যশোরে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে এক দিনে ১০ জনের মৃ*ত্যু


যশোরে বেড়ে চলেছে শীতের প্রকোপ। আর শীতে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে এক দিনে সদর হাসপাতালে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। তারা সবাই ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি-২৬) সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন- গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত ১০ জন লোক মারা গেছে। আমরা ইদানীং মৃত্যুর হার বেশি দেখছি এবং এ ক্ষেত্রে ঠান্ডার প্রকোপ বেশি থাকার কারণে মৃত্যুর সংখ্যাটা আরও ব্যাপক হারে বেড়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর প্রবণতা বেশি।
তিনি আরও বলেন- ফুসফুস সংক্রমণ এবং অন্যান্য বিভিন্ন কমপ্লিকেশনসের কারণে বয়স্কদের মধ্যেই মৃত্যুর প্রবণতা বেশি দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় তার পরামর্শ, ঠান্ডার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা যায় সেটা ঘরে হোক বা বাইরে। বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণগুলো রোধ করার জন্য নিজেকে সতর্ক রাখা উচিত।
জেনারেল হাসপাতালের তথ্য মতে- গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ নিয়ে ২৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে শতাধিক রোগী ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে এসেছেন। এর মধ্য ৫৪ জনই শিশু।
মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে শামছুজ্জামান জানান- ঠান্ডার কারণে তার বাবার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ৬টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।
মৃত শেখ সদরুল আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান- তার বাবার হার্টের সমস্যা ছিল। এ ছাড়া গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল রাতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত মনিরা খাতুনের ছেলে শেখ মামুন বলেন- আমার মায়ের বয়স ৬৪ বছর। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে তিনি ১০ দিন অসুস্থ ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় গুরুতর অবস্থায় গতকাল রাতে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামুনের বাড়ির পাশেই উম্মে হানি নামে ৬৫ বছর বয়সী একজন সাবেক শিক্ষিকা মারা গেছেন।
তার ছেলে বনি জানান- তার মা এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন- তার ফুসফুস সংক্রমিত হওয়ায় মস্তিষ্কে অক্সিজেন যায় নাই। যে কারণে তিনি মারা গেছেন। যশোর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর স্বজন হালিমা বেগম বলেন- আমার ছেলের বয়স ৫ মাস। গত কয়েক দিনের তীব্র শীতের কারণে ছেলের সর্দি ও জ্বর হয়েছে। চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। ছেলেটা এখন কিছুটা সুস্থ।
নাজমা নামে অপর একজন বলেন- শীতের কারণে ঠান্ডা লেগে আমার ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে। তিন দিন ধরে ভর্তি আছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- কয়েকদিন ধরে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বাতাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় যশোরে শীতের প্রকোপ এখন চরমে। সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে- গত কয়েকদিন ধরেই যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। সেই সঙ্গে উত্তরের ঠান্ডা বাতাস শীতের তীব্রতা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)
একই রকম সংবাদ সমূহ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে আ.লীগের উত্থাপিত প্রশ্ন নাকচ জাতিসংঘের
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর পূর্ণ আস্থাবিস্তারিত পড়ুন

পদত্যাগ ইস্যুতে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন দীপেন দেওয়ান
ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে পদত্যাগ করে হঠাৎ আলোচনায় আসেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কবিস্তারিত পড়ুন

এখনও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল
তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেনবিস্তারিত পড়ুন

