চতুর্থ স্তম্ভের নীরব কান্না- কষ্টে দিন কাটে অনেক সংবাদকর্মীর পরিবার


রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং মানুষের সুখ-দুঃখের খবর তুলে ধরতে দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করেন সংবাদকর্মীরা। গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে সংবাদমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের “চতুর্থ স্তম্ভ”। অথচ সমাজের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা এই মানুষগুলোর একটি বড় অংশ নিজেদের জীবন-সংগ্রামের গল্প আড়ালেই রেখে দেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত বহু সংবাদকর্মী দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিশ্চয়তা, কম পারিশ্রমিক এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বিশেষ করে জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ের অনেক সংবাদকর্মী নিয়মিত বেতন, চিকিৎসা সুবিধা কিংবা কোনো ধরনের বীমা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে তাদের পরিবার চরম সংকটে পড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো সংবাদকর্মী গুরুতর অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনার শিকার হলে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের আবেদনই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। চিকিৎসার খরচ জোগাতে পরিবারের সদস্যদের দৌড়াতে হয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে। কারও কারও ক্ষেত্রে সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, আবার অনেক পরিবার নেমে আসে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায়। স্থানীয় সাংবাদিক মহলের একাধিক সদস্য জানান, সংবাদ সংগ্রহের সময় ঝুঁঁকি নেওয়া, দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় কাজ করা কিংবা দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা তাদের পেশার অংশ হলেও সেই তুলনায় নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক সুবিধা অত্যন্ত সীমিত। অনেক সংবাদকর্মী সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে নিজেদের অভাব-অনটনের কথা প্রকাশ করতেও সংকোচবোধ করেন। ফলে নীরবে কষ্ট সহ্য করাই যেন তাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। সামাজিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য কার্যকর কল্যাণ তহবিল, স্বাস্থ্যবীমা, দুর্ঘটনা সহায়তা এবং অবসরকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা সময়ের দাবি। কারণ, যারা সমাজের সমস্যার কথা জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাদের নিজেদের জীবনও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। সচেতন মহলের মতে, সংবাদকর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা শুধু একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীর দাবি নয়; বরং এটি একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলার পূর্বশর্ত। রাষ্ট্র, গণমাধ্যম মালিকপক্ষ এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল এই নীরব সংকটের সমাধান সম্ভব। আজ যখন কোনো সংবাদকর্মীর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার সংবাদে সহায়তার আবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তখন একটি প্রশ্ন সামনে আসে- যে মানুষটি সারাজীবন অন্যের কথা লিখেছেন, তার দুর্দিনে কেন তাকে বা তার পরিবারকে সাহায্যের জন্য হাত পাততে হবে? গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে শক্তিশালী রাখতে হলে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

‘২৫ জিবি ফ্রি ইন্টারনেট’ অফারের ফাঁদে নতুন প্রতারণা, ওটিপি দিলেই ঝুঁকিতে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ
“২৫ জিবি প্রিমিয়াম ডেটা একদম ফ্রি”, “সব মোবাইল সিম ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষবিস্তারিত পড়ুন

মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ দ্রুত প্রদানের দাবি
হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের প্রদত্ত উপবৃত্তির অর্থবিস্তারিত পড়ুন

মনিরামপুরে বাবার বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর রহস্যজনক মৃত্যু, সন্দেহের তীর স্বামীর দিকে
হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : যশোরের মনিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামে পাঁচবিস্তারিত পড়ুন


