মোদীর নেতৃত্বে ভারত কি এক দলীয় শাসনের দিকে যাচ্ছে?


প্রথমবারের মতো ৪৬ বছরের ইতিহাসে নরেন্দ্র মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে। ২০১৪ সালে মোদী ক্ষমতায় আসার পর এটি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও তামিলনাডু, আসাম, কেরালা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি-তে ভোটগ্রহণ হয়।
বিজেপি আসামে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতা ধরে রাখে এবং পুদুচেরিতেও জোট সরকার পুনর্গঠন করে। তামিলনাডুতে অভিনেতা জোসেফ বিজয় নতুন দল গড়ে বড় চমক দেখান এবং মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে আছেন।
কেরালায় কমিউনিস্ট সরকার হেরে যায় এবং কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসে। এর ফলে প্রায় ৫০ বছরে প্রথমবার কোনো রাজ্যে বামপন্থিরা ক্ষমতায় নেই।
তবে সব নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফল এসেছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে।
ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। ১৮শ শতকে এখান থেকেই ব্রিটিশ শাসনের শুরু। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশরা ধর্মের ভিত্তিতে বঙ্গভঙ্গ করে, যা রাজনীতিতে ধর্মীয় বিভাজনের পথ তৈরি করে।
পরে এই অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা উঠে আসেন, যার মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী অন্যতম। তিনি বিজেপির পূর্বসূরি দল গঠন করেছিলেন।
স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ সময় বামফ্রন্ট ক্ষমতায় ছিল (১৯৭৭-২০১১)। পরে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে।
এই রাজ্য অতীতে অনেক বড় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকেও তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে—বিজেপি সরকার এলে সেই শান্ত পরিবেশ থাকবে কি না।
পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১০ কোটি মানুষ বাস করে, যার ২৭ শতাংশ মুসলিম। বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে বড় জয় পেয়েছে, যেখানে তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন।
তবে নির্বাচন নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে প্রায় ২৭ লাখ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যার মধ্যে মুসলিমদের সংখ্যা বেশি হতে পারে।
মমতা ব্যানার্জীর অভিযোগ করেছেন, ১০০টির বেশি আসন লুট করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির এই জয় তাদের শক্তি আরও বাড়াবে। বর্তমানে দলটি ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যে ক্ষমতায় বা জোটে রয়েছে।
তবে একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—ভারত কি একদলীয় আধিপত্যের দিকে যাচ্ছে? ভবিষ্যতে নির্বাচন কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থাকবে—তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল,বিস্তারিত পড়ুন

নিজ দল থেকে মমতার বিদায়, তৃণমূলের চেয়ারম্যান হলেন অরূপ রায়
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এক সময় যা কল্পনাতেও ভাবা কঠিন ছিল, শেষবিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশ সীমান্তে একাধিক আধুনিক স্থলবন্দর করবে ভারত
বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচল আরও সহজ করতে পশ্চিমবঙ্গেবিস্তারিত পড়ুন


