সোমবার, আগস্ট ৩, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

অনাবৃষ্টির মধ্যে নানা শঙ্কায় শুরু হয়েছে সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম

সুন্দরবনের মধু আহরণ মৌসুম শুরু হয়েছে। চলতি বছর অনাবৃষ্টির মধ্যে নানা শঙ্কায় শুরু হয়েছে মধু আহরণ। ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত। পূর্ব ও পশ্চিম বনবিভাগের দু’টি রেঞ্জ থেকে এ লক্ষ্যে মৌয়ালদের মধ্যে পাস-পারমিট দেওয়া শুরু হয়েছে।

বনবিভাগের পক্ষে চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৪৫০ কুইন্টাল মধু ও ৭১৫ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বৃষ্টিহীনতায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন মৌয়ালদের পাশাপাশি বনসংশি¬ষ্টরা। বৃষ্টিহীনতায় নানা আশংকাকে সামনে রেখে মৌয়ালরা বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে ছুটছেন সুন্দরবনে মধুর খোঁজে।

বাগেরহাট পুর্ব সুন্দরবন বিভাগের দেয়া তথ্যমতে জানা যায়, এ বছর ১ হাজার ৪০০ কুইন্টাল মধু এবং ৪৫০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৩০০ কুইন্টাল মোম। ওই বছর আহরণ হয়েছিল ১ হাজার ২২০ কুইন্টাল মধু ও ৩৬৬ কুইন্টাল মোম।

পুর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, সংশি¬ষ্ট বন অফিস থেকে ১৪ দিনের পাস-পারমিট নিয়ে মৌয়ালরা বনে প্রবেশ করছে। এর আগে তাদের অনুর্ধ্ব ২০০ মণ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈধ বিএলসি ধারী নৌকার মালিকানাসহ নানা শর্ত বা নির্দেশনা রয়েছে।

নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে বন আইনে শাস্তির বিধান রেখে ৯ টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মৌয়ালদের। এর মধ্যে সংরক্ষিত অভয়ারণ্য এলাকা থেকে মধু আহরণ করা যাবে না। মৌয়ালদের কেউ নিষিদ্ধ বনাঞ্চলে প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিক তার পারমিট বাতিল করা হবে। এ ছাড়া মধু আহরণে মৌমাছি তাড়াতে অগ্নিকু- মশাল বা অনুরূপ কোনো দাহ্য পদার্থ এবং রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন না। মৌয়াল ও বনসংশি¬ষ্টরা জানান, মৌসুমের শুরুতে খলিশা ফুলের মধু আসে। এর পর আসে গরাণ এবং সর্বশেষ আসে কেওড়া ফুলের মধু। খলিশার মধু সবচেয়ে দামি।

সুন্দরবনে মৌসুমে মধু কম-বেশি হওয়া অনেকটা বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে। চলতি বছর এ অঞ্চলে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। আর বৃষ্টি না হলে ফুলে মধু জমে না। ফুল শুকিয়ে ঝরে যায়। তাই এবছর মধু কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন মৌয়ালরা।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, এ বছর সুন্দরবনে ১ হাজার ৪শত কুইন্টাল মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ খাত থেকে বনবিভাগ ১০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করবে। গত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে সুন্দরবনে এক হাজার দুইশত বিশ কুইন্টাল মধু সংগ্রহ এবং ৯ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছিলো বলে ডিএফও জানান।

সুন্দরবনের পশ্চিম বনবিভাগ সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) এম এম হাসান মধু আহরণ মৌসুমের উদ্বোধন করেন। আগামী ১৫ই জুন আড়াই মাসব্যাপী মৌয়ালরা সুন্দরবনে নির্দিষ্ট এলাকায় মধু আহরণ করতে পারবেন।

তিনি জানান, চলতি বছর মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৫০ কুইন্টাল এবং মোম ২৬৫ কুইন্টাল নির্ধারিত হয়েছে। প্রতি কুইন্টাল মধু আহরণের জন্য ৭৫০ টাকা এবং প্রতি কুইন্টাল মোম ১ হাজার টাকা হারে রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৪টি স্টেশন বুড়িগোয়ালিনী, কোবাদক, কদমতলা ও কৈখালী ফরেস্ট স্টেশন থেকে পাস পারমিট দেওয়া শুরু হযেছে। ইতিমধ্যে নির্বিঘেœ মধু আহরণে মৌয়ালদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. আবু নাছের মোহসিন হোসেন জানান, ফরেস্ট স্টেশন থেকে মৌয়ালীদের ১ এপ্রিল থেকে পাস পারমিট দেওয়া শুরু হয়েছে ১৫ জুন পর্যন্ত মধু আহরণ চলবে। মৌয়ালদের সঠিক নিয়ম মেনে মধু আহরণ করার দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সব থেকে দুটি বিষয়ের উপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চাক থেকে মধু আহরণ করার সময় মৌচাকের কিছু অংশ রেখে চাক কাটতে বলা হয়েছে।

সম্পূর্ণ চাক কোন ভাবে কাটা যাবে না। তাছাড়া মৌয়ালদের একটি দল যখন বনে মৌ চাক খুঁজতে থাকে তখন তাদের চোখ গাছের দিকে থাকে এ সময় বাঘের আক্রমণ থেকে সতর্ক থাকতে দলের দুই জনকে চারিদিকে নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় মধু আহরণ হলে প্রায় ৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মধূ আহরণকারী মৌয়ালদের সাথে কথা বলে জানাযায়, প্রতিটি নৌকা প্রস্তুত করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হবে। প্রতিটি নৌকায় ১০/১২ জন মৌয়াল থাকেন। প্রতি জন মৌয়ালের মৌসুমে খরচ হয় ১২/১৫ হাজার টাকা। গত বছর একেক জন মৌয়াল প্রায় ২ মণ করে মধু পান। প্রতিমণ মধূ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তবে এবার বৃষ্টি নেই। তাই মধু কেমন হবে তা নিয়ে রীতিমত আশংকার মধ্যেই মধূ আহরণে যাচ্ছেন তারা।

অধিকাংশ মৌয়ালদের নিজস্ব পুঁজি না থাকায় মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়েই বনে যান তারা। তবে বৃষ্টিহিনতায় অনেক মহাজন এবার পুঁজি বিনিয়োগে ঝুঁকি নেননি। তাই অনেকেই রয়েছেন নানামুখী সংকটে।

একই রকম সংবাদ সমূহ

সুন্দরবনে বাঘ ও বন রক্ষায় মুন্ডা সম্প্রদায়ের সংহতি: বিশ্ব বাঘ দিবসে শ্যামনগরে র‍্যালি ও সহাবস্থান সংলাপ

বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সুন্দরবন সংলগ্ন প্রান্তিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সক্রিয়বিস্তারিত পড়ুন

বিশ্ব বাঘ দিবসে র‌্যালি এবং মানুষ-বাঘ সহাবস্থান সংলাপ

ফারুক রহমান, সাতক্ষীরা: “আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রে রেখে বাঘের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিতবিস্তারিত পড়ুন

নিরাপদ পানীয় ষজল ব্যবহারে মাটির মেটে বিতরণ

উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয়জল সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা গড়েবিস্তারিত পড়ুন

  • শ্যামনগরে উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ কমসূচি উদ্বোধন
  • শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি অনুমোদন
  • শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাশিদুল, সেক্রেটারি আমিনুর
  • গাজী নজরুলের আরেকটি ভিডিও ভাইরাল, ‘নতুন তরুণীকে’ ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে
  • গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিইসি ও স্পিকারকে জামায়াতের চিঠি
  • নৈতিক স্খলন প্রমাণিত: গাজী নজরুল ইসলাম এমপিকে বহিষ্কার করলো জামায়াত
  • শ্যামনগরে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
  • শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশে জামায়াতের এমপি নজরুলের ছবিতে জুতাপেটা
  • জামায়াত এমপির লিকড ফুটেজটি ২০২৬’র নির্বাচনের পরের : ডিসেন্টের ফ্যাক্ট চেক
  • বায়োডাটায় এখনো ‘অবিবাহিত’ জামায়াত এমপির কথিত ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’
  • গাজী নজরুলের বিষয়ে আরও খোঁজ-খবর নিয়ে সাংগঠনিক পদক্ষেপ
  • পানির অধিকার নিয়ে দেশের প্রথম উপকূলীয় পানি সংসদ