ইউপি নির্বাচন : জামানত বেড়ে ৫ গুণ, পেতে হবে ১৫ শতাংশ ভোট


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ এবং নির্বাচনি ব্যয়সীমা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থী সংখ্যার আধিক্যে লাগাম টানতে নির্বাচন বিধিমালায় এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং নির্বাচনি ব্যয়সীমা ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া জামানত ফেরত পেতে হলেও প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনি অপরাধে সাজা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা পাচ্ছে ইসি। তবে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফলে আগের মতো যে কেউ ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
এসব বিধানসহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত হয়েছে। ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় পরিবর্তন এনে প্রণীত এই সংশোধনী এরই মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে ইসিতে এসেছে। আগামী সপ্তাহে এসআরও নম্বর দেওয়ার জন্য এটি আবারও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সরকারের অন্য চার প্রতিষ্ঠান-উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের আলাদা নির্বাচনি বিধিমালাও আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সাধারণ আসনের সদস্য (মেম্বার) ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। বর্তমান বিধি অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত বা বাতিল হয়।
অন্যদিকে, চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনি ব্যয় ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।
ইসি সূত্র বলছে, এবার থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো নির্দলীয় ও প্রতীকবিহীন হওয়ায় বিশেষ করে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেও প্রার্থী সংখ্যা বাড়তে পারে। এতে ব্যালটে প্রার্থী ও প্রতীকের সংখ্যা বেশি রাখতে হবে।
এ ছাড়া বেশি সংখ্যক প্রার্থী এবং তাদের এজেন্ট ও কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয়তার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়ও বেশি বেগ পেতে হবে। ভোট পরিচালনার ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করছে ইসি। এ কারণে নির্বাচনি বিধিমালায় নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
তবে ইসির সংশোধনী অনুযায়ী, প্রার্থীদের জামানত পাঁচ গুণ বাড়ানোর ফলে নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা অনেক কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে আর্থিক সক্ষমতা তুলনামূলক কম-এমন যোগ্য প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হতে পারে বলেও মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে জামায়াত : আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনবিস্তারিত পড়ুন

সার্ককে ফের সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আবার সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছেবিস্তারিত পড়ুন

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সার্জন-অধ্যাপক থাকলেও ভিশনারি প্ল্যানিং নেই: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনেক সার্জন এবং অধ্যাপক থাকলেও কোনো ভিশনারি প্ল্যানিং নেইবিস্তারিত পড়ুন


