কলারোয়ায় বাঁশের ভাসমান সাঁকোয় নদী পারাপার, টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি


সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কোঠাবাড়ি-রায়টাসহ চার ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বেত্রবতী নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো। দীর্ঘদিনেও এর স্থলে টেকসই কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। নদীর ওপর একটি পাকা সেতু না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রতিদিনই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের ভাসমান সাঁকো নির্মাণ করে চলছে নদী পারাপার।
বেত্রবতী নদীর তীরে অবস্থিত হেলাতলা ইউনিয়নের কোঠাবাড়ির পাশের শুভংকরকাটি ও হেলাতলা গ্রাম। নদীর অপর পাড়ে রয়েছে কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের রায়টা, কয়লা ইউনিয়নের আলাইপুর এবং রায়টার পূর্ব পাশে যুগিখালি ইউনিয়নের আগুনপুর (রাজনগর) গ্রাম। হেলাতলা, কুশোডাঙ্গা, কয়লা ও যুগিখালি—এই চার ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম কোঠাবাড়ি-রায়টার এই সাঁকো।
টেকসই পাকা সেতু না থাকায় এ জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এখনো কাটেনি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ও সাধারণ পথচারীদের নদী পারাপারে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। গত শনিবার সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, বেত্রবতী নদীর ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক। কোঠাবাড়ি গ্রামের ঠিক বিপরীতে নদীতীরবর্তী কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের রায়টা গ্রাম। বেত্রবতী নদী এই দুই গ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছে। স্থানীয়দের যোগাযোগের দুর্ভোগ লাঘবে ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ একটি অপ্রশস্ত ভাসমান সাঁকো।
প্রায় ৬০টি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর সাঁকোটির কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। ড্রামগুলো সুনিপুণভাবে বাঁশের খুঁটি ও পাটাতনের সঙ্গে সংযুক্ত করে সাঁকোটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এর ওপর দিয়ে চলাচলের সময় পুরো সাঁকোটিই দুলতে থাকে। ফলে মানুষকেও দুলতে দুলতেই নদী পার হতে হয়।
কোঠাবাড়ি গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোটি এতটাই সংকীর্ণ যে এর ওপর দিয়ে একটি বাইসাইকেল সঙ্গে নিয়ে পার হওয়াও কঠিন। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলার ক্ষেত্রেও পথচারীদের যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বেত্রবতী নদীর ওপর স্থাপিত বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যায়। এরপর ড্রাম দিয়ে ভেলা তৈরি করে মানুষ নদী পারাপার হতে থাকেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের প্রাণান্ত প্রচেষ্টা এবং হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের সহায়তায় নদীর ওপর আবারও ভাসমান বাঁশের সাঁকো স্থাপন করা সম্ভব হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তাঁর ভাই শিল্পপতি ইমাম হোসেন সাঁকো নির্মাণকাজে আর্থিক সহায়তা করেছেন। তিনি বলেন, সাঁকোটি স্থাপিত হওয়ায় অন্ততপক্ষে দুই পাড়ের মানুষ হেঁটে নদী পারাপার হতে পারছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে।
চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন আরও বলেন, ২০০৩ সালে প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে গত ২৩ বছর ধরে তিনি এখানে মানুষের পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করিয়ে দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ড্রামের ওপর বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দেন তিনি। সেটি বর্তমানে সচল রয়েছে। তবে এখানে একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণ করা গেলে মানুষের দীর্ঘদিনের নদী পারাপারের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে লাঘব হতো।
হেলাতলা-কোঠাবাড়ি গ্রামের ইউপি সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন, কোঠাবাড়ি গ্রামের মানুষ প্রতি শনি ও মঙ্গলবার রায়টা বাজারের সাপ্তাহিক হাটে যান। এছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিনও নানা প্রয়োজনে তাদের রায়টা বাজারে যেতে হয়। কোঠাবাড়ি গ্রামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষার্থীদের হেলাতলা অথবা রায়টায় যেতে হয়। এ কারণে কোঠাবাড়ি-রায়টার সংযোগ সাঁকোটি তাদের নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে আলাপকালে কলারোয়া উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন বলেন, এখানে সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু রায়টা পাড়ের সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার সংযোগস্থলের সামান্য দিক পরিবর্তন করে সেতু নির্মাণের জন্য নতুন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো সেটির অনুমোদন মেলেনি। ফলে সেতু নির্মাণের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, বেত্রবতী নদীর ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা গেলে দুই তীরের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। উন্মোচিত হবে এ জনপদের যোগাযোগের নতুন দিগন্ত। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান বাঁশের সাঁকোটি দূর থেকে দেখলে হয়তো মনোরম মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনোভাবেই টেকসই ও স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। তাই সাময়িক এই পারাপারের ব্যবস্থা নয়, বেত্রবতীর ওপর একটি স্থায়ী ও টেকসই পাকা সেতু নির্মাণই এখন এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

কলারোয়ায় মাদক ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতে ৬ মাসের কারাদন্ড
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ওবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে এক সন্তানের জননীর অবস্থান
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর প্রেমের সম্পর্কের নামে একাধিকবারবিস্তারিত পড়ুন

কলারোয়ায় ‘মা’-ই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক শীর্ষক সেমিনার
শিক্ষা ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা ও অবদান যেকোন শিক্ষকের চেয়ে অপরিসীম। শিশু শিক্ষাবিস্তারিত পড়ুন


