জাতিসংঘে ভাষণের মাধ্যমে শান্তির দিশারী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন তারেক রহমান


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলিষ্ঠ, তাৎপর্যপূর্ণ ও গভীর ব্যঞ্জনাময় যে ভাষণ দিয়েছেন তা’ আমার বিবেচনায় বিরলপ্রজ।
ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কালাবসানের অন্যতম অগ্রনায়ক হিসেবে তিনি জনগণের অফুরন্ত সমর্থনধন্য ও নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দিতে গিয়ে নিজ দেশের জনগণের কণ্ঠস্বর, প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্ক্ষারই প্রতিধ্বনি করেছেন। যাদের পেছনে গণমানুষের সমর্থন নেই কিংবা যারা সঠিকভাবে জননির্বাচিত নয়, তারা তা পারে না। অতীত সাক্ষ্য দেয়, স্বৈরশাসনের অহম ও আত্মপ্রচারণা আমাদের স্মৃতিকে কীভাবে পীড়িত করেছিল।
তারেক রহমান তাঁর পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দেওয়ার এক বিরল ও দুর্লভ সুযোগ অর্জন করেছেন। এটা কোনও রাজতান্ত্রিক ধারা নয়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে তিনি অধিকারী হয়েছেন এ সৌভাগ্যের।
যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, মারণাস্ত্রের ঝনৎকার, হানাহানিতে ক্লিষ্ট ও রক্তপাতে সিক্ত সময়ে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেছেন, ‘মারণাস্ত্রে নয়, বিশ্ব বদলাবে মানবতায়।’ মানবতার এ আহ্বানের মধ্য দিয়ে ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ দুনিয়ায় নিজেকে তাঁর শহীদ পিতার মতো শান্তির দিশারী রূপে তুলে ধরেছেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে শহীদ রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তারেক রহমান তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে জাগিয়ে তুলেছেন। ফিলিস্তিনের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি এবং এই বিপদ মোকাবিলায় করণীয় তুলে ধরেছেন তিনি নিখুঁতভাবে।
ফ্যাসিবাদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তাঁর সরকার যে ‘থ্রি আর’ কর্মকৌশল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তা তিনি যথার্থই তুলে ধরেছেন পরম নৈপুণ্যে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, রাষ্ট্র সংস্কার, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তরুণরা যাতে নির্ভয়ে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারে এবং প্রতিটি শিশু যাতে তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায়— এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। সর্বোপরি জনগণকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ও সমগ্র বিশ্বকে নিয়ে তারেক রহমান যে প্রত্যাশা ও স্বপ্ন তুলে ধরেছেন তাতে তাঁর অভিব্যক্তির মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ এক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতার আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হলেও তার মধ্যে দ্বিধা ও আনাড়িপনার বদলে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে বিজ্ঞতা, অভিজ্ঞতা, পারঙ্গমতা, প্রস্তুতি ও আত্মপ্রত্যয়।
নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণ ও অনুষ্ঠানমালার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন নি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই উপলক্ষকে কাজে লাগিয়ে সময়ের সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার করেছেন। বহুপাক্ষিকতার গণ্ডির বাইরেও দ্বিপক্ষীয় এন্তার কর্মসূচিতে শামিল হয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালনে গতি, দ্রুতি ও কর্মব্যস্ততার বিরল নজির স্থাপন করেছেন তারেক রহমান।
লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

জাপানের সেবা খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে তরুণরা: এলজিআরডি মন্ত্রী
ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও এডিবির মত বহুজাতিক সংস্থার বাইরে একক রাষ্ট্র হিসেবে জাপানবিস্তারিত পড়ুন

প্রাথমিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিকবিস্তারিত পড়ুন

ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের নানা ধরনেরবিস্তারিত পড়ুন


