‘ভিআইপি’ সুবিধায় ক্ষোভ-উত্তেজনা
শার্শায় তেল সংকট চরমে: ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে সাধারণ মানুষ


যশোরের শার্শা উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এখন জনজীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত তেল। তার ওপর ‘ভিআইপি’ সুবিধার অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, একদিকে সীমাহীন ভোগান্তি, অন্যদিকে প্রভাবশালীদের বিশেষ সুবিধা সব মিলিয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও অসন্তোষের পরিবেশ।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, তেল সংগ্রহের জন্য শত শত মানুষের দীর্ঘ লাইন। ট্রাক, ট্রাক্টর ও প্রাইভেট কারের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। অনেকেই ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। তীব্র গরমে ৪-৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার কারণে অনেক চালক শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এমন অবস্থায় পাম্প কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও ধীরগতির সেবা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
ভুক্তভোগী আহসান কবির জানান, সাধারণ মানুষ নিয়ম মেনে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি কোনো ধরনের নিয়ম না মেনেই সরাসরি তেল নিয়ে চলে যাচ্ছেন। এতে করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, এই বৈষম্যমূলক আচরণে সাধারণ মানুষের প্রতি চরম অবহেলা প্রকাশ পাচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ সাধারণ মানুষকে লাইনে আটকে রাখলেও পরিচিত বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নমনীয় আচরণ করছে এবং তাদের দ্রুত তেল নিতে সহযোগিতা করছে। এতে করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
লাইন দাঁড়িয়ে থাকা এক ক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা টানা ৪ ঘণ্টা রোদে পুড়ে দাঁড়িয়ে আছি, তবুও তেল পাচ্ছি না। অথচ কিছু লোক এসে প্রভাব খাটিয়ে সবার আগে তেল নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই।
ফিলিং স্টেশন চত্বরে সৃষ্ট এই বিশৃঙ্খলা নিরসনে পাম্প কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তেল সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট, যা জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী চালকরা বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন অবিলম্বে তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে, সিরিয়াল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জোরদার করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তেল বিতরণে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, সে যেই হোক, তাকে সাধারণ মানুষের কাতারেই দাঁড়িয়ে তেল নিতে হবে। কেউ যদি নিয়ম ভঙ্গ করে বা স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেয়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, উপজেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিতরণে সৃষ্ট সাময়িক সংকট নিরসনে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে যাতে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে তেল বিতরণ নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য ইতোমধ্যে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। ‘ভিআইপি’ সুবিধা বা স্বজনপ্রীতির কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

ট্রাভেল পরমিটে দেশে ফিরে অবহেলার শিকার ১৪ বাংলাদেশী
ভারতে বিভিন্ন সময়ে আটক হওয়া ১৪ বাংলাদেশী নারী-পুরুষ ও কিশোর বিশেষ ট্রাভেলবিস্তারিত পড়ুন

শার্শা বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক
যশোরের শার্শায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলী রেজা রাজুবিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশে এসেই দুই দেশ এক করার কথা বললেন নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন,ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর বাংলাদেশেরবিস্তারিত পড়ুন


