এসসিও সম্মেলনে অংশ নিতে চীন পৌঁছেছেন মোদি


সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে অংশ নিতে শনিবার চীন পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশটির তিয়ানজিন শহরে আয়োজিত এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি আগামী দুই দিন সেখানে অবস্থান করবেন। সাত বছরের মধ্যে এটাই তার প্রথম চীন সফর।
শনিবার (৩০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।
আগস্ট ৩১ ও সেপ্টেম্বর ১—এই দুই দিনে অনুষ্ঠিত হবে এসসিও’র বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। এতে ১০ সদস্য রাষ্ট্রের নেতারা যোগ দেবেন। এর পাশাপাশি রোববার মোদির সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ কিছুটা গলতে শুরু করেছে।
এ ছাড়া ১ সেপ্টেম্বর মোদির সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনেরও বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এ সফর হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় রপ্তানিপণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর সঙ্গে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আরও শুল্কের চাপ আসে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, তবুও নয়াদিল্লি বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক খোলা রাখাকে বিকল্প সুযোগ হিসেবে দেখছে।
সফরটি ভারত-চীন সম্পর্কের সম্ভাব্য পুনঃস্থাপনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সীমান্তে ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক সবচেয়ে নিচে নেমে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগে নতুন করে আস্থার জায়গা তৈরি হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও চীন ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। পাশাপাশি ভারতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উচ্চাকাঙ্ক্ষা চীনা যন্ত্রাংশ ও কাঁচামালের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
এসসিও সম্মেলনটি নিজেই আন্তর্জাতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মূলত সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও উগ্রপন্থার মোকাবিলার জন্য ২০০১ সালে এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এটি পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন জোটগুলোর বিকল্প হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ভারতের জন্য এতে অংশগ্রহণ মানে বহুমাত্রিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকা, কোনো একটি জোটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তবে প্রত্যাশা এখনো সীমিত। কারণ চীনের পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক এবং ভারত মহাসাগরে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের সন্দেহ রয়ে গেছে।
চীনের জন্য ভারত-সম্পর্ক উন্নয়ন মানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন অবরোধ প্রচেষ্টা দুর্বল করা। আর ভারতের জন্য পশ্চিমা বিশ্ব ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা মানে এক বহুমুখী জোটনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা—যা ক্রমেই দ্বিমেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়া বিশ্বে নয়াদিল্লির জন্য জরুরি।
কলারোয়া নিউজে প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (Unauthorized use of news, image, information, etc published by kalaroa News is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.)

একই রকম সংবাদ সমূহ

গোপন চিঠি থেকে যেভাবে বরফ গললো ভারত-চীন সম্পর্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র হওয়ার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংবিস্তারিত পড়ুন

৪০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে গোপনে সমুদ্রে ফেলে দেয় ভারত
ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে আটক ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে গোপনে জোর করেবিস্তারিত পড়ুন

ভারত কোনো পুশব্যাক করেনি, যারা আসছেন তারা স্বেচ্ছায় আসছেন: বিএসএফ ডিজি
অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে যারা বাংলাদেশে আসছেন, তারা স্বেচ্ছায় আসছেন বলে দাবি করেছেনবিস্তারিত পড়ুন