বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে নিষিদ্ধ মাছ ধরা, জারি নতুন অধ্যাদেশ


দেশের মৎস্য সম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০’ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে এখন থেকে নদী-নালা বা যে কোনো জলাশয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে বা ‘ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস’ ব্যবহার করে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে সম্পূর্ণ।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গতকাল ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়। আজ মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।
সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গতকাল রাষ্ট্রপতি এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করেন। এই অধ্যাদেশ মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে। এটি কার্যকর হবে অবিলম্বে।
নতুন অধ্যাদেশে ‘জলাশয়’-এর সংজ্ঞা বিস্তৃত করা হয়েছে আরও।
সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নদী, ঝর্ণা, মোহনা, খাল, বিল, হাওর, বাওড় ও হ্রদের পাশাপাশি প্লাবনভূমি, পুকুর, দিঘি, ঘের এবং ঋতুগতভাবে ডুবে থাকা এলাকা বা জলাভূমিও থাকবে এই আইনের আওতায়।
সংশোধিত আইনের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, মাছ শিকারের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ‘ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস’ বা বিদ্যুৎ প্রবাহিত সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ ধরার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
এছাড়া, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ‘অন্যান্য কার্যকর এলাকা-ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা’ বা ‘ওএসিম’ ঘোষণার যুক্ত করা হয়েছে নতুন বিধান।
ওএসিম বলতে এমন ভৌগোলিকভাবে সংজ্ঞায়িত এলাকাকে বোঝানো হয়েছে, যা সুরক্ষিত এলাকার বাইরেও জলজ জীববৈচিত্র্যের ইতিবাচক এবং দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রাখবে।
অধ্যাদেশে নতুন যুক্ত হওয়া ৪খ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় জলাশয়ে মৎস্য বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি বা ধ্বংস রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া টেকসই মৎস্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সরকার বিশেষ নির্দেশনা জারি করার ক্ষমতা রাখবে।
মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতেই সরকার ১৯৫০ সালের পুরনো আইনটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে করা হয়েছে উল্লেখ।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আ.লীগের উত্থাপিত প্রশ্ন নাকচ জাতিসংঘের
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর পূর্ণ আস্থাবিস্তারিত পড়ুন

ডিএনডি বাঁধ নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩বিস্তারিত পড়ুন

বাড়ছে মেট্রোরেল চলাচলের সময়
যাত্রীদের বাড়তি চাপ ও চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় ২০ মিনিটবিস্তারিত পড়ুন

