অনলাইনে নতুন স্ক্যাম, ৫ ভুলে খালি হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট


অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই সক্রিয় হয়ে উঠছে সাইবার প্রতারক চক্র। আগে যেখানে প্রতারণার জন্য ওটিপি সংগ্রহই ছিল প্রধান কৌশল, এখন ভুয়া ওয়েবসাইট, নকল কাস্টমার কেয়ার, রিমোট অ্যাক্সেস অ্যাপ এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ব্যাংক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটির চেয়ে ব্যবহারকারীর অসাবধানতাই বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ভুয়া কাস্টমার কেয়ারের ফাঁদ
সম্প্রতি প্রতারকরা বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে দাবি করছে, গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে অথবা কেওয়াইসি (নো ইওর কাস্টমার) হালনাগাদ না করলে লেনদেন বন্ধ থাকবে। এরপর তারা ওটিপি, কার্ড নম্বর, সিভিভি কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং পিন জানতে চায়। এসব তথ্য পেলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে অর্থ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
নকল ওয়েবসাইটে লগইনের ফাঁদ
এসএমএস, ই-মেইল বা মেসেঞ্জারে পাঠানো একটি লিংকে ক্লিক করেই অনেক ব্যবহারকারী নকল ব্যাংকিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন। দেখতে আসল ওয়েবসাইটের মতো হলেও সেখানে দেওয়া ইউজার আইডি, পাসওয়ার্ড বা কার্ডের তথ্য সরাসরি প্রতারকদের কাছে চলে যায়। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে অননুমোদিত লেনদেন করা হয়।
অজানা অ্যাপ ইনস্টল করাও বড় ঝুঁকি
লোন অনুমোদন, ক্যাশব্যাক, রিওয়ার্ড বা অনলাইন আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক অ্যাপ ইনস্টল করানো হয়। এসব অ্যাপের কিছু ব্যবহারকারীর স্ক্রিন, মেসেজ বা অন্যান্য অনুমতি নিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। ফলে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই কোন প্রকার অ্যাপ ইনস্টলের আগে অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোরের কি না যাচাই করে নিন ।
পাবলিক ওয়াই-ফাই থেকে লেনদেন
বিমানবন্দর, রেস্তোরাঁ বা অন্যান্য উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে ব্যাংকিং করা নিরাপদ নয়। নিরাপত্তাহীন নেটওয়ার্কে তথ্য চুরি বা আড়িপাতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মোবাইল ডাটা বা বিশ্বস্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন।
একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার
অনেকেই ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ব্যাংকিং অ্যাপে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। একটি অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হলে অন্য অ্যাকাউন্টেও অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দুই ধাপের নিরাপত্তা (2FA) চালু রাখুন।
কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ওটিপি, পিন বা সিভিভি কোনো অবস্থাতেই অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। সন্দেহজনক লিংক, কিউআর কোড বা অচেনা অ্যাপ এড়িয়ে চলতে হবে। ব্যাংকের নামে ফোন এলে তথ্য দেওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ফোন ও ব্যাংকিং অ্যাপ নিয়মিত আপডেট রাখা এবং যে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন দেখা মাত্র দ্রুত ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ নিতে হবে।
ডিজিটাল লেনদেন যেমন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি সাইবার অপরাধীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তাই সচেতনতা এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসই হতে পারে অনলাইন আর্থিক প্রতারণা থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: জাগোনিউজ
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

চলতি বছরেই শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা
চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেনবিস্তারিত পড়ুন

গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশেরবিস্তারিত পড়ুন

সাড়ে ৭ বছরে সড়কে ঝরেছে ৭৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ
দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালবিস্তারিত পড়ুন


