মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
প্রধান ম্যেনু

সাতক্ষীরা, দেশ ও বিশ্বের সকল সংবাদ, সবার আগে

করোনাকালে অনলাইনে পড়তে শিক্ষার্থীদের ‘ডাটা চার্জ’ দেবে সরকার

করোনা সংক্রমণের সময়টায় শিক্ষার্থীরা যাতে ঘরে বসে অনলাইনে পড়াশোনা করতে পারে সেজন্য তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারে যে খরচ হবে – তা সরকারই দিয়ে দেবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদান পৌঁছে দিতে শিক্ষার্থীর যে ‘ডাটা কস্ট’ – সেটি আমরা সাবসিডাইজ করার কথা ভাবছি।’

দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ১০ দিনের মাথায় মার্চের মাঝামাঝি সব শিক্ষপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী স্কুলের বন্ধ কয়েক দফা বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। সেই থেকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা যাতে ঘরে বসে অনলাইনে পড়াশোনা করতে পারে সেজন্য সরকারিভাবে অনলাইনে শিক্ষার খরচ পরিশোধ করা, শ্রেণীকক্ষে কয়েক ভাগে শিক্ষার্থীদের পাঠদান – এরকম নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

যেসব পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীর যে ডাটা কস্ট সেটি সাবসিডাইজ করার জন্য যেমন ধরুন আমরা একটা সরকারি ওয়েবসাইট করলাম। সেখানে ক্লাসের পড়া রেকর্ডেড থাকবে। যার কাছে একটা স্মার্ট ডিভাইস থাকবে সে তার সময়মতো ক্লাস করে নিতে পারবে। মোবাইল কম্পানিগুলো আমাদের বলবে এই সাইটের জন্য কত টাকা ডাটা কস্ট এসেছে। সেটি সরকার পরিশোধ করে দেবে।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, স্কুলপর্যায়ে সব শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে ক্লাস না করিয়ে কয়েক ভাগে ভাগ করে ক্লাস নেওয়া সেরকম পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। এটি হতে পারে এক সপ্তাহে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ক্লাস করবে। পরের সপ্তাহে অন্যরা। তবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে যে কার্যক্রমই নেওয়া হবে তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ীই হবে- বলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী।

স্কুল খোলার পর যেভাবে এগোতে চান একজন শিক্ষক
বাংলাদেশে শহরের কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে পাঠদান চলছে। টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও সরকারের তরফ থেকে পাঠদানের চেষ্টা রয়েছে। তবে দেশে সরকারি হিসেবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যে চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের সবার পরিবার স্মার্টফোন কেনার সামর্থ্য রাখে না। বিশেষ করে মহামারির কারণে যেভাবে মানুষের আয় বন্ধ হয়ে গেছে বা কমে গেছে তাতে অনেকের ক্রয়ক্ষমতাও কমে গেছে।

অন্যদিকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে বহু পরিবারে টেলিভিশন পর্যন্ত নেই – বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এরকম একটি এলাকা কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক এশতেয়ারা রুমা।
তিনি বলেন, স্কুল খোলার পরপর তাদের হাতে একটি শ্রেণিতে যত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে তার সবকিছু পড়িয়ে শেষ করা সম্ভব হবে না।

এশতেয়ারা রুমা বলেন, ‘শুরুতে প্রতিটি ক্লাসে কিছু বেসিক জিনিস থাকে যেমন প্রথম শ্রেণিতে বর্ণ শেখা ও লিখতে পারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে শব্দ শেখা, যুক্তবর্ণ ও বাক্য গঠন, তৃতীয় শ্রেণীতে শিক্ষার্থী সাবলিলভাবে রিডিং পড়তে পারবে। যে শ্রেণিতে যে বেসিক বিষয়, সেগুলোর ওপরই স্কুল খোলার পর আমি জোর দেব।’

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনি্ও গুতেরেস বলেন করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির কারণে যেভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে তা বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম।

শিক্ষায় এখন যে সংকট চলছে তা যাতে বিপর্যয়ে রূপ না নেয় সেব্যাপারে আজ বিশ্বের সকল সরকারকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষায় গত কয়েক দশকে যে অগ্রগতি হয়েছে তা মুঁছে যাচ্ছে এই কয়েক মাসেই।

শিক্ষায় অর্থ বরাদ্দ বিশ্বব্যাপী ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই প্রসঙ্গটি উল্লেখ করছিলেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ গণসাক্ষরতা অভিযানের রাশেদা কে চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছার একটা বহিঃপ্রকাশ আমরা আশা করেছিলাম বাজেটে। সেটি কিন্তু হয়নি। উল্টো বরং ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বাড়ানো হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম এটি প্রত্যাহার করা হবে কিন্তু তা করা হয়নি।’

রাশেদা কে চৌধুরী আরো বলেন, ‘সরকার ডাটা চার্জ দিয়ে দেবে সেটি খুবই ভালো কথা, কিন্তু যে খরচ বেড়েছে সেটি প্রত্যাহার প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে দেশে ৯৬ শতাংশ পরিবারে মোবাইল ফোন রয়েছে যার বড় অংশই ফিচার ফোন। যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার সম্ভব এবং তাতে রেডিও রয়েছে। সেগুলোর দাম কমানো অথবা সরকারিভাবে বিলি করার কথা বলছেন রাশেদা কে চৌধুরী যাতে সেখানে সরকারিভাবে বার্তা পাঠিয়ে এবং রেডিওর মাধ্যমে পাঠদান সম্ভব হয়।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘সরকার অনেক বার্তা পাঠায় যেমন টিকা দিন, করোনার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। এরকম বার্তা পাঠাতে পারে সরকার। টিভিতে যে পাঠদান হচ্ছে, রেডিওতে সেই একই জিনিস সম্প্রচার হলে এই যে এত লোকের হাতে ফিচার ফোন তারা তাদের ছেলে মেয়েদের পড়াশোনায় সেটা কাজে লাগাতে পারবে। ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।’

তিনি বলেন, ‘শিশুরা এখন পরিবারের আয় কমে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তাসহ নানা ধরনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। সরকারের উচিত উপবৃত্তির তালিকাটা বাড়ানো। এক পরিবারের দুটি শিশুকে যদি উপবৃত্তি দেয়া হয়ে থাকে, তাদের যদি আর একটি সন্তান তাকেও এর আওতায় আনা অতি প্রয়োজন। খেতে না পারলে লেখাপড়া হবে না।’

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

একই রকম সংবাদ সমূহ

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার তারিখ প্রকাশ

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিবর্তিত এবিস্তারিত পড়ুন

মেয়েদের সর্বজনীন উপবৃত্তি চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।বিস্তারিত পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুব বেশি দেরি হবে না: সিইসি

ভালো ভোট করার কমিটমেন্টে নির্বাচন কমিশন অটল রয়েছে জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারবিস্তারিত পড়ুন

  • দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: রিজভী
  • প্রথমে অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে, এরপর ধীরে ধীরে গতি ফিরবে: অর্থমন্ত্রী
  • দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সীমান্ত হাট পুনরায় চালুসহ বহু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
  • একাদশে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর
  • বিএনপি জুলাই সনদের পথেই এগোতে চায়, আমাদের ওপর আস্থা রাখুন: আইনমন্ত্রী
  • অর্থবছরের সময় পরিবর্তন ও কর্মপন্থা নির্ধারণে কমিটি গঠন
  • রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌদির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
  • ৬ মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম
  • নুসরাত হত্যা মামলার রায়: অধ্যক্ষ সিরাজসহ ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল
  • রাজধানীর আরও ৫০টি ট্রাফিক সিগনাল পয়েন্টে বসছে এআই ক্যামেরা
  • তারেক রহমানের সফর অনিশ্চিত, কোন পথে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক?
  • সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান