পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফল নিয়ে স্ক্রলের বিশ্লেষণ
১০৫ আসনেই বিজেপির জয়ে এসআইআরের ‘প্রভাব’


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক জয়ে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে ভোটের ফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই।
এ নিয়ে নানা মহলে যখন নানামুখী আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে, সেই মুহূর্তে সংবাদ মাধ্যম ‘স্ক্রল’-এর এক বিশ্লেষণ বলছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয় পেয়েছে এমন ১০৫টি আসনেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের মোট সংখ্যা দলটির জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ১০৫টি আসনের মধ্যে ৮৬টি আসনেই বিজেপি এর আগে কখনো জয়লাভ করেনি।
গত এপ্রিলের শেষ দিকে দুই দফায় ভোট গ্রহণের পর গত সোমবার প্রকাশিত হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল। এতে দেখা গেছে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রায় ৯১ লাখ নাম বাদ পড়ে। এটি রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। স্ক্রল-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ৯১ লাখ ভোটারের মধ্যে অন্তত ২৭ লাখ ভোটারের ভাগ্য এখনো বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিবেচনাধীন। নির্বাচনি ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া বা ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ কাজ করেছে। এর ফলে তৃণমূল কংগ্রেস গতবারের ২১৫টি আসন থেকে নেমে মাত্র ৮০টি আসনে এসে ঠেকেছে। তবে এই পরাজয়ের পেছনে এসআইআর প্রক্রিয়াটি বড় ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে। ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ফলাফল এবং কলকাতাভিত্তিক পাবলিক পলিসি রিসার্চ সংস্থা ‘সাবার ইনস্টিটিউট’-এর তথ্যের ভিত্তিতে স্ক্রল দেখিয়েছে যে, বিজেপি যে ১০৫টি আসনে জিতেছে, সেখানে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে ভোটার ছাঁটাইয়ের পরিমাণ ছিল বেশি। এই ১০৫টি আসন বিজেপির মোট জয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ।
উদাহরণ হিসেবে বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস আসনের কথা বলা যেতে পারে। ২০২১ সালের নির্বাচনেও বিজেপি এখানে জিতেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে বিজেপির চেয়ে ৯ হাজার ভোটে এগিয়ে যায়। এরপর এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কেন্দ্র থেকে ৭ হাজার ৫১৫ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়। গত সোমবারের ফলাফলে দেখা গেছে, বিজেপি এই আসনে মাত্র ৯০০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। এমনকি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হেরেছেন, যেখানে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল ৫১ হাজারেরও বেশি নাম।
স্ক্রলের এই বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দেয়, তৃণমূলের ১২৯টি আসন ছিনিয়ে নিয়ে বিজেপির এই বিশাল জয়ের পেছনে ভোটার তালিকার এই বড় পরিবর্তনটি একটি শক্তিশালী প্রভাবক হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল,বিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশ সীমান্তে একাধিক আধুনিক স্থলবন্দর করবে ভারত
বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচল আরও সহজ করতে পশ্চিমবঙ্গেবিস্তারিত পড়ুন

মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে বাঙালি মুসলমানদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সীমান্ত দিয়ে বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে কোনো ধরনের আইনিবিস্তারিত পড়ুন


