রাজগঞ্জে তেল সংকটে ভোগান্তি পেশাদার ও স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি


যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় চলমান অকটেন-পেট্রোল সংকট ক্রমেই চরম আকার ধারণ করেছে। দিনমজুর, চাকরিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা পেশাদার চালকদের এখন সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় পেশাদার মোটরসাইকেল চালকদের তালিকা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের দাবি জোরদার হয়েছে স্থানীয়ভাবে।
রাজগঞ্জ বাজারের ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তায় থাকি। যাত্রী নিয়ে ঘুরি, এটাই আমাদের একমাত্র রুজি। কিন্তু তেল নিতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অপেশাদার চালকদের ভিড়ে আমরা পেশাদাররা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছি।”
একই এলাকার আরেক পেশাদার চালক আরিফ হোসেন জানান, “যারা শুধু আড্ডা বা তাংভাং করার জন্য বাইক চালায়, তারাও লাইনে দাঁড়ায়। অথচ আমাদের সংসার চলে প্রতিদিনের আয়ের ওপর। পাম্প কর্তৃপক্ষ যদি পেশাদারদের আলাদা লাইন করে দেয়, তাহলে আমাদের সুবিধা হয়।”
স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মিজানুর রহমান মনে করেন, সংকট সময়ে প্রয়োজনীয় মানুষকে আগে সুবিধা দেওয়াই যৌক্তিক। তিনি বলেন, “শিক্ষক, চাকরিজীবী বা জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে পুরো অঞ্চলের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পেশাদার চালকদের অগ্রাধিকার দিলে বিশৃঙ্খলাও কমে আসবে।”
রাজগঞ্জ বাজার কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের একজন আব্দুস সাত্তার বলেন, “সংকট যখন তীব্র, তখন তেল বিতরণের একটি নীতিমালা থাকা উচিত। পুলিশ প্রশাসন চাইলে খুব সহজে পেশাদার মোটরসাইকেল চালকদের পরিচয় যাচাই করতে পারে। এতে পাম্পে অযথা ভিড়, তর্কবিতর্ক ও বিশৃঙ্খলারও অবসান হবে।”
পাম্প মালিকপক্ষের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে তেল দিতে। কিন্তু অপেশাদার চালকদের কারণে অনেক সময় পাম্প এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রশাসন এ বিষয়ে সহযোগিতা করলে আমরা পেশাদারদের অগ্রাধিকার দিতে প্রস্তুত।”
স্থানীয়রা জানান, রাজগঞ্জে প্রতিদিন ভোর থেকেই পাম্পে তেল নিতে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। তীব্র ভিড়ের ফলে কথা-কাটাকাটি, ধাক্কাধাক্কি এমনকি কখনও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, রাজগঞ্জ অঞ্চলের পেশাদার মোটরসাইকেল চালকদের জন্য পৃথক লাইন বা দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং দুর্ভোগ কমবে। এছাড়া দেখা গেছে, রাজগঞ্জ পাম্পে তেল নিতে সাতক্ষীরা, কলারোয়া উপজেলার লোকজন আসছে। তারা একবার তেল নিয়ে ঘুরে আরেক বার লাইনে দাড়িয়ে তেল নেয়। এইভাবে ৩ থেকে ৪ বার তেল নিচ্ছে। এই তেল নিয়ে তারা বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ আছে।
এজন্য দাবী উঠেছে- স্থানীয়দের অর্থাৎ রাজগঞ্জ এলাকার মানুষের তেল নিতে এনআইডি কার্ড আনতে হবে। এতেই প্রমানিত হবে তেল নিতে আসা ব্যক্তি কোন এলাকার। সামগ্রিকভাবে রাজগঞ্জবাসীর দাবি- জরুরি পেশাজীবী ও ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

‘২৫ জিবি ফ্রি ইন্টারনেট’ অফারের ফাঁদে নতুন প্রতারণা, ওটিপি দিলেই ঝুঁকিতে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ
“২৫ জিবি প্রিমিয়াম ডেটা একদম ফ্রি”, “সব মোবাইল সিম ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষবিস্তারিত পড়ুন

মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ দ্রুত প্রদানের দাবি
হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের প্রদত্ত উপবৃত্তির অর্থবিস্তারিত পড়ুন

মনিরামপুরে বাবার বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর রহস্যজনক মৃত্যু, সন্দেহের তীর স্বামীর দিকে
হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : যশোরের মনিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামে পাঁচবিস্তারিত পড়ুন


