মনিরামপুরে ভূমি অফিসের পিয়ন আশিক কর্তৃক সেবাগ্রহীতার উপর মারমুখি আচারণ


খাজনা আদায়ে বাড়তি টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় যশোরের মণিরামপুরে সেবাগ্রহীতার স্বজনকে মারতে উদ্যত হয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক অফিস সহায়ক (পিয়ন)। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অফিস সময়ের শেষমুহূর্তে উপজেলার নেহালপুর ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত অফিস সহায়কের নাম আশিকুর রহমান। তিনি অনলাইনে ১০ টাকার দাখিলা কেটে এক নারী সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার বিকেলে হলেও শুক্রবার রাত থেকে এই সংক্রান্ত দুটি খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়- এক যুবক নেহালপুর ভূমি অফিসে ঢুকে পিয়ন আশিকুর রহমানকে সালাম দিয়ে এটা কতো টাকা নিয়েছেন জানতে চায়। তখন আশিক বলেন- ১০ টাকা। এরপর ওই যুবক ফের জানতে চান, কতো টাকা নিয়েছেন? পাশ থেকে এক নারীকণ্ঠ বলেন, ‘১০০ টাকা নেছে।’ তখন ১০০ টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আশিক বলেন- অনলাইনে আবেদন করতে হয় না? এরপর মোবাইলফোনের দিকে নজর গেলে আশিক বলেন- আপনি ভিডিও করছেন কেন? একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ালে আশিক ওই যুবককে মারতে উদ্যত হয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন এব বেয়াদব বলে গালি দেয়। নেহালপুর এলাকার আবু হুরায়রা নামে ওই যুবক বলেন- বহুদিন ধরে নেহালপুর ভূমিঅফিসে সেবা দেওয়ার নামে বাড়তি টাকা নেওয়া হয়। আমি বিষয়টি একাধিকবার এসিল্যান্ডকে জানিয়েছি। কিন্তু কার্যত কোনো ফল হয়নি। আমার মা বৃহস্পতিবার বিকেলে নেহালপুর অফিসে আমাদের দুই শতক জমির খাজনা দিতে যান। ওই সময় নায়েব অফিসে ছিলেন না। অফিসের পিয়ন আশিক অনলাইনে ১০ টাকার খাজনা কেটে দিয়ে ১০০ টাকা নিয়েছেন। এরপরই আমি আশিকের কাছে বাড়তি টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে মোবাইলফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে থাকি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পিয়ন আশিক আমাকে মারতে তেড়ে আসে। আবু হুরায়রা বলেন- আমি বিষয়টি সাথে সাথে এসিল্যান্ডকে জানিয়েছি। শুক্রবার হোয়াটসঅ্যাপে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নিতে চেয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আশিকুর রহমান বলেন- বৃহস্পতিবার অফিসের শেষসময়ে নায়েব শাহাদাৎ হোসেন একটি নিলামের কাজে বাইরে ছিলেন। এসময় একজন নারী খাজনা দিতে আসেন। তাকে খাজনা রশিদ দেওয়ার পর তার এক আত্মীয় (যুবক) এসে আমার সাথে উগ্র আচরণ করে। বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়ে আশিক বলেন- খাজনা দিতে গেলে অনলাইনে আবেদন করা লাগে। আবেদনে আমরা ১০০ টাকা নিই। আবেদন মঞ্জুর হলে তারপর খাজনা পরিশোধ করা যায়। সেবাগ্রহীতা নারী বলে আমি ১০ টাকা কম নিয়ে ১০০ টাকায় তার দাখিলা কেটে দিয়েছে। সেবাগ্রহীতার স্বজনকে মারতে উদ্ধত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে আশিকুর রহমান বলেন- রংচং লাগিয়ে ভিডিও ফেসবুকে ছাড়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন- অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করতে আবেদনের প্রয়োজন হয় না। যা খাজনা আসবে তা নিতে হবে। এসিল্যান্ড বলেন- আশিকের বিষয়টি বৃহস্পতিবার অফিস শেষসময়ে দেখেছি। তাকে নেহালপুর থেকে সরিয়ে ভোজগাতী ভূমি অফিসে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার অফিস খুললে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হবে। তারা যা সিদ্ধান্ত দেবেন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

‘২৫ জিবি ফ্রি ইন্টারনেট’ অফারের ফাঁদে নতুন প্রতারণা, ওটিপি দিলেই ঝুঁকিতে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ
“২৫ জিবি প্রিমিয়াম ডেটা একদম ফ্রি”, “সব মোবাইল সিম ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষবিস্তারিত পড়ুন

মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ দ্রুত প্রদানের দাবি
হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের প্রদত্ত উপবৃত্তির অর্থবিস্তারিত পড়ুন

মনিরামপুরে বাবার বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর রহস্যজনক মৃত্যু, সন্দেহের তীর স্বামীর দিকে
হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : যশোরের মনিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামে পাঁচবিস্তারিত পড়ুন


