বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

১০ টাকায় বিক্রি চাষির পটোল, ২৫-৩০ টাকায় কিনছেন ক্রেতা

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ পাইকারি বাজারে পটোলের দামে চরম ধস নেমেছে। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, শ্রমিকের মজুরিও উঠছে না বলে অভিযোগ করছেন চাষিরা। অন্যদিকে একই পটোল স্থানীয় খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ফলে একদিকে যেমন লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে কৃষকদের, অন্যদিকে অতিরিক্ত দাম গুনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। এতে কৃষক ও ভোক্তা-উভয় শ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

বৃৎস্পতিবার (২৫ জুন) রাজগঞ্জ পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমের ভরা উৎপাদনের কারণে বাজারে পটোলের ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি মাত্র ১০-১১ টাকা দরে পটোল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।
স্থানীয় শাহাপুর-রামপুর গ্রামের পটোল চাষি মো. আব্দুর রহমান বলেন,

“এক বিঘা জমিতে পটোল চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন বাজারে মাত্র ১০-১১ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই দামে বিক্রি করলে খরচ তো উঠছেই না, উল্টো বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

একই গ্রামের আরেক চাষি মো. নুর ইসলাম বলেন, “ক্ষেত থেকে পটোল তুলে বাজারে আনতেই খরচ পড়ে যায়। তারপরও বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছি। কৃষকের কষ্টের মূল্য কেউ দিচ্ছে না।”

এদিকে খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একই পটোল ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

রাজগঞ্জ বাজারের ক্রেতা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “শুনছি কৃষকরা ১০-১১ টাকা কেজি দরে পটোল বিক্রি করছেন। কিন্তু আমরা কিনছি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে। কৃষক যদি ন্যায্য দাম না পায় আর ক্রেতাকেও বেশি দাম দিতে হয়, তাহলে মাঝখানে কারা লাভবান হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

আরেক ক্রেতা গৃহবধু রহিমা বেগম বলেন, “সবজির দাম কমেছে বলে শুনি, কিন্তু বাজারে এসে তার কোনো প্রভাব দেখি না। কৃষকও বঞ্চিত, ক্রেতাও বঞ্চিত-এটা দুঃখজনক।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কৃষক ও ভোক্তার মধ্যকার দীর্ঘ বিপণন শৃঙ্খলে একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে উৎপাদক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ভোক্তাদেরও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দাম।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় অধিক নজরদারি, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করা গেলে এ ধরনের বৈষম্য অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

রাজগঞ্জের কৃষক ও সাধারণ ভোক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে কৃষক ন্যায্য মূল্য পান এবং সাধারণ মানুষও সাশ্রয়ী দামে কৃষিপণ্য কিনতে পারেন।

একই রকম সংবাদ সমূহ

মনিরামপুরে ডোবার পানিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে কৃষকের মৃ*ত্যু

ডোবার পানিতে বিদ্যুতায়িত হয়ে যশোরের মনিরামপুরে লিয়াকত গাজী (৬০) নামের একজন কৃষকেরবিস্তারিত পড়ুন

‘২৫ জিবি ফ্রি ইন্টারনেট’ অফারের ফাঁদে নতুন প্রতারণা, ওটিপি দিলেই ঝুঁকিতে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ

“২৫ জিবি প্রিমিয়াম ডেটা একদম ফ্রি”, “সব মোবাইল সিম ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষবিস্তারিত পড়ুন

মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ দ্রুত প্রদানের দাবি

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের প্রদত্ত উপবৃত্তির অর্থবিস্তারিত পড়ুন

  • মনিরামপুরে বাবার বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর রহস্যজনক মৃত্যু, সন্দেহের তীর স্বামীর দিকে
  • মনিরামপুরে মৎস্য খামারিদের মাঝে বিনামূল্যে চারা মাছ বিতরণ
  • মালয়েশিয়ায় হরিহরনগর গ্রামের যুবকের মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া
  • যশোরের ঝাঁপা পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন শিক্ষক-সাংবাদিক আছাদুজ্জামান
  • রাজগঞ্জে সরকারি কবরস্থানের দাবিতে এলাকাবাসী সোচ্চার
  • এক সময়ের প্রাণকেন্দ্র মুক্তারপুর বাজার নদীপথের ঐতিহ্য বহনকারী বাজার এখন জরাজীর্ণ
  • মনিরামপুরে বসুন্ধরা-শুভসংঘের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক আলোচনা সভা
  • মনিরামপুরে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
  • মণিরামপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলশিক্ষার্থী নিহত
  • মনিরামপুরে দুদকের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন
  • নাগরিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মনিরামপুর পৌরসভার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা