জকসু ভিপি-জিএসকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিলো ছাত্রদল


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এরপর ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং জিএস ও ছাত্রশিবিরের জবি শাখা সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন এবং এক পর্যায়ে তাকে একটি রিকশায় তুলে দিচ্ছেন। এর কিছুক্ষণ পর একইভাবে জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফকেও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হস্তক্ষেপ করে।
এ ঘটনায় জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, ছাত্রশক্তি ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের একাধিক নেতাকর্মী এবং জবি প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক কামরুজ্জামানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের ঘটনার পর জবি ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রদল কিংবা ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জবিতে সংঘর্ষে আহতরা হাসপাতালেও হামলার শিকার, অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সংঘর্ষের পর আহত শিক্ষার্থীরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে সংঘটিত এ হামলায় জকসুর নেতা, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের পর আহতদের ন্যাশনাল মেডিকেলে নেওয়া হলে সেখানে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তাদের দাবি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
হামলার সময় হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতালজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
হামলায় জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। এ ছাড়া চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনও আহত হয়েছেন।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

ভারত-বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ‘চমৎকার সম্পর্ক’ আরও এগিয়ে নিতে হবে : দীনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বানবিস্তারিত পড়ুন

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম
১৬ আগস্ট বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এ সময়কে সামনেবিস্তারিত পড়ুন

‘রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ সভায় তারেক রহমান
‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার্য সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনাবিস্তারিত পড়ুন


