যশোরের মণিরামপুরে দেড় মাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৯ জনের মৃত্যু


যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। গত দেড় মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই মাছের ঘেরে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক মোটর পরিচালনার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে মাছের ঘেরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন নাকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির ঘাটতি-এসব বিষয় নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- সর্বশেষ গত ৭ জুলাই উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামে নিজের মাছের ঘেরে বৈদ্যুতিক মোটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান আব্দুর রহিমের ছেলে জিয়াউর রহমান (৪৬)।
এর আগে ২৮ জুন হাজরাকাটি গ্রামের সাজ্জাত আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান (৩০) নিজ মাছের ঘেরে বৈদ্যুতিক মোটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। ২৫ জুন শ্যামকুড় গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে লিয়াকত গাজী (৬০) নিজ পুকুরে পানি সেচ দেওয়ার সময় বৈদ্যুতিক মোটরের তারে জড়িয়ে প্রাণ হারান।
৮ জুন মাছের ঘেরে কাজ করার সময় বৈদ্যুতিক মোটরের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার শ্রমিক মোফাজ্জেল হোসেন (৪০)। ২৫ মে ঝাঁপা গ্রামের মৃত এরশাদ আলীর ছেলে কামরুজ্জামান (৪৫) রাইস কুকারে ভাত রান্না করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
এ ছাড়া বিদ্যুৎচালিত রড কাটার মেশিন পরিচালনার সময় হানুয়ার গ্রামের আব্দুল গাফ্ফার (৫৫), ১৫ মে ধানঝাড়া মেশিনে কাজ করার সময় সালামতপুর গ্রামের রাহাতজান আলীর ছেলে মুনছুর আলী, ১৬ মে আম পাড়তে গিয়ে খোঁজালিপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৫) এবং মাছ ধরতে গিয়ে ঘেরপাড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মাছনা গ্রামের আব্দুস সাত্তার গাজী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
একের পর এক এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি- মাছের ঘেরে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সংযোগের বৈধতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিঠু কুমার বলেন- এ বিষয়ে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (যপবিস-২)-এর জেনারেল ম্যানেজার বিস্তারিত বলতে পারবেন।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. হাদিউজ্জামান বলেন- এ ধরনের মৃত্যুর খবর আমাদের জানা নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার পর অভ্যন্তরীণ সংযোগের নিয়মিত তদারকি আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

খাদ্যের সন্ধানে যশোরের রাজগঞ্জে একসাথে ১৫টি হনুমান!
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ অঞ্চলের কাউন্সিল এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে একসাথে প্রায় ১৫টিবিস্তারিত পড়ুন

শিক্ষার গৌরব ও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় অনন্য যশোরের রাজগঞ্জ হাইস্কুল
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাজগঞ্জ বাজারে অবস্থিত রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় শুধু একটিবিস্তারিত পড়ুন

মণিরামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মুক্তারপুর মাঝেরপাড়া গ্রামেবিস্তারিত পড়ুন


