পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পথে মমতা, বলছে বুথফেরত জরিপ


পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বুথফেরত জরিপ বা এক্সিট পোলের ফল প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। সর্বশেষ একাধিক বুথফেরত সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, এবারের নির্বাচনে রাজ্যের ক্ষমতা হারাতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে বিজেপি বড় ধরনের জয় পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, টুডেজ চাণক্য তাদের বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে।
সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি এবার পশ্চিমবঙ্গে বিশাল জয় পেতে যাচ্ছে। এই সমীক্ষায় বিজেপিকে ১৯২টি (± ১১) আসন পাওয়ার আভাস দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভোটের হার হতে পারে ৪৮ শতাংশ (± ৩%)।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি জোট) ১০০টি (± ১১) আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের ভোট শেয়ার হবে ৩৮ শতাংশ (± ৩%)।
এছাড়া, বাকি অন্যান্য দলগুলোর মিলিত ভোট শেয়ার ১৪ শতাংশ হতে পারে এবং তারা মাত্র দুটি (± ২) আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, পি ম্যাট্রিজ এবং পি-মার্কের বুথফেরত সমীক্ষাতেও বিজেপিরই জয়ের আভাস দেওয়া হয়েছে।
২৯৪ আসন-বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গের ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৮। পি ম্যাট্রিজের সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসনে জিততে পারে পদ্মশিবির। সেখানে তৃণমূল পেতে পারে ১২০ থেকে ১৪০টি আসন।
অন্যদিকে পি-মার্কের সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসন পেতে পারে এবং তৃণমূল পেতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন। উভয় সমীক্ষাতেই বলা হয়েছে যে, এই রাজ্যে মূলত দ্বিমুখী লড়াই হবে এবং বাম ও কংগ্রেস কার্যত মুছে যাবে।
সবগুলো সমীক্ষা যখন বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন একটি মাত্র সংস্থা তৃণমূলের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। পিপলস পালসের বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, আসন কিছুটা কমলেও তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পারে।
তারা ১৭৭ থেকে ১৮৭টি আসনে জিততে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই সমীক্ষায় বিজেপির আসন সংখ্যা ৯৫ থেকে ১১০-এর মধ্যে আটকে থাকতে পারে বলে বলা হয়েছে। এছাড়া, শূন্য থেকে বেরিয়ে বামেরা একটি এবং কংগ্রেস ১–৩টি আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আগেরবার কতটা মিলেছিল সমীক্ষা?
পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষাগুলোর সঙ্গে মূল ফলাফলের বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। সেবার প্রায় কোনো সংস্থাই তৃণমূলের এমন একচেটিয়া জয়ের সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারেনি।
২০২১ সালের ২ মে ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২৯২টি আসনে (দুটি আসনে ভোট স্থগিত থাকায়) নির্বাচন হয়েছিল, যার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল একাই ২১৩টি আসন জিতে বিশাল ব্যবধানে ক্ষমতায় ফেরে।
সেবার ২০০ আসন পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোলেও বিজেপি শেষ পর্যন্ত মাত্র ৭৭টি আসনে থেমে যায়। আর বাম, কংগ্রেস ও আইএসএফ জোট সেবার আক্ষরিক অর্থেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।
এবার পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও তামিলনাড়ু, আসাম, কেরালা ও পুদুচেরিতেও ভোট হয়েছে। আগামী ৪ মে সব রাজ্যের ভোটগণনা শেষে জানা যাবে মূল ফলাফল। সেদিনই পরিষ্কার হবে সমীক্ষার সঙ্গে এবারের বাস্তব ফল কতটা মিলল।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল,বিস্তারিত পড়ুন

বাংলাদেশ সীমান্তে একাধিক আধুনিক স্থলবন্দর করবে ভারত
বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচল আরও সহজ করতে পশ্চিমবঙ্গেবিস্তারিত পড়ুন

মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে বাঙালি মুসলমানদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সীমান্ত দিয়ে বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে কোনো ধরনের আইনিবিস্তারিত পড়ুন


