীমান্ত দিয়ে শিলং, পরে পাগল ভেবে হাসপাতালে নেয়া হয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ঢাকার যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যেসব সিদ্ধান্ত
  • গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের ৭৪ সদস্যকে চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী
  • গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
  • ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট যাবে গাবতলীতে