বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

কলারোয়ায় সাদা পলিথিনের সেডে টমেটো চাষে সাফল্যের জোয়ার

জাহাঙ্গীর হোসেন : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সাদা পলিথিনের সেড ব্যবহার করে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন চাষীরা। অসময়ের এই ফসল চাষ করে কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি স্থানীয় বাজার ও জাতীয় পর্যায়েও টমেটোর চাহিদা মেটাচ্ছেন। মাঠ থেকে সরাসরি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে টমেটো পাঠানো হচ্ছে। ফলে কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—সবার জীবন-জীবিকায় এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।

কলারোয়ার মাঠে এখন চোখে পড়ছে ভিন্ন দৃশ্য। উপরে সাদা পলিথিনের সেড, নিচে বেডে সারি সারি সবুজ টমেটো গাছ। দুই পাশে রয়েছে ড্রেন, যেখানে বর্ষার পানি জমে না এবং পোকামাকড়ের ক্ষতির আশঙ্কাও অনেক কম। ফলে টমেটো গাছগুলো সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে এবং ফলনও ভালো হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, পলিথিন ব্যবহারের ফলে বৃষ্টির পানি সরাসরি গাছে না পড়ায় গাছ রোগবালাই মুক্ত থাকে, যা টমেটো চাষকে আরও সহজ করেছে।

স্থানীয় চাষীরা জানিয়েছেন, গত বছর কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন হলেও এবছর ফলন ও দাম—দুটিই ভালো হওয়ায় তাদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। বাজারে অসময়ের টমেটোর চাহিদা বেশি থাকায় কেজি প্রতি দামও হাতের নাগালের বাইরে যাচ্ছে না, বরং কৃষকের হাতে ফিরছে মোটা অঙ্কের টাকা। এক চাষী বলেন, “এক বিঘা জমিতে চাষ করতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হলেও বিক্রি হয় ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার মতো। খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকে দ্বিগুণ।”

শুধু কৃষকরাই নয়, টমেটো ক্ষেতের শ্রমিকরাও উপকৃত হচ্ছেন। ক্ষেতের পরিচর্যা, আগাছা পরিষ্কার, টমেটো সংগ্রহ ও পরিবহন—সব মিলিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য শ্রমিক কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, এই মৌসুমী কাজ তাদের সংসারের আয় বাড়াতে সহায়তা করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম এনামুল ইসলাম জানান, এ বছর কলারোয়ায় ৯৩ হেক্টর জমিতে বারি-৮ জাতের গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ হয়েছে। এ জাতের টমেটো স্বাদে ভালো, বাজারে চাহিদা বেশি এবং সংরক্ষণযোগ্য হওয়ায় কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, “চাষীদের মধ্যে এ আবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আগামী দিনে আরও বেশি জমি এই চাষের আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

টমেটো চাষে লাভবান হয়ে অনেকেই নিচু জমি ভরাট করে নতুন করে খেত করার পরিকল্পনা নিচ্ছেন। কেউ কেউ মাছ চাষের পাশাপাশি একই জমিতে টমেটো চাষ করে দ্বিগুণ আয়ের স্বপ্নও দেখছেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কলারোয়ায় সাদা পলিথিনের সেডে টমেটো চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন, শ্রমিকরা পাচ্ছেন কর্মসংস্থান আর বাজার পাচ্ছে নিরাপদ টমেটো। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে কলারোয়ার নাম গ্রীষ্মকালীন টমেটো উৎপাদনে দেশের শীর্ষে চলে যাবে বলে আশা করছেন সবাই।

একই রকম সংবাদ সমূহ

কলারোয়ায় ঈদের ছুটিতে দশ হাজার গাছের চারা রোপন ও বিতরণ

ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে দশ হাজার গাছের চারা রোপন ও বিতরণ করেবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ায় হাতে হ্যান্ডকাপ লাগানো অবস্থায় পালালো আসামি, পরে ফের আটক

হাতে হ্যান্ডকাপ লাগানো অবস্থায় পালিয়ে যাওয়ার পর সেই আসামিকে ফের ধরলো পুলিশ।বিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ায় টুংটাং আওয়াজে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের

শুরু হয়েছে ঈদুল আযহার আমেজ। দরজায় কড়া নাড়ছে কুরবানির ঈদ। আর এরইবিস্তারিত পড়ুন

  • কলারোয়ায় নকল-ভেজাল ঔষধ বিক্রয় না করা প্রসঙ্গে জনসচেতনামূলক সভা
  • জমে উঠেছে বাগুড়ি বেলতলা আমের বাজার
  • কলারোয়ায় সাফল্য ছড়াচ্ছেন আদর্শ কৃষক সাত্তার: ‘কৃষক দলগঠন’ মিটিংয়ে কৃষিতে বিপ্লব
  • কলারোয়ায় কোরবানির জন্য চাহিদার তুলনায় বেশি ২ হাজার ৫০০টি পশু প্রস্তুত
  • কলারোয়ায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
  • কলারোয়ায় শিক্ষক নেতা আখতারুজ্জামানের দাফন সম্পন্ন
  • কলারোয়ায় ৩ দিনব্যাপী ভূমি মেলার শুভ উদ্বোধন
  • কলারোয়ার আব্দুর রাজ্জাক পেলেন জীবিকার নতুন ভ্যান
  • কলারোয়ায় অন্ধ ঘোড়ার পাশে মানবতার দৃষ্টান্ত গড়লেন কলেজ ছাত্র সোহান
  • সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ’র শাশুড়ি’র ইন্তেকাল
  • সাতক্ষীরায় বিলুপ্তির পথে ধানের গোলা
  • কলারোয়ায় ইলেকট্রিশিয়ানদের সাথে এমইপি গ্রুপের মতবিনিময়