বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

১০ টাকায় বিক্রি চাষির পটোল, ২৫-৩০ টাকায় কিনছেন ক্রেতা

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ পাইকারি বাজারে পটোলের দামে চরম ধস নেমেছে। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, শ্রমিকের মজুরিও উঠছে না বলে অভিযোগ করছেন চাষিরা। অন্যদিকে একই পটোল স্থানীয় খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ফলে একদিকে যেমন লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে কৃষকদের, অন্যদিকে অতিরিক্ত দাম গুনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। এতে কৃষক ও ভোক্তা-উভয় শ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

বৃৎস্পতিবার (২৫ জুন) রাজগঞ্জ পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মৌসুমের ভরা উৎপাদনের কারণে বাজারে পটোলের ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি মাত্র ১০-১১ টাকা দরে পটোল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।
স্থানীয় শাহাপুর-রামপুর গ্রামের পটোল চাষি মো. আব্দুর রহমান বলেন,

“এক বিঘা জমিতে পটোল চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন বাজারে মাত্র ১০-১১ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই দামে বিক্রি করলে খরচ তো উঠছেই না, উল্টো বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

একই গ্রামের আরেক চাষি মো. নুর ইসলাম বলেন, “ক্ষেত থেকে পটোল তুলে বাজারে আনতেই খরচ পড়ে যায়। তারপরও বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছি। কৃষকের কষ্টের মূল্য কেউ দিচ্ছে না।”

এদিকে খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একই পটোল ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।

রাজগঞ্জ বাজারের ক্রেতা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “শুনছি কৃষকরা ১০-১১ টাকা কেজি দরে পটোল বিক্রি করছেন। কিন্তু আমরা কিনছি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে। কৃষক যদি ন্যায্য দাম না পায় আর ক্রেতাকেও বেশি দাম দিতে হয়, তাহলে মাঝখানে কারা লাভবান হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

আরেক ক্রেতা গৃহবধু রহিমা বেগম বলেন, “সবজির দাম কমেছে বলে শুনি, কিন্তু বাজারে এসে তার কোনো প্রভাব দেখি না। কৃষকও বঞ্চিত, ক্রেতাও বঞ্চিত-এটা দুঃখজনক।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কৃষক ও ভোক্তার মধ্যকার দীর্ঘ বিপণন শৃঙ্খলে একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে উৎপাদক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ভোক্তাদেরও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দাম।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় অধিক নজরদারি, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি করা গেলে এ ধরনের বৈষম্য অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

রাজগঞ্জের কৃষক ও সাধারণ ভোক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে কৃষক ন্যায্য মূল্য পান এবং সাধারণ মানুষও সাশ্রয়ী দামে কৃষিপণ্য কিনতে পারেন।

একই রকম সংবাদ সমূহ

অতিভারী বৃষ্টিতে ঝাঁপা বাওড়ের মাছ খালে ভেসে যাচ্ছে, দুই কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ : অতিমাত্রার ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহীবিস্তারিত পড়ুন

যশোরের মণিরামপুরে দেড় মাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৯ জনের মৃত্যু

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। গত দেড়বিস্তারিত পড়ুন

  • খাদ্যের সন্ধানে যশোরের রাজগঞ্জে একসাথে ১৫টি হনুমান!
  • শিক্ষার গৌরব ও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় অনন্য যশোরের রাজগঞ্জ হাইস্কুল
  • মণিরামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
  • যশোরের রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ
  • জাহিদ হাসান টুকুনের সুস্থতায় রাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের দোয়া কামনা
  • মণিরামপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, অভিযুক্ত আটক
  • বেনাপোল-মোংলা রেলপথে ৩ লাখ দেশি খেজুরের আঁটি ছড়িয়ে ইতিহাস
  • নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা ঘোষণা হলেও বঞ্চিত রাজগঞ্জ
  • বৃষ্টিতে কাদার সাগরে মনিরামপুর-ঝিকরগাছা সড়ক, দুর্ঘটনার শঙ্কা
  • মাথায় বোঝা, কাঁধে সংসার: মনিরামপুরের ৯৬ অঞ্চলের পল্লীবধূদের নিরলস জীবনসংগ্রাম
  • রেলপথের দুই পাশে ১৬০ কেজি দেশি খেজুরের আটি ছড়িয়ে সবুজায়নের উদ্যোগ
  • শিক্ষা অফিসের পরিচয়ে ফোন, পিন-ওটিপি চেয়ে প্রতারণার চেষ্টা : আতঙ্কে অভিভাবকরা